প্রিন্ট এর তারিখ : ২৬ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৬ অক্টোবর ২০২৬
খুলনার শিপইয়ার্ড সড়ক প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগে দুদকের দুই মামলা
ষ্টাফ রিপোর্টারখুলনা:: ||
খুলনার শিপইয়ার্ড সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগে দুই ঠিকাদার ও খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কেডিএ) ছয় প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।রোববার দুদকের উপসহকারী পরিচালক আশিকুর রহমান বাদী হয়ে খুলনা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে মামলা দুটি দায়ের করেন। একটি মামলায় কাজ না করেই ঠিকাদারকে ১ কোটি ৫৫ লাখ টাকা বিল দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। অন্য মামলায় ঠিকাদারের অনুকূলে অর্থ ছাড় এবং ১১ কোটি ১৯ লাখ টাকা রাজস্ব হিসেবে স্থানান্তরসংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।মামলায় ঠিকাদার ও কেডিএর ছয় প্রকৌশলীমামলার আসামিরা হলেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আতাউর রহমান খান লিমিটেডের চেয়ারম্যান মো. আতাউর রহমান, মাহাবুব ব্রাদার্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শেখ মাহাবুব রহমান এবং কেডিএর ছয় প্রকৌশলী।প্রকৌশলীরা হলেন কেডিএর প্রধান প্রকৌশলী কাজী সাবিরুল আলম, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শামীম জেহাদ, প্রকল্প পরিচালক মো. আরমান হোসেন, নির্বাহী প্রকৌশলী মুনতাসির মামুন, সহকারী প্রকৌশলী বাসুদেব কুমার বিশ্বাস ও উপসহকারী প্রকৌশলী শরীফ ওয়াহিদুজ্জামান।চেয়ারম্যান ও সদস্যদের বাদ দেওয়া নিয়ে প্রশ্নপ্রতিবেদন অনুযায়ী, একই ঘটনায় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের গঠিত তদন্ত কমিটি তিন সদস্যসহ মোট ১৪ জনের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছিল। কেডিএর সদস্য (উন্নয়ন) এস এম মাহামুদুর রহমান, সদস্য (প্রশাসন) মো. ইকবাল হোসেন এবং সাবেক সদস্যসচিব মো. বদিউজ্জামানের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়। অন্য ১১ জনের বিরুদ্ধে কেডিএতে বিভাগীয় মামলা হয়েছে বলে জানা গেছে।তবে দুদকের মামলায় কেডিএর চেয়ারম্যান, সচিব ও সংশ্লিষ্ট সদস্যদের কাউকে আসামি করা হয়নি। এ নিয়ে সমালোচনা তৈরি হয়েছে।কেডিএর কর্মকর্তা ও ঠিকাদারদের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রকল্প চলাকালে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ, বিল অনুমোদন ও কাজের তদারকিতে চেয়ারম্যান ও সদস্যদের ভূমিকা ছিল। ২০২৪ সালের জুনে প্রকল্পের অনুকূলে বরাদ্দ থাকা ১৩ কোটি টাকার বিল তৈরির নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।তদন্তে অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা মিললে ব্যবস্থাদুদকের খুলনা জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মামুনুর রশীদ চৌধুরী বলেন, প্রাথমিক অনুসন্ধান শেষে মামলা করা হয়েছে। তদন্তে অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তাঁদেরও আসামি করা হবে।মহানগর নাগরিক ফোরামের কো-চেয়ারম্যান সরদার আবু তাহের বলেন, শিপইয়ার্ড সড়ক প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ দুঃখজনক। তিনি জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনানুগ ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনে পুনঃতদন্তের দাবি জানান।১৩ বছরে ব্যয় বেড়েছে ৯৮ কোটি থেকে ২৮০ কোটি টাকাশিপইয়ার্ড সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন প্রকল্পটি ২০১৩ সালের ৭ মে একনেকে অনুমোদন পায়। শুরুতে প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছিল ৯৮ কোটি টাকা। কিন্তু দীর্ঘ সময়েও কাজ শেষ না হওয়ায় প্রকল্প ব্যয় বেড়ে ২৮০ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।২০২৫ সালের ১১ সেপ্টেম্বর সড়কটিতে অভিযান চালায় দুদক। কাজের ধীরগতি ও প্রকল্পের অনিয়ম নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়। গত সেপ্টেম্বর মাসে পৃথক দুটি তদন্ত শেষ হয় বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ
কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত