ঢাকা ০১:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৫, ২০ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

আজ মহান স্বাধীনতা দিবস

চেকপোস্ট ডেস্ক::

ছবি: চেকপোস্ট

আজ ২৬ মার্চ, মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে বাঙালি জাতি পাকিস্তানি শাসনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে স্বাধীনতার ঘোষণা করে, যার মধ্য দিয়ে শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামে এক নৃশংস গণহত্যা চালায়। ঢাকাসহ সারাদেশে নিরস্ত্র বাঙালিদের হত্যা করা হয়, গ্রেপ্তার করা হয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। এরপর ২৬ মার্চ চট্টগ্রামের স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দেন, যা সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। এই ঘোষণার মধ্য দিয়েই শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ। দীর্ঘ ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের পর ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ বিজয় অর্জন করে।

মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে জাতীয় পর্যায়ে বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। এদিন প্রত্যুষে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসের সূচনা হয়। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর বীর মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবার, রাজনৈতিক, সামাজিক ও কূটনৈতিক ব্যক্তিত্বরা শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। গুরুত্বপূর্ণ ভবন ও স্থাপনা আলোকসজ্জায় সজ্জিত করা হয়।

এছাড়াও দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে সংবাদপত্রগুলো বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করেছে এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়াগুলো মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক অনুষ্ঠান প্রচার করছে। দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জাতীয় সংগীত পরিবেশন, কুচকাওয়াজ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

মহানগর, জেলা ও উপজেলায় বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা প্রদান করা হবে। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি ও অগ্রগতি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও উপাসনার আয়োজন করা হয়েছে।

হাসপাতাল, জেলখানা, বৃদ্ধাশ্রম ও শিশুদিবাযত্ন কেন্দ্রে বিশেষ খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া শিশুপার্ক ও জাদুঘরসমূহ বিনামূল্যে উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের জাহাজ পরিদর্শনের জন্য নির্দিষ্ট সময়ে উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসেও দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে বিশেষ কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।

আজকের এই বিশেষ দিনে জাতি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছে মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের এবং বীর মুক্তিযোদ্ধাদের, যাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি।

 

ট্যাগস :

নিউজটি টাইম লাইনে শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

চেকপোস্ট

Checkpost is one of the most popular Bengali news portal and print newspaper in Bangladesh. The print and online news portal started its operations with a commitment to fearless, investigative, informative and unbiased journalism.
আপডেট সময় ০২:০৯:১২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ মার্চ ২০২৫
৫২৩ বার পড়া হয়েছে

আজ মহান স্বাধীনতা দিবস

আপডেট সময় ০২:০৯:১২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ মার্চ ২০২৫

আজ ২৬ মার্চ, মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে বাঙালি জাতি পাকিস্তানি শাসনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে স্বাধীনতার ঘোষণা করে, যার মধ্য দিয়ে শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামে এক নৃশংস গণহত্যা চালায়। ঢাকাসহ সারাদেশে নিরস্ত্র বাঙালিদের হত্যা করা হয়, গ্রেপ্তার করা হয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। এরপর ২৬ মার্চ চট্টগ্রামের স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দেন, যা সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। এই ঘোষণার মধ্য দিয়েই শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ। দীর্ঘ ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের পর ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ বিজয় অর্জন করে।

মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে জাতীয় পর্যায়ে বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। এদিন প্রত্যুষে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসের সূচনা হয়। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর বীর মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবার, রাজনৈতিক, সামাজিক ও কূটনৈতিক ব্যক্তিত্বরা শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। গুরুত্বপূর্ণ ভবন ও স্থাপনা আলোকসজ্জায় সজ্জিত করা হয়।

এছাড়াও দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে সংবাদপত্রগুলো বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করেছে এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়াগুলো মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক অনুষ্ঠান প্রচার করছে। দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জাতীয় সংগীত পরিবেশন, কুচকাওয়াজ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

মহানগর, জেলা ও উপজেলায় বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা প্রদান করা হবে। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি ও অগ্রগতি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও উপাসনার আয়োজন করা হয়েছে।

হাসপাতাল, জেলখানা, বৃদ্ধাশ্রম ও শিশুদিবাযত্ন কেন্দ্রে বিশেষ খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া শিশুপার্ক ও জাদুঘরসমূহ বিনামূল্যে উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের জাহাজ পরিদর্শনের জন্য নির্দিষ্ট সময়ে উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসেও দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে বিশেষ কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।

আজকের এই বিশেষ দিনে জাতি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছে মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের এবং বীর মুক্তিযোদ্ধাদের, যাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি।

 


Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home2/checkpostcom/public_html/wp-includes/functions.php on line 5464