ঢাকা ০৮:৪১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সরকারি ব্যবস্থাপনা ফেরানোর দাবি যাত্রীদের

বেনাপোল কমিউটার ট্রেন বেসরকারি লিজে, যাত্রীদের উদ্বেগ

মোঃ রবিউল হোসেন খান, খুলনা::
238

সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ বেনাপোল-খুলনা–মোংলা (ভায়া যশোর) রুটের বেতনা এক্সপ্রেস কমিউটার ট্রেন বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। আজ রোববার (১১ জানুয়ারি) থেকে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ট্রেনটির টিকিট কার্যক্রম পরিচালনা করবে “এইচ অ্যান্ড এম ট্রেডিং কর্পোরেশন” নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

তবে লাভজনক হওয়া সত্ত্বেও ট্রেনটি বেসরকারি খাতে দেওয়ায় যাত্রীদের মধ্যে অসন্তোষ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তারা বলছেন, সরকারি ব্যবস্থাপনাতেই ট্রেন চলাচল করা উচিত ছিল।

রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল দরপত্র আহ্বান, ১৯ মে দরপত্র খোলা এবং জুনের প্রথম সপ্তাহে যাচাই-বাছাই শেষে রেলওয়ের মূল্যায়ন কমিটিতে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে তিন বছরের জন্য এইচ অ্যান্ড এম ট্রেডিং কর্পোরেশনকে টিকিট ব্যবস্থাপনার কার্যাদেশ দেওয়া হয়।

যাত্রীদের অভিযোগ, সম্ভাব্য আন্দোলন এড়াতে বিষয়টি নীরবে বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

১৯৯৯ সালের ২৩ নভেম্বর যাত্রীবাহী ট্রেন চালু হওয়ার পর ২০১০ সাল পর্যন্ত সরকারি তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয় এই রুট। পরে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় যাওয়ার সময় যাত্রীসেবার মান অবনতি, টিকিট অনিয়ম ও চোরাকারবারির দৌরাত্ম্যের অভিযোগ ওঠে। এসব কারণে ২০১৩ সালে পুনরায় সরকারি ব্যবস্থাপনায় ফেরে ট্রেনটি।

বর্তমানে এ রুটে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক যাত্রী চলাচল করেন, যার বড় অংশ ভারতগামী পাসপোর্টধারী যাত্রী। রেলওয়ের তথ্য অনুযায়ী, এখন গড়ে প্রতি মাসে ৩৫–৪৫ লাখ টাকা রাজস্ব আয় হচ্ছে, যা ট্রেনটিকে অত্যন্ত লাভজনক করে তুলেছে।

যাত্রী রহমত হোসেন বলেন, “খুলনা থেকে বেনাপোল বাসে যেতে সময় ও খরচ দুটোই বেশি। ট্রেনে কম খরচে আরামে যাওয়া যায়। সরকারি ব্যবস্থাপনায় থাকলেই রাজস্ব বাড়বে।”

আরেক যাত্রী মাহমুদুল হাসান বলেন, “বেসরকারি লিজ হলে যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়বে এবং অবৈধ চক্র আবার সক্রিয় হতে পারে।”

বেনাপোল রেলস্টেশন মাস্টার আয়নাল হোসেন জানান, “ভাড়া অপরিবর্তিত থাকবে। আগে সপ্তাহে একদিন বন্ধ থাকলেও এখন সপ্তাহে ৭ দিন ট্রেন চলবে।”

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক হুমায়ুন আহমেদ বলেন, “আমরা নিয়ম অনুযায়ী কাজ পেয়েছি। আজ থেকেই দায়িত্ব পালন শুরু করেছি।”

পাকশীতে কর্মরত রেলওয়ের চিফ কমার্শিয়াল ম্যানেজার মিহির কুমার গুহ বলেন, “নীতিমালা অনুসরণ করেই লিজ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে যেকোনো সময় রেলওয়ের পক্ষ থেকে লিজ বাতিল করা যাবে।”

নিউজটি টাইম লাইনে শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

চেকপোস্ট

Checkpost is one of the most popular Bengali news portal and print newspaper in Bangladesh. The print and online news portal started its operations with a commitment to fearless, investigative, informative and unbiased journalism.
আপডেট সময় ১০:৩৫:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬
৬৪২ বার পড়া হয়েছে

সরকারি ব্যবস্থাপনা ফেরানোর দাবি যাত্রীদের

বেনাপোল কমিউটার ট্রেন বেসরকারি লিজে, যাত্রীদের উদ্বেগ

আপডেট সময় ১০:৩৫:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬
238

সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ বেনাপোল-খুলনা–মোংলা (ভায়া যশোর) রুটের বেতনা এক্সপ্রেস কমিউটার ট্রেন বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। আজ রোববার (১১ জানুয়ারি) থেকে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ট্রেনটির টিকিট কার্যক্রম পরিচালনা করবে “এইচ অ্যান্ড এম ট্রেডিং কর্পোরেশন” নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

তবে লাভজনক হওয়া সত্ত্বেও ট্রেনটি বেসরকারি খাতে দেওয়ায় যাত্রীদের মধ্যে অসন্তোষ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তারা বলছেন, সরকারি ব্যবস্থাপনাতেই ট্রেন চলাচল করা উচিত ছিল।

রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল দরপত্র আহ্বান, ১৯ মে দরপত্র খোলা এবং জুনের প্রথম সপ্তাহে যাচাই-বাছাই শেষে রেলওয়ের মূল্যায়ন কমিটিতে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে তিন বছরের জন্য এইচ অ্যান্ড এম ট্রেডিং কর্পোরেশনকে টিকিট ব্যবস্থাপনার কার্যাদেশ দেওয়া হয়।

যাত্রীদের অভিযোগ, সম্ভাব্য আন্দোলন এড়াতে বিষয়টি নীরবে বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

১৯৯৯ সালের ২৩ নভেম্বর যাত্রীবাহী ট্রেন চালু হওয়ার পর ২০১০ সাল পর্যন্ত সরকারি তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয় এই রুট। পরে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় যাওয়ার সময় যাত্রীসেবার মান অবনতি, টিকিট অনিয়ম ও চোরাকারবারির দৌরাত্ম্যের অভিযোগ ওঠে। এসব কারণে ২০১৩ সালে পুনরায় সরকারি ব্যবস্থাপনায় ফেরে ট্রেনটি।

বর্তমানে এ রুটে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক যাত্রী চলাচল করেন, যার বড় অংশ ভারতগামী পাসপোর্টধারী যাত্রী। রেলওয়ের তথ্য অনুযায়ী, এখন গড়ে প্রতি মাসে ৩৫–৪৫ লাখ টাকা রাজস্ব আয় হচ্ছে, যা ট্রেনটিকে অত্যন্ত লাভজনক করে তুলেছে।

যাত্রী রহমত হোসেন বলেন, “খুলনা থেকে বেনাপোল বাসে যেতে সময় ও খরচ দুটোই বেশি। ট্রেনে কম খরচে আরামে যাওয়া যায়। সরকারি ব্যবস্থাপনায় থাকলেই রাজস্ব বাড়বে।”

আরেক যাত্রী মাহমুদুল হাসান বলেন, “বেসরকারি লিজ হলে যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়বে এবং অবৈধ চক্র আবার সক্রিয় হতে পারে।”

বেনাপোল রেলস্টেশন মাস্টার আয়নাল হোসেন জানান, “ভাড়া অপরিবর্তিত থাকবে। আগে সপ্তাহে একদিন বন্ধ থাকলেও এখন সপ্তাহে ৭ দিন ট্রেন চলবে।”

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক হুমায়ুন আহমেদ বলেন, “আমরা নিয়ম অনুযায়ী কাজ পেয়েছি। আজ থেকেই দায়িত্ব পালন শুরু করেছি।”

পাকশীতে কর্মরত রেলওয়ের চিফ কমার্শিয়াল ম্যানেজার মিহির কুমার গুহ বলেন, “নীতিমালা অনুসরণ করেই লিজ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে যেকোনো সময় রেলওয়ের পক্ষ থেকে লিজ বাতিল করা যাবে।”