ঢাকা ১১:১৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

১১ দলীয় জোট থেকে সরে গেল ইসলামী আন্দোলন

ইসলামপন্থী জোট ভাঙন: জামায়াত কতটা চাপে

স্টাফ রিপোর্টার::
9

গেলো কিছু দিন ধরে চলা রাজনৈতিক উত্তেজনার আপাত অবসান ঘটেছে। ১১ দলীয় জোট থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। এর মধ্য দিয়ে ইসলামপন্থীদের ‘এক বাক্সে থাকার’ যে নীতি ইসলামী আন্দোলনের আমির মুফতি সৈয়দ রেজাউল করিম ঘোষণা করেছিলেন, তার সমাপ্তি ঘটাল দলটিই।

শেষ পর্যন্ত ইসলামী আন্দোলনের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় ছিল জামায়াতে ইসলামী। জোটে সমঝোতার অংশ হিসেবে দলটির জন্য ৪৭টি আসন খালি রাখাও হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘ আলোচনা সত্ত্বেও কোনো সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। ফলে ইসলামপন্থীদের বৃহত্তর রাজনৈতিক জোট গঠনের উদ্যোগ আবারও ব্যর্থ হলো।

রাজনীতিতে এমন সিদ্ধান্তের ফলাফল তাৎক্ষণিকভাবে নির্ধারণ করা কঠিন। তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্ত জামায়াতের জন্য কতটা লাভজনক কিংবা ক্ষতিকর তা নিয়ে নানা বিশ্লেষণ সামনে আসছে।

বিশ্লেষকদের মতে, প্রথমত এটি জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলন উভয় দলের নেতৃত্বেরই একধরনের ব্যর্থতা। পারস্পরিক ছাড় ও সমঝোতার মাধ্যমে ঐক্য ধরে রাখতে না পারার দায় দুই পক্ষকেই নিতে হবে।

দ্বিতীয়ত, জামায়াতের নির্বাচনী ফলাফলে এই সিদ্ধান্তের প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে যেসব আসনে ইসলামী আন্দোলনের উল্লেখযোগ্য ভোট রয়েছে, সেখানে ভোট ভাগ হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে ইসলামী আন্দোলন এককভাবে নির্বাচন করলে তারা কতটি আসনে জয়ী হতে পারবে, সেটিও একটি বড় প্রশ্ন।

তৃতীয়ত, এর আগে ১৭৯টি আসনে প্রার্থী দেওয়ার ঘোষণায় জামায়াতের তৃণমূল পর্যায়ে অসন্তোষ দেখা দিয়েছিল। এখন ইসলামী আন্দোলন জোটের বাইরে থাকায় জামায়াত তুলনামূলকভাবে আরও বেশি আসনে প্রার্থী দেওয়ার সুযোগ পাবে।

চতুর্থত, ইসলামী আন্দোলন সরে গেলেও এনসিপি ও এবি পার্টির মতো দলগুলো জোটে থাকায় জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটকে অপেক্ষাকৃত ‘মডারেট ইসলামী রাজনৈতিক শক্তি’ হিসেবে উপস্থাপনের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

পঞ্চমত, ইসলামী আন্দোলনকে জোটে রাখতে জামায়াত যে উদারতা ও ছাড় দেওয়ার মানসিকতা দেখিয়েছে, সেটিও রাজনৈতিকভাবে একটি বার্তা বহন করে।

সবশেষে বলা যায়, ইসলামী আন্দোলন জোটে না থাকলেও সেখানে একাধিক ইসলামী দল রয়ে গেছে। ফলে ইসলামপন্থী ভোট পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে এমন আশঙ্কা আপাতত নেই।

রাজনীতিতে শেষ কথা বলা কঠিন। আপাত দৃষ্টিতে ইসলামী আন্দোলনের জোট ত্যাগ জামায়াত কিংবা ইসলামী আন্দোলন, কারও জন্যই খুব বেশি লাভজনক বলে মনে হচ্ছে না। বরং রাজনৈতিক সমীকরণে এটি বিএনপির জন্য কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থান তৈরি করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকদের একাংশ। তবে একই সঙ্গে এই পরিস্থিতি জামায়াতকে তার রাজনৈতিক কৌশল ও অবস্থান আরও স্পষ্ট করার সুযোগ করে দিয়েছে।

নিউজটি টাইম লাইনে শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

চেকপোস্ট

Checkpost is one of the most popular Bengali news portal and print newspaper in Bangladesh. The print and online news portal started its operations with a commitment to fearless, investigative, informative and unbiased journalism.
আপডেট সময় ১০:৩১:৪৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬
৫০৪ বার পড়া হয়েছে

১১ দলীয় জোট থেকে সরে গেল ইসলামী আন্দোলন

ইসলামপন্থী জোট ভাঙন: জামায়াত কতটা চাপে

আপডেট সময় ১০:৩১:৪৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬
9

গেলো কিছু দিন ধরে চলা রাজনৈতিক উত্তেজনার আপাত অবসান ঘটেছে। ১১ দলীয় জোট থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। এর মধ্য দিয়ে ইসলামপন্থীদের ‘এক বাক্সে থাকার’ যে নীতি ইসলামী আন্দোলনের আমির মুফতি সৈয়দ রেজাউল করিম ঘোষণা করেছিলেন, তার সমাপ্তি ঘটাল দলটিই।

শেষ পর্যন্ত ইসলামী আন্দোলনের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় ছিল জামায়াতে ইসলামী। জোটে সমঝোতার অংশ হিসেবে দলটির জন্য ৪৭টি আসন খালি রাখাও হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘ আলোচনা সত্ত্বেও কোনো সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। ফলে ইসলামপন্থীদের বৃহত্তর রাজনৈতিক জোট গঠনের উদ্যোগ আবারও ব্যর্থ হলো।

রাজনীতিতে এমন সিদ্ধান্তের ফলাফল তাৎক্ষণিকভাবে নির্ধারণ করা কঠিন। তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্ত জামায়াতের জন্য কতটা লাভজনক কিংবা ক্ষতিকর তা নিয়ে নানা বিশ্লেষণ সামনে আসছে।

বিশ্লেষকদের মতে, প্রথমত এটি জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলন উভয় দলের নেতৃত্বেরই একধরনের ব্যর্থতা। পারস্পরিক ছাড় ও সমঝোতার মাধ্যমে ঐক্য ধরে রাখতে না পারার দায় দুই পক্ষকেই নিতে হবে।

দ্বিতীয়ত, জামায়াতের নির্বাচনী ফলাফলে এই সিদ্ধান্তের প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে যেসব আসনে ইসলামী আন্দোলনের উল্লেখযোগ্য ভোট রয়েছে, সেখানে ভোট ভাগ হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে ইসলামী আন্দোলন এককভাবে নির্বাচন করলে তারা কতটি আসনে জয়ী হতে পারবে, সেটিও একটি বড় প্রশ্ন।

তৃতীয়ত, এর আগে ১৭৯টি আসনে প্রার্থী দেওয়ার ঘোষণায় জামায়াতের তৃণমূল পর্যায়ে অসন্তোষ দেখা দিয়েছিল। এখন ইসলামী আন্দোলন জোটের বাইরে থাকায় জামায়াত তুলনামূলকভাবে আরও বেশি আসনে প্রার্থী দেওয়ার সুযোগ পাবে।

চতুর্থত, ইসলামী আন্দোলন সরে গেলেও এনসিপি ও এবি পার্টির মতো দলগুলো জোটে থাকায় জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটকে অপেক্ষাকৃত ‘মডারেট ইসলামী রাজনৈতিক শক্তি’ হিসেবে উপস্থাপনের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

পঞ্চমত, ইসলামী আন্দোলনকে জোটে রাখতে জামায়াত যে উদারতা ও ছাড় দেওয়ার মানসিকতা দেখিয়েছে, সেটিও রাজনৈতিকভাবে একটি বার্তা বহন করে।

সবশেষে বলা যায়, ইসলামী আন্দোলন জোটে না থাকলেও সেখানে একাধিক ইসলামী দল রয়ে গেছে। ফলে ইসলামপন্থী ভোট পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে এমন আশঙ্কা আপাতত নেই।

রাজনীতিতে শেষ কথা বলা কঠিন। আপাত দৃষ্টিতে ইসলামী আন্দোলনের জোট ত্যাগ জামায়াত কিংবা ইসলামী আন্দোলন, কারও জন্যই খুব বেশি লাভজনক বলে মনে হচ্ছে না। বরং রাজনৈতিক সমীকরণে এটি বিএনপির জন্য কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থান তৈরি করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকদের একাংশ। তবে একই সঙ্গে এই পরিস্থিতি জামায়াতকে তার রাজনৈতিক কৌশল ও অবস্থান আরও স্পষ্ট করার সুযোগ করে দিয়েছে।