ঢাকা ০৪:৪১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ২২ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

অভিযোগ অস্বীকার করে সর্বোচ্চ ছাড়ের প্রতিশ্রুতি জামায়াতের

আসন সমঝোতা নিয়ে জামায়াত-ইসলামী আন্দোলনে টানাপোড়েন

চেকপোস্ট ডেস্ক::
193

নতুন রাজনৈতিক জোট গঠনের পরদিনই জোটের শরিকদের মধ্যে মনোমালিন্যের আভাস মিলেছে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জামায়াতের বিরুদ্ধে ‘বিগ ব্রাদার’ বা বড় ভাই সুলভ আচরণের অভিযোগ উঠলেও জামায়াত নেতারা তা অস্বীকার করে জোটের স্বার্থে সর্বোচ্চ ছাড় দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

আসন সমঝোতা ও ‘বিগ ব্রাদার’ বিতর্ক

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, জোট গঠনের চূড়ান্ত মুহূর্তে জামায়াতের একক আধিপত্য ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রবণতা তাদের অস্বস্তিতে ফেলেছে। বিশেষ করে, আট দলীয় জোটের বাইরে নতুন দলগুলোকে যুক্ত করার ক্ষেত্রে জামায়াত অনেকটা একতরফাভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এমন অভিযোগ তাদের।

সবচেয়ে বড় বিতর্ক তৈরি হয়েছে আসন বণ্টনকে ঘিরে। ইসলামী আন্দোলনের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ ফয়জুল করীমের মতো জ্যেষ্ঠ নেতাদের ‘আকাঙ্ক্ষিত’ আসনেও জামায়াতের প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ায় তৃণমূল পর্যায়ে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

দলটির নেতাকর্মীদের মতে, জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানে ফয়জুল করীমের সক্রিয় ভূমিকা বিবেচনায় এসব আসনে তাকে বিশেষ ছাড় দেওয়া উচিত ছিল।

নেতাদের পাল্টাপাল্টি বক্তব্য

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব ইউনুস আহমাদ সরাসরি অভিযোগ না তুলে জোটের ঐক্য রক্ষার ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, “আমাদের আমির ‘বহু দলের একক বাক্স’ নীতির প্রবক্তা। আমরা জোটের সফলতা চাই। তবে যেহেতু এখনও সময় আছে, যেকোনো মনোমালিন্য দূর করতে সবাইকে আন্তরিক হতে হবে।”

অন্যদিকে, অভিযোগ অস্বীকার করে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, জোটের সব সিদ্ধান্ত সমন্বিত পরামর্শের ভিত্তিতেই নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, জোটের বৃহত্তর স্বার্থে জামায়াত শেষ পর্যন্ত সব ধরনের ছাড় দিতে প্রস্তুত।

জোটের সমন্বয়ক ও জামায়াতের আরেক সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. হামিদুর রহমান আযাদ বলেন,
“সৈয়দ ফয়জুল করীমকে ইতোমধ্যে বরিশালের একটি আসনে ছাড় দেওয়া হয়েছে। তিনি আরেকটি আসনেও আগ্রহী বলে জানা গেছে, যা দ্রুতই সমাধান করা হবে। এখানে কেউ কারো বড় ভাই নয়—সবার অবদান সমান।”

বাড়ছে জোটের পরিধি: যুক্ত হতে পারে এবি পার্টি

অভ্যন্তরীণ এই টানাপোড়েনের মধ্যেই জোটের পরিধি আরও বাড়তে পারে। রোববার (২৮ ডিসেম্বর) এনসিপি ও এলডিপি জোটে যুক্ত হওয়ার পর এবার মজিবুর রহমান মঞ্জুর নেতৃত্বাধীন ‘এবি পার্টি’ (আমার বাংলাদেশ পার্টি) যোগ দিতে পারে, এমন গুঞ্জন রাজনৈতিক মহলে শোনা যাচ্ছে।

এ বিষয়ে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম রহস্যময় মন্তব্য করে বলেন, “নতুন একটি দল যুক্ত হচ্ছে। একটু রহস্য না-হয় থাকুক, আকাশে চাঁদ উঠলে সবাই দেখতে পাবেন।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বড় জোট গঠনের প্রাথমিক পর্যায়ে এ ধরনের আসনকেন্দ্রিক টানাপোড়েন অস্বাভাবিক নয়। তবে জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের মধ্যে এই অস্বস্তি দ্রুত নিরসন না হলে ভোটের মাঠে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। আধিপত্যবাদী শক্তির বিরুদ্ধে যে ‘বৃহত্তর ঐক্যের’ আহ্বান জানানো হয়েছে, তা ধরে রাখাই এখন এই জোটের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

নিউজটি টাইম লাইনে শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

চেকপোস্ট

Checkpost is one of the most popular Bengali news portal and print newspaper in Bangladesh. The print and online news portal started its operations with a commitment to fearless, investigative, informative and unbiased journalism.
আপডেট সময় ১১:৫৪:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫
৬২৪ বার পড়া হয়েছে

অভিযোগ অস্বীকার করে সর্বোচ্চ ছাড়ের প্রতিশ্রুতি জামায়াতের

আসন সমঝোতা নিয়ে জামায়াত-ইসলামী আন্দোলনে টানাপোড়েন

আপডেট সময় ১১:৫৪:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫
193

নতুন রাজনৈতিক জোট গঠনের পরদিনই জোটের শরিকদের মধ্যে মনোমালিন্যের আভাস মিলেছে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জামায়াতের বিরুদ্ধে ‘বিগ ব্রাদার’ বা বড় ভাই সুলভ আচরণের অভিযোগ উঠলেও জামায়াত নেতারা তা অস্বীকার করে জোটের স্বার্থে সর্বোচ্চ ছাড় দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

আসন সমঝোতা ও ‘বিগ ব্রাদার’ বিতর্ক

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, জোট গঠনের চূড়ান্ত মুহূর্তে জামায়াতের একক আধিপত্য ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রবণতা তাদের অস্বস্তিতে ফেলেছে। বিশেষ করে, আট দলীয় জোটের বাইরে নতুন দলগুলোকে যুক্ত করার ক্ষেত্রে জামায়াত অনেকটা একতরফাভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এমন অভিযোগ তাদের।

সবচেয়ে বড় বিতর্ক তৈরি হয়েছে আসন বণ্টনকে ঘিরে। ইসলামী আন্দোলনের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ ফয়জুল করীমের মতো জ্যেষ্ঠ নেতাদের ‘আকাঙ্ক্ষিত’ আসনেও জামায়াতের প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ায় তৃণমূল পর্যায়ে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

দলটির নেতাকর্মীদের মতে, জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানে ফয়জুল করীমের সক্রিয় ভূমিকা বিবেচনায় এসব আসনে তাকে বিশেষ ছাড় দেওয়া উচিত ছিল।

নেতাদের পাল্টাপাল্টি বক্তব্য

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব ইউনুস আহমাদ সরাসরি অভিযোগ না তুলে জোটের ঐক্য রক্ষার ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, “আমাদের আমির ‘বহু দলের একক বাক্স’ নীতির প্রবক্তা। আমরা জোটের সফলতা চাই। তবে যেহেতু এখনও সময় আছে, যেকোনো মনোমালিন্য দূর করতে সবাইকে আন্তরিক হতে হবে।”

অন্যদিকে, অভিযোগ অস্বীকার করে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, জোটের সব সিদ্ধান্ত সমন্বিত পরামর্শের ভিত্তিতেই নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, জোটের বৃহত্তর স্বার্থে জামায়াত শেষ পর্যন্ত সব ধরনের ছাড় দিতে প্রস্তুত।

জোটের সমন্বয়ক ও জামায়াতের আরেক সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. হামিদুর রহমান আযাদ বলেন,
“সৈয়দ ফয়জুল করীমকে ইতোমধ্যে বরিশালের একটি আসনে ছাড় দেওয়া হয়েছে। তিনি আরেকটি আসনেও আগ্রহী বলে জানা গেছে, যা দ্রুতই সমাধান করা হবে। এখানে কেউ কারো বড় ভাই নয়—সবার অবদান সমান।”

বাড়ছে জোটের পরিধি: যুক্ত হতে পারে এবি পার্টি

অভ্যন্তরীণ এই টানাপোড়েনের মধ্যেই জোটের পরিধি আরও বাড়তে পারে। রোববার (২৮ ডিসেম্বর) এনসিপি ও এলডিপি জোটে যুক্ত হওয়ার পর এবার মজিবুর রহমান মঞ্জুর নেতৃত্বাধীন ‘এবি পার্টি’ (আমার বাংলাদেশ পার্টি) যোগ দিতে পারে, এমন গুঞ্জন রাজনৈতিক মহলে শোনা যাচ্ছে।

এ বিষয়ে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম রহস্যময় মন্তব্য করে বলেন, “নতুন একটি দল যুক্ত হচ্ছে। একটু রহস্য না-হয় থাকুক, আকাশে চাঁদ উঠলে সবাই দেখতে পাবেন।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বড় জোট গঠনের প্রাথমিক পর্যায়ে এ ধরনের আসনকেন্দ্রিক টানাপোড়েন অস্বাভাবিক নয়। তবে জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের মধ্যে এই অস্বস্তি দ্রুত নিরসন না হলে ভোটের মাঠে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। আধিপত্যবাদী শক্তির বিরুদ্ধে যে ‘বৃহত্তর ঐক্যের’ আহ্বান জানানো হয়েছে, তা ধরে রাখাই এখন এই জোটের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।