প্রিন্ট এর তারিখ : ০৫ নভেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৪ নভেম্বর ২০২৬
সংবাদ প্রকাশের পর মাধবপুরে তোলপাড়, গৃহবধূর মৃত্যুর ঘটনা ধামাচাপা দিতে বিভিন্ন মহলে দৌড়ঝাঁপ!
চেকপোস্ট নিউজ:: ||
হবিগঞ্জের
মাধবপুরে দুই মাসের অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূ আকলিমা আক্তারের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় বাংলা এডিশনসহ বিভিন্ন অনলাইন ও স্থানীয়
পত্রিকায় সংবাদ
প্রকাশের পর স্থানীয় বিভিন্ন মহলে তোলপাড় শুরু হয়েছে। মৃত্যুর ঘটনা, যৌতুকের দাবিতে নির্যাতনের অভিযোগ, ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ দাফন, অভিযুক্ত স্বামীকে থানা থেকে ছেড়ে দেওয়া এবং কথিত অর্থের বিনিময়ে সালিশ-মীমাংসার বিষয়গুলো সামনে আসার পর নতুন করে বিভিন্ন মহলে দৌড়ঝাঁপের অভিযোগ উঠেছে।স্থানীয়
সূত্রের অভিযোগ, আকলিমার মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে বাংলা এডিশনসহ বিভিন্ন অনলাইন ও স্থানীয়
পত্রিকায় সংবাদ
প্রকাশ এবং হবিগঞ্জের পুলিশ সুপারের কাছে নিরপেক্ষ তদন্ত চেয়ে লিখিত আবেদন করার পর বিষয়টি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা চলছে। এ ক্ষেত্রে স্থানীয়
প্রভাবশালী মহল ও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের
প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও আলোচনায় এসেছে। বিশেষ করে ছাতিয়াইন এলাকার সুদি ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত নানু মিয়াসহ কয়েকজনের তৎপরতা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ
রয়েছে, ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের রক্ষায় রাজনৈতিক মহলসহ বিভিন্ন মহলে যোগাযোগ ও তদবির করা
হচ্ছে। এর
আগে বাংলা এডিশনসহ বিভিন্ন অনলাইন ও স্থানীয়
পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে
উঠে আসে, মাধবপুর উপজেলার বুল্লা ইউনিয়নের পৈলাবাড়ি গ্রামের আকলিমা আক্তারের সঙ্গে প্রায় ১৬ বছর আগে একই গ্রামের চান মিয়া চৌধুরীর বিয়ে হয়। তাঁদের সংসারে তিন সন্তান রয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে আকলিমাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন
করতেন তাঁর স্বামী। একপর্যায়ে চান মিয়া দ্বিতীয় বিয়ে করেন। পরে ইউরোপে যাওয়ার জন্য স্ত্রীর কাছে ১০ লাখ টাকা দাবি করেন। ওই টাকা দিতে না পারায় তাঁকে মারধর করা হয় বলেও অভিযোগ পরিবারের।পরিবারের
দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ১৭ অক্টোবর অসুস্থ হয়ে পড়লে আকলিমাকে প্রথমে মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে হবিগঞ্জ সদর হাসপাতাল, সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে ২১ অক্টোবর রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে মাধবপুরে অ্যাম্বুলেন্সের ভেতর তাঁর মৃত্যু হয়। তিনি দুই মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।আকলিমার
মৃত্যুর পর ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ দাফন করা হয়। এ নিয়ে মৃত্যুর
প্রকৃত কারণ নির্ধারণের সুযোগ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেয়। পরিবারের দাবি, মৃত্যুর পর তাঁর স্বামী চান মিয়াকে পুলিশ আটক করে থানায় নিয়ে গেলেও পরে ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে এ বিষয়ে পুলিশের
কর্মকর্তাদের বক্তব্যে অসংগতি রয়েছে।মাধবপুর
থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কবির দাবি করেন, বাদীপক্ষের লোকজন চান মিয়াকে ধরে থানায় নিয়ে এসেছিলেন। অন্যদিকে চান মিয়া নিজেই এই প্রতিবেদকের কাছে স্বীকার করেন, তাঁকে বাড়ি থেকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায়। তবে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানা তাঁকে থানায় নিয়ে আসার বিষয়টি অস্বীকার করেন।এদিকে
আকলিমার মৃত্যুর পর স্থানীয় কয়েকজনের উদ্যোগে সালিশ অনুষ্ঠিত হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। নিহতের পরিবারের দাবি, ওই সালিশের মাধ্যমে অর্থের বিনিময়ে মৃত্যুর ঘটনাটি আপস-মীমাংসার চেষ্টা করা হয়।এ
ঘটনায় গত ২৮ অক্টোবর হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার বরাবর নিরপেক্ষ তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবিতে
লিখিত আবেদন করেন মানবাধিকারকর্মী নুরুল হুদা চৌধুরী (ইলিয়াস)। তিনি
আইন সহায়তা কেন্দ্র আসক ও মানবাধিকার ফাউন্ডেশন,
হবিগঞ্জ জেলা শাখার সহসভাপতি।আবেদনে
আকলিমার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন, থানায় অভিযোগ গ্রহণ ও পরবর্তী কার্যক্রম
যাচাই, কথিত সালিশে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা তদন্ত এবং নিহতের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি থানার সাধারণ ডায়েরি, অভিযোগ গ্রহণের রেজিস্টার, হাজত রেজিস্টার ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র
যাচাইয়ের অনুরোধ করা হয়েছে।এখন
নতুন করে বিভিন্ন মহলে দৌড়ঝাঁপ ও রাজনৈতিক প্রভাব
বিস্তারের অভিযোগ সামনে আসায় তদন্তের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা। তাঁদের দাবি, কোনো ব্যক্তি বা মহলের প্রভাব যেন তদন্তকে বাধাগ্রস্ত করতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে আকলিমার মৃত্যুর আগে তাঁর চিকিৎসাসংক্রান্ত নথিপত্র, মৃত্যুসনদ, পরিবারের অভিযোগ এবং ঘটনার পর থানায় কী ধরনের আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখা জরুরি।নিহতের
পরিবারের অভিযোগ, মামলা-মোকদ্দমা না করার জন্য তাঁদের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। এমনকি প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি তাঁদের। এ অবস্থায় তাঁরা
নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি আকলিমার মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার দাবি
করেছেন।স্থানীয়দের
প্রশ্ন, একজন অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর মৃত্যুর ঘটনায় যদি নির্যাতনের অভিযোগ থাকে, তাহলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হলো না কেন? অভিযুক্ত স্বামীকে থানায় নেওয়ার পর কী প্রক্রিয়ায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল? আর মৃত্যুর পর সালিশে বসে সম্পত্তি বণ্টন ও আর্থিক সমঝোতার
আলোচনা কেন সামনে এলো?সব
মিলিয়ে আকলিমার মৃত্যুর ঘটনাটি এখন নানা প্রশ্ন ও অভিযোগে জটিল
হয়ে উঠেছে। সংবাদ প্রকাশের পর কথিত প্রভাব বিস্তার ও তদবিরের অভিযোগেরও
নিরপেক্ষ অনুসন্ধান প্রয়োজন। কোনো রাজনৈতিক পরিচয়, সামাজিক প্রভাব কিংবা আর্থিক ক্ষমতা যেন তদন্তের পথে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, সেটি নিশ্চিত করা প্রশাসনের দায়িত্ব।
আকলিমার
মৃত্যুর
প্রকৃত
কারণ
উদ্ঘাটন,
অভিযোগগুলোর
সত্যতা
যাচাই
এবং
ঘটনার
সঙ্গে
কারও
অপরাধমূলক
সংশ্লিষ্টতা
পাওয়া
গেলে
তাঁকে
আইনের
আওতায়
আনার
দাবি
জানিয়েছেন
সচেতন
মহল।
সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ
কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত