প্রিন্ট এর তারিখ : ২২ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২০ অক্টোবর ২০২৬
খুলনার ডুমুরিয়ার খর্নিয়া ইউনিয়নে সার ডিলার নিয়োগ ঘিরে বিতর্ক: সুবিধা নেওয়ার অভিযোগে নানা গুঞ্জন
রবিউল হোসেন খান,, স্টাফ রিপোর্টার, খুলনা:: ||
খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার খর্নিয়া ইউনিয়নে সার ডিলার নিয়োগকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনীতিক ও কৃষক মহলে নানা গুঞ্জন ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে। বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রি (বিসিআইসি) সার ডিলার মোল্লা আবুল কাশেমকে ঘিরে উঠেছে রাজনৈতিক পরিচয় বদল, তথ্য গোপন ও অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার নানা অভিযোগ। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ডুমুরিয়া উপজেলার প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা মেহেদী হাসান বিপ্লবের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে বীরদর্পে বিভিন্ন ঠিকাদারি কাজ নিয়ন্ত্রণ করতেন মোল্লা আবুল কাশেম। তবে ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর তিনি রাতারাতি অবস্থান বদলে বিএনপির বলয়ে ভিড়েছেন এবং বিএনপির নাম ভাঙিয়ে সকল সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসী ও স্থানীয় সূত্রের আরও চাঞ্চল্যকর অভিযোগ, খর্নিয়া বাজারে পাট ব্যবসায়ী মৃত সিরাজ শেখের একটি পরিত্যক্ত পাটগুদাম দেখিয়ে অনিয়ম ও ভুয়া তথ্যের মাধ্যমে সারের ডিলারশিপ বাগিয়ে নিয়েছেন অভিযুক্ত মোল্লা আবুল কাশেম। সার ডিলার নিয়োগ ও বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে স্থানীয় কৃষক আশুতোষ বলেন, তিনি এখন নিজে সার ডিলারশিপ নিতে চান, আবার শুনছি খর্নিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যানও হতে চান। উনি যদি ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধি হন বা সার ডিলারশিপ পান, তবে তা হবে অত্যন্ত দুঃখজনক। কারণ বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে তিনি আওয়ামী লীগ নেতা মেহেদী হাসান বিপ্লবের সাথে থেকে বীরদর্পে ঠিকাদারি ও ক্ষমতার দাপট দেখিয়েছেন। আর এখন সুযোগ বুঝে বিএনপি পরিচয়ে সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা হাতিয়ে নিচ্ছেন। এমনকি একটি পরিত্যক্ত পাটগুদাম দেখিয়ে ডিলারশিপ নেওয়ার মতো অনিয়মও করা হয়েছে। অভিযুক্ত মোল্লা আবুল কাশেমের বিরুদ্ধে ওঠা রাজনৈতিক সুবিধা গ্রহণ, গুদাম সংক্রান্ত অনিয়ম ও অন্যান্য অভিযোগের বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হচ্ছে তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং উদ্দেশ্য প্রণোদিত। আমি নিয়মতান্ত্রিকভাবেই ব্যবসা ও অন্যান্য কার্যক্রম পরিচালনা করছি। কোনো রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে আমি অবৈধ সুবিধা গ্রহণ করিনি। বিষয়টি নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বিএনপি নেতৃত্ব। এ ব্যাপারে ডুমুরিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক শেখ শাহিনুর রহমান বলেন,বিগত দিনে যারা ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের ছত্রছায়ায় থেকে ক্ষমতার দাপট দেখিয়েছে এবং সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে সুবিধা নিয়েছে, তারা কোনোভাবেই বিএনপির নাম ভাঙিয়ে পার পাবে না। দল কোনো অন্যায়কারী বা সুবিধাবাদীকে প্রশ্রয় দেয় না। সরকারি সার ডিলারশিপসহ যেকোনো ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। পুরো বিষয়ের সার্বিক অগ্রগতি ও নিয়মানুগ প্রক্রিয়ার বিষয়ে ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মিজ সবিতা সরকার বলেন, সার ডিলার নিয়োগ একটি নির্দিষ্ট সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী সম্পন্ন হয়। এখানে কোনো ধরনের রাজনৈতিক প্রভাব বা ব্যক্তিস্বার্থ বিবেচনা করার সুযোগ নেই। কারো বিরুদ্ধে যদি কোনো নির্দিষ্ট অনিয়ম, ভুল তথ্য বা জালিয়াতির অভিযোগ থাকে, তবে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। খর্নিয়া ইউনিয়নে সার বিতরণের স্বচ্ছতা রক্ষা এবং যোগ্য ও বিতর্কমুক্ত ব্যক্তিদের মাধ্যমে ডিলারশিপ পরিচালনার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন স্থানীয় সাধারণ কৃষকেরা।
সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ
কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত