ঢাকা ০১:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬, ৫ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মজুদ শেষ, বিদেশি জাহাজ না আসায় দাম বেড়েছে

এলপি গ্যাস সংকটে খুলনাসহ দক্ষিণাঞ্চলে ভোগান্তি

মোঃ রবিউল হোসেন খান, খুলনা::
140

তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি)-এর চাহিদা বাড়লেও আমদানি না বাড়ায় দেশে দেখা দিয়েছে তীব্র সংকট। গেল বছরের আমদানিকৃত গ্যাসের মজুদ শেষ হয়ে যাওয়ায় খুলনা মহানগরীসহ আশপাশের জেলা ও উপজেলায় ভোক্তারা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।

বিশেষ করে হোটেল-রেস্টুরেন্ট, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও স্বল্প আয়ের জনগোষ্ঠী সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। কোথাও কোথাও গ্যাস পাওয়া গেলেও তা সিলিন্ডারপ্রতি ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। অনেক এলাকায় আবার গ্যাস একেবারেই মিলছে না।

সংকটের কারণে বিকল্প হিসেবে অনেকে জালানী কাঠের দিকে ঝুঁকছেন। ফলে গ্যাস সংকটের প্রভাব পড়েছে জালানী কাঠের বাজারেও। ব্যবসায়ীরা জানান, কাঠের দাম আগের তুলনায় মনপ্রতি ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) সূত্রে জানা যায়, দেশে প্রতিবছর গড়ে ১০ শতাংশের বেশি হারে এলপিজির চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে। সেই অনুযায়ী সরবরাহ বাড়ার কথা থাকলেও বাস্তবে উল্টো চিত্র দেখা গেছে।
২০২৩ সালে যেখানে এলপিজি আমদানি হয়েছিল প্রায় ১২ লাখ ৭৫ হাজার টন, সেখানে ২০২৪ সালে আমদানি হয় ১৪ লাখ ৬৫ হাজার টন, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ১০ শতাংশ কম। বিশেষ করে বছরের শেষ তিন মাসে আমদানি ব্যাপকভাবে কমে যায়।

বিইআরসি জানায়, দেশে এলপিজি ব্যবসার লাইসেন্স রয়েছে ৫২টি কোম্পানির। এর মধ্যে মাত্র ৮টি কোম্পানি নিয়মিত আমদানি করে। অনেক কোম্পানি বছরের শুরুতে আমদানি করলেও শেষ দিকে তা বন্ধ রাখে, ফলে বাজারে সংকট তৈরি হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ইরান থেকে এলপিজি সরবরাহ বন্ধ, আন্তর্জাতিক বাজারে চীনের মতো বড় ক্রেতাদের আগ্রাসী ক্রয় এবং মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে শতাধিক জাহাজ চলাচলে বাধার সৃষ্টি হয়েছে। এতে আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেট থেকেও এলপিজি আমদানি কঠিন হয়ে পড়েছে।

খুলনার চিত্রালী বাজারের হোটেল ব্যবসায়ী মো. আলামিন বলেন, “গ্যাস সংকটের সঙ্গে দাম বৃদ্ধি আমাদের মতো ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের টিকিয়ে রাখা কঠিন করে তুলেছে। আগে ১২ কেজির সিলিন্ডার ১ হাজার ২৫০ টাকায় কিনতাম, এখন ১ হাজার ৫৫০ টাকা দিতে হচ্ছে।”

বেসরকারি চাকরিজীবী ফাতিমা আক্তার বলেন,
“নিত্যপণ্যের মতো গ্যাসের দামও নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকারের দ্রুত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।”

খালিশপুর এলাকার গ্যাস ব্যবসায়ী এজাজ জানান, “বসুন্ধরাসহ বেশিরভাগ কোম্পানির গ্যাস নেই। এখন হাতে গোনা কয়েকটি ওমেরা সিলিন্ডার পাচ্ছি। সংকট দীর্ঘ হলে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা পথে বসবে।”

এদিকে কাঠ ব্যবসায়ীরা জানান, গ্যাসের দাম বাড়ায় কাঠের চাহিদা বেড়েছে।
নিউজপ্রিন্ট ও গাবতলা এলাকার ব্যবসায়ী হাবিবুর রহমান বলেন, “চম্বল কাঠ মনপ্রতি ২০০ টাকা, মেহগুনি ১৯০-২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আগের তুলনায় দাম বেড়েছে।”

সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, দ্রুত আমদানি বাড়ানো ও বাজার তদারকি জোরদার না করলে এলপিজি সংকট আরও ভয়াবহ আকার নিতে পারে।

নিউজটি টাইম লাইনে শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

চেকপোস্ট

Checkpost is one of the most popular Bengali news portal and print newspaper in Bangladesh. The print and online news portal started its operations with a commitment to fearless, investigative, informative and unbiased journalism.
আপডেট সময় ০৬:০৭:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬
৫৮০ বার পড়া হয়েছে

মজুদ শেষ, বিদেশি জাহাজ না আসায় দাম বেড়েছে

এলপি গ্যাস সংকটে খুলনাসহ দক্ষিণাঞ্চলে ভোগান্তি

আপডেট সময় ০৬:০৭:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬
140

তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি)-এর চাহিদা বাড়লেও আমদানি না বাড়ায় দেশে দেখা দিয়েছে তীব্র সংকট। গেল বছরের আমদানিকৃত গ্যাসের মজুদ শেষ হয়ে যাওয়ায় খুলনা মহানগরীসহ আশপাশের জেলা ও উপজেলায় ভোক্তারা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।

বিশেষ করে হোটেল-রেস্টুরেন্ট, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও স্বল্প আয়ের জনগোষ্ঠী সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। কোথাও কোথাও গ্যাস পাওয়া গেলেও তা সিলিন্ডারপ্রতি ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। অনেক এলাকায় আবার গ্যাস একেবারেই মিলছে না।

সংকটের কারণে বিকল্প হিসেবে অনেকে জালানী কাঠের দিকে ঝুঁকছেন। ফলে গ্যাস সংকটের প্রভাব পড়েছে জালানী কাঠের বাজারেও। ব্যবসায়ীরা জানান, কাঠের দাম আগের তুলনায় মনপ্রতি ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) সূত্রে জানা যায়, দেশে প্রতিবছর গড়ে ১০ শতাংশের বেশি হারে এলপিজির চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে। সেই অনুযায়ী সরবরাহ বাড়ার কথা থাকলেও বাস্তবে উল্টো চিত্র দেখা গেছে।
২০২৩ সালে যেখানে এলপিজি আমদানি হয়েছিল প্রায় ১২ লাখ ৭৫ হাজার টন, সেখানে ২০২৪ সালে আমদানি হয় ১৪ লাখ ৬৫ হাজার টন, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ১০ শতাংশ কম। বিশেষ করে বছরের শেষ তিন মাসে আমদানি ব্যাপকভাবে কমে যায়।

বিইআরসি জানায়, দেশে এলপিজি ব্যবসার লাইসেন্স রয়েছে ৫২টি কোম্পানির। এর মধ্যে মাত্র ৮টি কোম্পানি নিয়মিত আমদানি করে। অনেক কোম্পানি বছরের শুরুতে আমদানি করলেও শেষ দিকে তা বন্ধ রাখে, ফলে বাজারে সংকট তৈরি হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ইরান থেকে এলপিজি সরবরাহ বন্ধ, আন্তর্জাতিক বাজারে চীনের মতো বড় ক্রেতাদের আগ্রাসী ক্রয় এবং মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে শতাধিক জাহাজ চলাচলে বাধার সৃষ্টি হয়েছে। এতে আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেট থেকেও এলপিজি আমদানি কঠিন হয়ে পড়েছে।

খুলনার চিত্রালী বাজারের হোটেল ব্যবসায়ী মো. আলামিন বলেন, “গ্যাস সংকটের সঙ্গে দাম বৃদ্ধি আমাদের মতো ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের টিকিয়ে রাখা কঠিন করে তুলেছে। আগে ১২ কেজির সিলিন্ডার ১ হাজার ২৫০ টাকায় কিনতাম, এখন ১ হাজার ৫৫০ টাকা দিতে হচ্ছে।”

বেসরকারি চাকরিজীবী ফাতিমা আক্তার বলেন,
“নিত্যপণ্যের মতো গ্যাসের দামও নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকারের দ্রুত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।”

খালিশপুর এলাকার গ্যাস ব্যবসায়ী এজাজ জানান, “বসুন্ধরাসহ বেশিরভাগ কোম্পানির গ্যাস নেই। এখন হাতে গোনা কয়েকটি ওমেরা সিলিন্ডার পাচ্ছি। সংকট দীর্ঘ হলে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা পথে বসবে।”

এদিকে কাঠ ব্যবসায়ীরা জানান, গ্যাসের দাম বাড়ায় কাঠের চাহিদা বেড়েছে।
নিউজপ্রিন্ট ও গাবতলা এলাকার ব্যবসায়ী হাবিবুর রহমান বলেন, “চম্বল কাঠ মনপ্রতি ২০০ টাকা, মেহগুনি ১৯০-২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আগের তুলনায় দাম বেড়েছে।”

সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, দ্রুত আমদানি বাড়ানো ও বাজার তদারকি জোরদার না করলে এলপিজি সংকট আরও ভয়াবহ আকার নিতে পারে।