চুনারুঘাটের পাশার ১০ হাজার নির্বাচন পর্যবেক্ষক কার্ড বিতরণ স্থগিত, ইসির অনুসন্ধান অব্যাহত

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার বেসরকারি সংস্থা পিপলস অ্যাসোসিয়েশন ফর সোশ্যাল অ্যাডভান্সমেন্ট (পাশা)-এর ১০ হাজার নির্বাচন পর্যবেক্ষক কার্ড বিতরণ স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সংস্থাটির সক্ষমতা ও কার্যক্রম নিয়ে অনুসন্ধান চলমান থাকায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে আগামীকাল রোববার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে নির্বাচন কমিশন।
শনিবার রাতে রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনার সামনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান প্রধান উপদেষ্টার উপপ্রেস সচিব মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ মজুমদার।
তিনি বলেন, “ইলেকশন কমিশনের সেক্রেটারি বিষয়টি মিটিংয়ে অবহিত করেছেন। সংবাদে আমরা দেখেছি, পাশা নামে একটি এনজিও ১০ হাজার পর্যবেক্ষক নিয়োগের অনুমোদন পেয়েছে। নির্বাচন কমিশন তাদের বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে সক্ষমতা সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারেনি।”
এ কারণেই আপাতত পাশার পর্যবেক্ষক কার্ড বিতরণ স্থগিত করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
আজাদ মজুমদার আরও বলেন, “এখন পর্যন্ত পাশার কোনো রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি। তবে সংস্থাটির বিষয়ে অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে।”
সংবাদ সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টার সিনিয়র সহকারী প্রেস সচিব ফয়েজ আহম্মদ বলেন, বিষয়টি তিন দিন আগেই চিহ্নিত করা হয়েছিল এবং গত রাতে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্ড বিতরণ স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে গত ২৮ জানুয়ারি স্থানীয় পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলোর তালিকা প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন। ওই তালিকায় দেখা যায়, পাশা একাই ১০ হাজার পর্যবেক্ষক নিয়োগের অনুমোদন পেয়েছে।
এরপর গত ৬ ফেব্রুয়ারি একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, এক ব্যক্তিনির্ভর সংস্থা পাশা ১০ হাজার নির্বাচন পর্যবেক্ষক দিচ্ছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, পাশার মূল কার্যালয় সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ হুমায়ুন কবীরের এককক্ষের একটি বাসা এবং লোকবল বলতে মূলত তিনিই একমাত্র ব্যক্তি।
ওই সময় ইসির জনসংযোগ শাখার পরিচালক মো. রুহুল আমিন মল্লিক বলেছিলেন, তিনটি গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদন ও ইসি কর্মকর্তাদের যাচাই-বাছাই শেষে পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলোকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে এবং এতে আইনের কোনো ব্যত্যয় হয়নি। তবে পরবর্তীতে তিনি জানান, গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিষয়টি পুনরায় যাচাইয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
রুহুল আমিন মল্লিক বলেন, “প্রতিবেদন যেহেতু হয়েছে, বসে থাকা যাবে না। তাই আপাতত পাশার কার্ড ইস্যু বন্ধ রাখতে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামীকাল কমিশন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।”
এদিকে রাতে যোগাযোগ করা হলে হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক আবু হাসনাত মো. আরেফীন নিশ্চিত করেন, পাশার পর্যবেক্ষক কার্ড বিতরণ স্থগিত রাখা হয়েছে।

























