প্রিন্ট এর তারিখ : ২১ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২০ অক্টোবর ২০২৬
সাংবাদিকদের ‘কুত্তার মতো পিটানো দরকার’-ড. এনায়েতুল্লাহ আব্বাসীর বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ ও প্রত্যাহারের দাবি জানাই
চেকপোস্ট নিউজ:: ||
সাংবাদিকদের নিয়ে ড. এনায়েতুল্লাহ আব্বাসীর অবমাননাকর ও সহিংসতাকে উসকে দিতে পারে, এমন বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। একই সঙ্গে তাঁর এ বক্তব্য অবিলম্বে প্রত্যাহার করে প্রকাশ্যে দুঃখ প্রকাশের জোর দাবি জানাচ্ছি।গত ১৯ অক্টোবর ২০২৬, সোমবার রাতে চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার নিশ্চিন্তপুর হাফিজিয়া মাদ্রাসার বার্ষিক ওয়াজ ও দোয়ার মাহফিলে প্রধান বক্তার বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী ইশরাক-সংক্রান্ত প্রসঙ্গে ড. এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী সাংবাদিকদের উদ্দেশে ‘কুত্তার মতো পিটানো দরকার’ বলে মন্তব্য করেন। তাঁর এমন বক্তব্য শুধু সাংবাদিক সমাজের জন্য অবমাননাকর নয়, বরং স্বাধীন সাংবাদিকতা, মতপ্রকাশের অধিকার ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থী।সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাব যুক্তিতে দিতে হয়, হুমকি কিংবা অবমাননাকর ভাষায় নয়। সংবাদ পরিবেশন, তথ্য অনুসন্ধান কিংবা সাংবাদিকদের প্রশ্ন নিয়ে কারও আপত্তি থাকতেই পারে। কিন্তু সেই আপত্তি প্রকাশের ভাষা হতে হবে শালীন, যুক্তিনির্ভর ও তথ্যভিত্তিক। কোনো অবস্থাতেই সাংবাদিকদের শারীরিকভাবে নিগ্রহ করার ইঙ্গিত দেওয়া কিংবা তাঁদের পেশাগত মর্যাদাকে আঘাত করা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।সাংবাদিকতা কোনো ব্যক্তির অনুগ্রহে পরিচালিত পেশা নয়। এটি জনস্বার্থে সত্য অনুসন্ধান, অনিয়ম-দুর্নীতি তুলে ধরা, ক্ষমতার জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং জনগণের জানার অধিকার প্রতিষ্ঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সাংবাদিকদের নানা প্রশ্ন করতে হয়, সংবেদনশীল বিষয় সামনে আনতে হয় এবং কখনো কখনো প্রভাবশালী ব্যক্তি বা মহলের সমালোচনার মুখোমুখি হতে হয়। এটাই পেশাগত দায়িত্বের অংশ।কোনো সংবাদে ভুল থাকলে তার প্রতিবাদ করার অধিকার সবার রয়েছে। তথ্যগত অসংগতি থাকলে যথাযথ তথ্য-প্রমাণ দিয়ে তা খণ্ডন করা যায়। কিন্তু সাংবাদিকদের ‘কুত্তার মতো পিটানো দরকার’-এ ধরনের ভাষা ব্যবহার করে তাঁদের ভয় দেখানো কিংবা হেয় করার চেষ্টা কোনোভাবেই সভ্য, দায়িত্বশীল ও গণতান্ত্রিক আচরণের পরিচয় হতে পারে না।বিশেষ করে জনপরিসরে পরিচিত ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বক্তব্যের ক্ষেত্রে দায়িত্বশীলতা, সংযম ও শালীনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁদের বক্তব্য সমাজে প্রভাব ফেলে এবং অনুসারীদের চিন্তা ও আচরণকে প্রভাবিত করতে পারে। তাই সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে এ ধরনের অবমাননাকর ভাষা ব্যবহার তাঁদের নিরাপত্তা, পেশাগত স্বাধীনতা ও স্বাধীনভাবে কাজ করার পরিবেশ নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ সৃষ্টি করে।মনে রাখতে হবে, সাংবাদিকরা কারও প্রতিপক্ষ নন; তাঁরা জনগণের তথ্য জানার অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করেন। সাংবাদিকের প্রশ্নে কেউ বিব্রত হতে পারেন, কোনো সংবাদে কারও আপত্তি থাকতে পারে, কিন্তু সেই কারণে সাংবাদিকদের অপমান করা কিংবা তাঁদের বিরুদ্ধে সহিংসতার ভাষা প্রয়োগ করার অধিকার কারও নেই। মতপার্থক্যের জবাব মত দিয়ে, প্রশ্নের জবাব যুক্তি দিয়ে এবং অভিযোগের জবাব তথ্য-প্রমাণ দিয়ে দেওয়াই দায়িত্বশীলতার পরিচয়।আমি স্পষ্টভাবে বলতে চাই, সাংবাদিকদের পেশাগত মর্যাদা ও নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো আপস করা যায় না। সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষা করা শুধু সাংবাদিকদের দায়িত্ব নয়; এটি রাষ্ট্র, সমাজ এবং সংশ্লিষ্ট সবার সম্মিলিত দায়িত্ব। সাংবাদিকদের ভয়ভীতি ও হুমকির পরিবেশে কাজ করতে বাধ্য করা হলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে গণতন্ত্র, জনস্বার্থ এবং সাধারণ মানুষের জানার অধিকার।অতএব, ড. এনায়েতুল্লাহ আব্বাসীর প্রতি আমার জোরালো আহ্বান-সাংবাদিকদের নিয়ে করা তাঁর বিতর্কিত ও অবমাননাকর বক্তব্য অবিলম্বে প্রত্যাহার করুন এবং প্রকাশ্যে দুঃখ প্রকাশ করুন। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আহ্বান জানাই, সাংবাদিকদের পেশাগত স্বাধীনতা, নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষায় দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করুন।আমরা যুক্তিনির্ভর সমালোচনাকে স্বাগত জানাই, তথ্যভিত্তিক প্রতিবাদকে সম্মান করি। কিন্তু সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অবমাননাকর ভাষা, ভয়ভীতি কিংবা সহিংসতার ইঙ্গিত কখনোই মেনে নেওয়া যায় না।সাংবাদিকতা অপরাধ নয়, প্রশ্ন করা অপরাধ নয়, সত্য তুলে ধরাও অপরাধ নয়।সাংবাদিকের কলম ও ক্যামেরা থামানোর ভাষা নয়, সত্যের মুখোমুখি হওয়ার সাহসই হোক দায়িত্বশীলতার পরিচয়।-প্রতিবাদলিপিশেখ শাহাউর রহমান বেলালসাংবাদিক, আনন্দ টিভি ও চেকপোস্ট
সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ
কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত