প্রিন্ট এর তারিখ : ১৬ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৬ অক্টোবর ২০২৬
পেঁয়াজের দাম বাড়ানোর দায়ে ফিলিপাইনে ৩৫৬ কোটি টাকা জরিমানা
চেকপোস্ট নিউজ, ||
পেঁয়াজের দাম কৃত্রিমভাবে বাড়াতে সিন্ডিকেট গঠন করে বাজার নিয়ন্ত্রণের অভিযোগে ফিলিপাইনে ছয়টি কোম্পানিকে ১ দশমিক ৭৬ বিলিয়ন পেসো জরিমানা করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। বাংলাদেশি মুদ্রায় এ অর্থের পরিমাণ প্রায় ৩৫৬ কোটি ৭০ লাখ টাকা।বুধবার (১৪ অক্টোবর) ফিলিপাইন কম্পিটিশন কমিশন (পিসিসি) জানায়, ২০১৬ সালে কমিশন প্রতিষ্ঠার পর থেকে এটি তাদের আরোপ করা সর্ববৃহৎ জরিমানা। পেঁয়াজ আমদানিকারক, সংরক্ষণ ও পরিবহনের সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।পেঁয়াজের দাম উঠেছিল কেজিতে ১ হাজার ৩৬৬ টাকা২০২২ সালে ফিলিপাইনে পেঁয়াজের দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছায়। একপর্যায়ে প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম দাঁড়ায় ৮০০ পেসো, যা সে সময়ের বিনিময় হার অনুযায়ী বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ হাজার ৩৬৬ টাকা।পেঁয়াজের এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি দেশটির সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় চাপ সৃষ্টি করে। পরিস্থিতি তৎকালীন নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়রের জন্যও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। তিনি খাদ্যপণ্যের বাড়তি দাম কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।২০২২ সালের শেষভাগ থেকে ২০২৩ সালের শুরুর দিকে সংকট এতটাই তীব্র হয় যে অনেক রেস্তোরাঁর মেনু থেকে পেঁয়াজ বাদ পড়ে। এমনকি পেঁয়াজ চোরাচালানের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয় এবং একপর্যায়ে বিয়ের তোড়াতেও এটি ব্যবহার করা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।আমদানির ৫০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণের অভিযোগপিসিসি জানিয়েছে, তদন্তে পাওয়া প্রমাণ অনুযায়ী, ২০২০ ও ২০২১ সালে পেঁয়াজ আমদানির অনুমোদিত মোট ছাড়পত্রের প্রায় ৫০ শতাংশ ছয়টি কোম্পানির নিয়ন্ত্রণে ছিল।কমিশনের তদন্তে অভিযোগ উঠেছে, সিন্ডিকেটের সদস্যরা অন্য আমদানিকারকদের নথিপত্র ব্যবহার করে পেঁয়াজ আমদানির জন্য প্রয়োজনীয় স্যানিটারি ও ফাইটোস্যানিটারি অনুমতির আবেদন করত। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে অনুমতিপত্র সংগ্রহ করে তারা লাল ও হলুদ পেঁয়াজ আমদানির বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করত।আমদানি করা পেঁয়াজ কোল্ড স্টোরেজে সংরক্ষণ করে পরে সারা দেশে সরবরাহ করা হতো বলেও জানিয়েছে কমিশন।সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে আরও আইনি ব্যবস্থা হতে পারেপেঁয়াজের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে গঠিত সংসদীয় কমিটি বাজারে দাম কৃত্রিমভাবে বাড়ানোর পেছনে সিন্ডিকেটের ভূমিকা থাকার কথা জানিয়েছিল। সংকট মোকাবিলায় সরকার জরুরি ভিত্তিতে পেঁয়াজ আমদানির অনুমোদনও দেয়।পিসিসির নির্বাহী পরিচালক কেনেথ তানাতে বলেন, সর্বোচ্চ জরিমানা আরোপের মাধ্যমে কমিশন স্পষ্ট করেছে যে অর্থনীতির যেকোনো খাতে সিন্ডিকেট ও প্রতিযোগিতাবিরোধী কর্মকাণ্ডের জন্য সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনা হবে। একই সঙ্গে ভোক্তাদের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে সুরক্ষা দেওয়াও কমিশনের লক্ষ্য।কমিশন আরও জানিয়েছে, প্রতিযোগিতা আইন অনুযায়ী অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি দায়ও তৈরি হতে পারে। দোষী সাব্যস্ত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কারাদণ্ড ও অতিরিক্ত জরিমানার মুখোমুখি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।২০২৩ সালের শেষদিকে স্থানীয় বাজারে পেঁয়াজের বাম্পার ফলন আসার পর সরবরাহ বাড়ে এবং দাম স্থিতিশীল হতে শুরু করে। এর মধ্য দিয়ে দেশটিতে পেঁয়াজের মূল্যসংকটের অবসান ঘটে।
সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ
কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত