প্রিন্ট এর তারিখ : ১৯ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৮ অক্টোবর ২০২৬
ইশরাককে পদত্যাগের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর, নেপথ্যে কী?
চেকপোস্ট নিউজ, ||
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনকে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার (১৮ অক্টোবর) বিকেলে সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে ইশরাককে ডেকে এ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে সরকার-সংশ্লিষ্ট উচ্চপর্যায়ের একাধিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে।এর আগে শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় মাদকবিরোধী অভিযানে লাইসেন্স করা আগ্নেয়াস্ত্র হাতে নেওয়ার ঘটনা নিয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন ইশরাক। আত্মরক্ষার প্রয়োজনেই তিনি অস্ত্র উঁচিয়ে ধরেছিলেন বলে দাবি করেন ঢাকা-৬ আসনের এই সংসদ সদস্য।অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনায় ইশরাকের ব্যাখ্যারোববার দুপুর ১২টা ২৭ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিবৃতিতে ইশরাক দাবি করেন, গেন্ডারিয়ায় অভিযানের সময় ৩০ থেকে ৩৫ জন ব্যক্তি তাঁদের গাড়িবহরের দিকে মারমুখী ভঙ্গিতে এগিয়ে আসেন। এতে হামলার আশঙ্কা তৈরি হলে তিনি ও তাঁর সরকারি নিরাপত্তারক্ষীরা গাড়ি থেকে নেমে অল্প সময়ের জন্য আত্মরক্ষার্থে অস্ত্র উঁচিয়ে ধরেন।ইশরাকের ভাষ্য, অভিযানে যাওয়ার আগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও নিজস্ব গোয়েন্দা সূত্র থেকে নিরাপত্তাঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করা হয়েছিল। মাদক কারবারিদের পক্ষ থেকে ভবনের ছাদ থেকে আকস্মিক গুলিবর্ষণের আশঙ্কার কথাও তাঁকে জানানো হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।তাঁর দাবি, সম্ভাব্য বিপদ কেটে যাওয়ার পর অস্ত্র যথাস্থানে রাখা হয়। আগ্নেয়াস্ত্রটি বৈধ লাইসেন্সপ্রাপ্ত এবং আত্মরক্ষার উদ্দেশ্যেই তা প্রদর্শন করা হয়েছিল বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করেন তিনি।সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে অপতথ্যের অভিযোগইশরাক অভিযোগ করেন, প্রথম আলো, দ্য ডেইলি স্টার, দৈনিক ইত্তেফাক ও দৈনিক কালবেলাসহ কয়েকটি সংবাদমাধ্যম ঘটনাটির খণ্ডিত চিত্র প্রকাশ করেছে। তাঁর দাবি, এতে অভিযানের পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপট তুলে ধরা হয়নি।তিনি বলেন, সংবাদমাধ্যমগুলো অভিযানে মাদক ও অস্ত্র উদ্ধারের পাশাপাশি ছয়জনকে আটকের বিষয়টি উপেক্ষা করে শুধু তাঁর অস্ত্র হাতে থাকার দৃশ্যকে গুরুত্ব দিয়েছে। এ ধরনের উপস্থাপনাকে তিনি স্বাধীন ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার পরিপন্থি বলে মন্তব্য করেন।একই সঙ্গে সংবাদ প্রকাশের আগে তথ্য যাচাই এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপট তুলে ধরার আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী।অভিযানে মাদক ও অস্ত্র উদ্ধারের দাবিবিবৃতিতে ইশরাক জানান, ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পরপরই গেন্ডারিয়া থানা-পুলিশকে অবহিত করা হয়। পরে পুলিশের উপস্থিতি ও সহযোগিতায় সন্দেহভাজন কয়েকটি আস্তানায় যৌথ অভিযান চালানো হয়।তাঁর দাবি, অভিযানে চার থেকে পাঁচটি অবৈধ ও অস্থায়ী মাদকের আস্তানা উচ্ছেদ করা হয়েছে। এসব স্থান থেকে হেরোইন বা হেরোইনজাতীয় মাদক, বিদেশি মদ, মাদকসেবনের সরঞ্জাম, দেশীয় ধারালো অস্ত্র, মাদক বিক্রির নগদ অর্থ এবং ছিনতাই করা মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।এ ঘটনায় ছয়জন মাদক কারবারিকে হাতেনাতে আটক করে জব্দ করা আলামতসহ গেন্ডারিয়া থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।গেন্ডারিয়ায় মাদকবিরোধী অভিযান কেন?ইশরাকের ভাষ্য অনুযায়ী, ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই গেন্ডারিয়ার ঘণ্টিঘর, মুন্সিটেক, করাতিটোলা ও আশপাশের এলাকায় মাদক কেনাবেচা এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাদকের বিস্তার নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে অভিযোগ পেয়ে আসছেন তিনি।তাঁর দাবি, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর এলাকাটি মাদক কারবারিদের অন্যতম ট্রানজিট পয়েন্টে পরিণত হয়। গত জুনে মাদকসংক্রান্ত সহিংসতায় তিনজন নাগরিক গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তিনি এলাকাটি পরিদর্শন করেন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিক সমন্বয় সভা করেন।ইশরাক আরও জানান, পুলিশের জনবলসংকট দূর করা এবং মাদকের আস্তানার কাছে স্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের জন্য সংশ্লিষ্ট থানাকে আধাসরকারি পত্র (ডিও লেটার) দেওয়া হয়েছিল। তবে বিষয়টি এখনো বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত রাখার ঘোষণাইশরাকের দাবি, পুলিশ প্রশাসন এবং স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতাদের যৌথ সিদ্ধান্তে সাধারণ নাগরিকদের অংশগ্রহণে সমন্বিত সামাজিক প্রতিরোধ কর্মসূচির অংশ হিসেবেই শনিবারের অভিযান পরিচালিত হয়।মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ঢাকা-৬ আসনকে মাদকমুক্ত করা তাঁর অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার। একটি ঘটনাকে খণ্ডিতভাবে উপস্থাপন করে মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলন থামানো যাবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।জনস্বার্থে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রতিমন্ত্রী।উল্লেখ্য, ইশরাকের পদত্যাগের নির্দেশ পাওয়ার খবরটি সরকার-সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ
কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত