ঢাকা ০৬:২৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬, ১৪ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জাতীয় পরিচয়পত্র ও রাজনৈতিক অনাস্থা বড় কারণ

এক শতাব্দী পর ভোটের সুযোগ, আগ্রহ নেই খুলনার অধিকাংশ বন্দির

মোঃ রবিউল হোসেন খান, খুলনা::
201

একশ তেরো বছরের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ভোটদানের সুযোগ পাচ্ছে খুলনা জেলা কারাগারের বন্দিরা। তবে এই সুযোগের প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছেন খুব কমসংখ্যক বন্দি। কারা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, মোট বন্দির মাত্র ১৪ শতাংশ ভোট দিতে আগ্রহী হলেও ৮৬ শতাংশ বন্দি ভোটদানে অনাগ্রহ প্রকাশ করেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রাজনৈতিক মতাদর্শ ও নির্বাচন বিষয়ে নেতিবাচক ধারণার কারণেই অধিকাংশ বন্দি ভোটদান থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিশেষ করে রাজনৈতিক মামলায় বন্দি থাকা অনেকে নির্বাচনকে গ্রহণযোগ্য মনে করছেন না।

ভৈরব নদীর তীরে অবস্থিত খুলনা জেলা কারাগারটি ১৯১২ সালে স্থাপিত হয়। ব্রিটিশ শাসনামল থেকে শুরু করে পাকিস্তান ও স্বাধীন বাংলাদেশ, এই দীর্ঘ সময়ে বহু জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও বন্দিরা কখনো ভোট দেওয়ার সুযোগ পাননি। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে এবারই প্রথমবার তাদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে, যা কারাগারের ইতিহাসে এক উল্লেখযোগ্য অধ্যায়।

কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, বর্তমানে খুলনা জেলা ও বিশেষ কারাগার মিলিয়ে মোট বন্দির সংখ্যা ১ হাজার ২৩৬ জন। এর মধ্যে ভোট দিতে সম্মত হয়েছেন মাত্র ১৭৮ জন। আগ্রহী ভোটারদের মধ্যে রয়েছেন, দুজন ভারতীয় নাগরিক, পাঁচজন জঙ্গি মামলার আসামি, চল্লিশজন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত কয়েদি, পাঁচশত সাজাপ্রাপ্ত বন্দি এবং বাকিরা হাজতি।

খুলনা জেলা কারাগারের সুপার মো. নাসির উদ্দিন প্রধান বলেন, “বন্দিরা খুলনা, চুয়াডাঙ্গা, নড়াইল, বাগেরহাট, পটুয়াখালী, মাগুরা, সাতক্ষীরা, যশোর ও গোপালগঞ্জ জেলার ভোটার। তাদের ভোটদানের প্রাথমিক কার্যক্রম চলছে।”

তিনি আরও জানান, কারাগারের সুপার, জেলার, ডেপুটি জেলারসহ মোট ৩২২ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর ভোটার নিবন্ধন কার্যক্রম ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে। তবে অনেক বন্দির জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকা এবং অনেকে নির্বাচনের আগে জামিনে মুক্তি পাবেন, এই আশায় ভোটদানে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।

সংশ্লিষ্টদের ধারণা, নানান রাজনৈতিক মতাদর্শে বিশ্বাসী বন্দিদের একটি বড় অংশ এই নির্বাচনের প্রতি আস্থা হারিয়েছে। বিশেষ করে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত বন্দিদের বড় অংশ ভোটদানে অনাগ্রহী। ফলে সংখ্যাগরিষ্ঠ বন্দির ভোটদানে বিরত থাকার পেছনে রাজনৈতিক অবস্থানই প্রধান ভূমিকা রাখছে।

নিউজটি টাইম লাইনে শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

চেকপোস্ট

Checkpost is one of the most popular Bengali news portal and print newspaper in Bangladesh. The print and online news portal started its operations with a commitment to fearless, investigative, informative and unbiased journalism.
আপডেট সময় ০৯:৪০:৩০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫
৬৫৮ বার পড়া হয়েছে

জাতীয় পরিচয়পত্র ও রাজনৈতিক অনাস্থা বড় কারণ

এক শতাব্দী পর ভোটের সুযোগ, আগ্রহ নেই খুলনার অধিকাংশ বন্দির

আপডেট সময় ০৯:৪০:৩০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫
201

একশ তেরো বছরের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ভোটদানের সুযোগ পাচ্ছে খুলনা জেলা কারাগারের বন্দিরা। তবে এই সুযোগের প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছেন খুব কমসংখ্যক বন্দি। কারা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, মোট বন্দির মাত্র ১৪ শতাংশ ভোট দিতে আগ্রহী হলেও ৮৬ শতাংশ বন্দি ভোটদানে অনাগ্রহ প্রকাশ করেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রাজনৈতিক মতাদর্শ ও নির্বাচন বিষয়ে নেতিবাচক ধারণার কারণেই অধিকাংশ বন্দি ভোটদান থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিশেষ করে রাজনৈতিক মামলায় বন্দি থাকা অনেকে নির্বাচনকে গ্রহণযোগ্য মনে করছেন না।

ভৈরব নদীর তীরে অবস্থিত খুলনা জেলা কারাগারটি ১৯১২ সালে স্থাপিত হয়। ব্রিটিশ শাসনামল থেকে শুরু করে পাকিস্তান ও স্বাধীন বাংলাদেশ, এই দীর্ঘ সময়ে বহু জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও বন্দিরা কখনো ভোট দেওয়ার সুযোগ পাননি। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে এবারই প্রথমবার তাদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে, যা কারাগারের ইতিহাসে এক উল্লেখযোগ্য অধ্যায়।

কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, বর্তমানে খুলনা জেলা ও বিশেষ কারাগার মিলিয়ে মোট বন্দির সংখ্যা ১ হাজার ২৩৬ জন। এর মধ্যে ভোট দিতে সম্মত হয়েছেন মাত্র ১৭৮ জন। আগ্রহী ভোটারদের মধ্যে রয়েছেন, দুজন ভারতীয় নাগরিক, পাঁচজন জঙ্গি মামলার আসামি, চল্লিশজন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত কয়েদি, পাঁচশত সাজাপ্রাপ্ত বন্দি এবং বাকিরা হাজতি।

খুলনা জেলা কারাগারের সুপার মো. নাসির উদ্দিন প্রধান বলেন, “বন্দিরা খুলনা, চুয়াডাঙ্গা, নড়াইল, বাগেরহাট, পটুয়াখালী, মাগুরা, সাতক্ষীরা, যশোর ও গোপালগঞ্জ জেলার ভোটার। তাদের ভোটদানের প্রাথমিক কার্যক্রম চলছে।”

তিনি আরও জানান, কারাগারের সুপার, জেলার, ডেপুটি জেলারসহ মোট ৩২২ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর ভোটার নিবন্ধন কার্যক্রম ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে। তবে অনেক বন্দির জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকা এবং অনেকে নির্বাচনের আগে জামিনে মুক্তি পাবেন, এই আশায় ভোটদানে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।

সংশ্লিষ্টদের ধারণা, নানান রাজনৈতিক মতাদর্শে বিশ্বাসী বন্দিদের একটি বড় অংশ এই নির্বাচনের প্রতি আস্থা হারিয়েছে। বিশেষ করে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত বন্দিদের বড় অংশ ভোটদানে অনাগ্রহী। ফলে সংখ্যাগরিষ্ঠ বন্দির ভোটদানে বিরত থাকার পেছনে রাজনৈতিক অবস্থানই প্রধান ভূমিকা রাখছে।