ঢাকা ১১:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬, ৮ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কুমিল্লায় বাস-ট্রেন সংঘর্ষ

আহত ব্যক্তির ১২ লাখ টাকার স্বর্ণ লুট

চেকপোস্ট ডেস্ক::
2

কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার জাঙ্গালিয়ার কচুয়ায় পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড রেল ক্রসিংয়ে শনিবার (২১ মার্চ) দিবাগত রাত ৩টার দিকে ঘটে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। মামুন পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস রেল ক্রসিংয়ের ওপরে উঠতেই চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা ঢাকামুখী ‘চট্টগ্রাম মেইল’ ট্রেনের ধাক্কায় বাসটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। ট্রেন বাসটিকে প্রায় আধা কিলোমিটার নিয়ে যায়। এতে ১২ জন প্রাণ হারান।

 

মুহূর্তেই চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে চিৎকার, আর্তনাদ। এ সময় স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে উদ্ধারকাজে অংশ নেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে হাজির হন। তারা নিহত ব্যক্তিদের মরদেহ উদ্ধার করেন এবং আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠান।

 

সেই বিভীষিকাময় দুর্ঘটনার সাক্ষী হন লক্ষ্মীপুরের বাসিন্দা সিরাজউদ্দৌলা ও তার স্ত্রী-সন্তানরা। তার ১০ বছর বসয়ী ছোট মেয়ে মাহজাবিন মোশাররাদ সাইয়্যেদা ঘটনাস্থলেই নিহত হয়। বড় মেয়ে তাসনিবা তাবাসসুম মারাত্মক আহত হয়ে ধানমন্ডির ইবনে সিনা হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি আছেন। এ ঘটনায় সিরাজউদ্দৌলা ও তার স্ত্রী সামান্য আহত হয়েছেন।

 

সিরাজউদ্দৌলার দাবি, এমন পরিস্থিতিতে তার গলায় থাকা ব্যাগ কে বা কারা জোর করে নিয়ে গেছেন। ব্যাগে ছিল ১০ থেকে ১২ লাখ টাকার স্বর্ণালংকার ও নগদ দুই লাখ টাকা। দুর্ঘটনার পর উদ্ধারকাজে অংশ নিয়েছেন স্থানীয় লোকজন। তিনি যখন সন্তানদের শোকে কাতর, এই সুযোগে তার ব্যাগগুলো নিয়ে যায়।

 

সিরাজউদ্দৌলা ঈদ উদযাপনে বাড়ি যাচ্ছিলেন। এরপর পরিবারকে নিয়ে তার শ্যালকের বিয়েতে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। এসব গয়না ও টাকা সেই বিয়ে উপলক্ষে নিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি।

 

রাজধানীর জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুর্নবাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল) জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নেন সিরাজউদ্দৌলা ও তার স্ত্রী। দুর্ঘটনার পর তার নিকটাত্মীয়রা খবর পেয়ে তাদের উদ্ধার করে সেখানে ভর্তি করেন।

 

রোববার (২২ মার্চ) দুপুর ২টার দিকে তার সঙ্গে কথা হয়। তিনি এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘এই দুর্ঘটনা আমাকে চিরতরে নিঃস্ব করে দিয়েছে। আমার সহধর্মিণী ও দুই মেয়েসহ বাড়িতে অসুস্থ মায়ের সঙ্গে দেখা করা এবং ছোট শ্যালকের বিয়ের অনুষ্ঠানে উপস্থিত হওয়ার উদ্দেশ্যে আমি লক্ষ্মীপুরে যাচ্ছিলাম। সেখানে যাওয়ার পথেই এই দুর্ঘটনার শিকার হই। আমার ছোট মেয়ে ঘটনাস্থলেই মারা গিয়েছে। বড় মেয়ে আইসিইউতে আছে। আমি আর আমার সহধর্মিণী সামান্য আহত হয়েছি।’

 

তার বড় মেয়ে তাসনিবা তাবাসসুমের সবশেষ অবস্থা জানেন কি না, এমন প্রশ্ন করতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন ইমাম সিরাজউদ্দৌলা। এরপর আর কথা বলতে পারেননি।

ট্যাগস :

নিউজটি টাইম লাইনে শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

চেকপোস্ট

Checkpost is one of the most popular Bengali news portal and print newspaper in Bangladesh. The print and online news portal started its operations with a commitment to fearless, investigative, informative and unbiased journalism.
আপডেট সময় ১১:৩৬:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬
৫০১ বার পড়া হয়েছে

কুমিল্লায় বাস-ট্রেন সংঘর্ষ

আহত ব্যক্তির ১২ লাখ টাকার স্বর্ণ লুট

আপডেট সময় ১১:৩৬:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬
2

কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার জাঙ্গালিয়ার কচুয়ায় পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড রেল ক্রসিংয়ে শনিবার (২১ মার্চ) দিবাগত রাত ৩টার দিকে ঘটে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। মামুন পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস রেল ক্রসিংয়ের ওপরে উঠতেই চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা ঢাকামুখী ‘চট্টগ্রাম মেইল’ ট্রেনের ধাক্কায় বাসটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। ট্রেন বাসটিকে প্রায় আধা কিলোমিটার নিয়ে যায়। এতে ১২ জন প্রাণ হারান।

 

মুহূর্তেই চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে চিৎকার, আর্তনাদ। এ সময় স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে উদ্ধারকাজে অংশ নেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে হাজির হন। তারা নিহত ব্যক্তিদের মরদেহ উদ্ধার করেন এবং আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠান।

 

সেই বিভীষিকাময় দুর্ঘটনার সাক্ষী হন লক্ষ্মীপুরের বাসিন্দা সিরাজউদ্দৌলা ও তার স্ত্রী-সন্তানরা। তার ১০ বছর বসয়ী ছোট মেয়ে মাহজাবিন মোশাররাদ সাইয়্যেদা ঘটনাস্থলেই নিহত হয়। বড় মেয়ে তাসনিবা তাবাসসুম মারাত্মক আহত হয়ে ধানমন্ডির ইবনে সিনা হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি আছেন। এ ঘটনায় সিরাজউদ্দৌলা ও তার স্ত্রী সামান্য আহত হয়েছেন।

 

সিরাজউদ্দৌলার দাবি, এমন পরিস্থিতিতে তার গলায় থাকা ব্যাগ কে বা কারা জোর করে নিয়ে গেছেন। ব্যাগে ছিল ১০ থেকে ১২ লাখ টাকার স্বর্ণালংকার ও নগদ দুই লাখ টাকা। দুর্ঘটনার পর উদ্ধারকাজে অংশ নিয়েছেন স্থানীয় লোকজন। তিনি যখন সন্তানদের শোকে কাতর, এই সুযোগে তার ব্যাগগুলো নিয়ে যায়।

 

সিরাজউদ্দৌলা ঈদ উদযাপনে বাড়ি যাচ্ছিলেন। এরপর পরিবারকে নিয়ে তার শ্যালকের বিয়েতে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। এসব গয়না ও টাকা সেই বিয়ে উপলক্ষে নিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি।

 

রাজধানীর জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুর্নবাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল) জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নেন সিরাজউদ্দৌলা ও তার স্ত্রী। দুর্ঘটনার পর তার নিকটাত্মীয়রা খবর পেয়ে তাদের উদ্ধার করে সেখানে ভর্তি করেন।

 

রোববার (২২ মার্চ) দুপুর ২টার দিকে তার সঙ্গে কথা হয়। তিনি এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘এই দুর্ঘটনা আমাকে চিরতরে নিঃস্ব করে দিয়েছে। আমার সহধর্মিণী ও দুই মেয়েসহ বাড়িতে অসুস্থ মায়ের সঙ্গে দেখা করা এবং ছোট শ্যালকের বিয়ের অনুষ্ঠানে উপস্থিত হওয়ার উদ্দেশ্যে আমি লক্ষ্মীপুরে যাচ্ছিলাম। সেখানে যাওয়ার পথেই এই দুর্ঘটনার শিকার হই। আমার ছোট মেয়ে ঘটনাস্থলেই মারা গিয়েছে। বড় মেয়ে আইসিইউতে আছে। আমি আর আমার সহধর্মিণী সামান্য আহত হয়েছি।’

 

তার বড় মেয়ে তাসনিবা তাবাসসুমের সবশেষ অবস্থা জানেন কি না, এমন প্রশ্ন করতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন ইমাম সিরাজউদ্দৌলা। এরপর আর কথা বলতে পারেননি।