প্রিন্ট এর তারিখ : ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৫ অক্টোবর ২০২৬
প্রশাসনের আশ্বাসে কর্মবিরতি প্রত্যাহার, শুক্রবার বোনাস ও সোমবার মজুরি পাবেন চা শ্রমিকরা
চেকপোস্ট নিউজ:: ||
হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলা প্রশাসন ও দেউন্দি টি কোম্পানির কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমঝোতার পর কর্মবিরতি প্রত্যাহার করে কাজে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনটি চা বাগানের শ্রমিকরা। প্রশাসনের আশ্বাসে শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) শ্রমিকদের ৩০ শতাংশ উৎসব বোনাস এবং আগামী সোমবার (১৯ অক্টোবর) সাপ্তাহিক মজুরি পরিশোধের কথা জানিয়েছে বাগান কর্তৃপক্ষ। তবে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক থেকে ১ কোটি ৮ লাখ টাকা ঋণের অর্থ ছাড় না হওয়ায় আর্থিক সংকটে পড়েছে কোম্পানিটি।জানা যায়, দেউন্দি টি কোম্পানির অধীন হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার দেউন্দি ও লালচান্দ চা বাগান এবং মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার মিরতিঙ্গা চা বাগানে বকেয়া মজুরি ও উৎসব বোনাস নিয়ে জটিলতার সৃষ্টি হয়। এতে তিনটি চা বাগানের প্রায় পাঁচ হাজার শ্রমিক ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েন। বকেয়া মজুরি, রেশন ও উৎসব বোনাস না পাওয়ায় অনেক শ্রমিককে খাদ্যসংকটসহ নানা দুর্ভোগের মুখে পড়তে হচ্ছে।শ্রমিকদের অভিযোগ, প্রতিবছর দুর্গাপূজার আগে তাঁরা ৬০ শতাংশ হারে উৎসব বোনাস পেয়ে থাকেন। কিন্তু এবার বাগান কর্তৃপক্ষ ৩০ শতাংশ বোনাস দেওয়ার ঘোষণা দেয়। পূর্ণ বোনাস ও বকেয়া সাপ্তাহিক মজুরি পরিশোধের দাবিতে শ্রমিকরা এ সিদ্ধান্তে আপত্তি জানান। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত সোমবার (১২ অক্টোবর) সকালে তিনটি চা বাগানের শ্রমিকরা একত্র হয়ে কর্মবিরতি শুরু করেন। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের জন্য বাগানের কার্যক্রম বন্ধ রাখার ঘোষণা দেন তাঁরা।কর্মবিরতির কারণে চা উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণসহ বাগানের স্বাভাবিক কার্যক্রম পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়ে। শ্রমিকদের অনুপস্থিতিতে বাগানের কার্যালয়, কারখানা, ব্যবস্থাপকের বাংলো ও বিভিন্ন স্থাপনার নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ দেখা দেয়। এ সময় বাগানের বিভিন্ন স্থানে চুরির ঘটনাও ঘটেছে বলে জানা গেছে।এদিকে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক থেকে নির্ধারিত ১ কোটি ৮ লাখ টাকা ঋণ না পাওয়ায় শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ করতে গিয়ে আর্থিক সংকটে পড়েছে দেউন্দি টি কোম্পানি। ঋণের অর্থ সময়মতো না পাওয়ায় কর্তৃপক্ষ অন্য উৎস থেকে টাকা সংগ্রহ করে শ্রমিকদের আংশিক বোনাস দেওয়ার উদ্যোগ নেয়। তবে ৬০ শতাংশের পরিবর্তে ৩০ শতাংশ বোনাস দেওয়ার প্রস্তাবে শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়।পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠলে গত বুধবার জেলা প্রশাসক বিষয়টি জানতে পেরে চুনারুঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গালিব চৌধুরীকে অবহিত করেন। পরে ইউএনও থানা-পুলিশের সদস্যদের নিয়ে দেউন্দি টি কোম্পানিতে যান। সেখানে বাগানের কার্যক্রম বন্ধ রেখে বিক্ষোভ করছিলেন হাজারো শ্রমিক। এ সময় বাগান কর্তৃপক্ষ ও শ্রমিকনেতাদের সঙ্গে সমঝোতা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।বৈঠকে শ্রমিকনেতারা তাঁদের পাওনা পরিশোধের দাবি তুলে ধরেন। তাঁরা বলেন, প্রতিবছর পূজার আগে ৬০ শতাংশ হারে উৎসব বোনাস দেওয়া হলেও এবার অর্ধেক বোনাস দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বকেয়া মজুরি ও পূর্ণ উৎসব বোনাস না পাওয়া পর্যন্ত তাঁরা কাজে যোগ দিতে রাজি নন। দৈনিক মজুরির ওপর নির্ভরশীল শ্রমিকদের পক্ষে পরিবার চালানো, সন্তানদের পড়াশোনার খরচ বহন করা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় খাবার জোগাড় করা কঠিন হয়ে পড়েছে বলেও জানান তাঁরা।পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গালিব চৌধুরী শ্রমিকদের আশ্বস্ত করে বলেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক থেকে ঋণের অর্থ পাওয়া গেলে তাঁদের বকেয়া পাওনা পরিশোধের ব্যবস্থা হবে। বাগান কর্তৃপক্ষও ঋণের অর্থ সংগ্রহ করে শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধের চেষ্টা চালাচ্ছে। আপাতত কর্তৃপক্ষের দেওয়া বোনাস গ্রহণ করে কাজে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে কর্মবিরতি দীর্ঘায়িত হলে শ্রমিকদেরই বেশি ক্ষতির মুখে পড়তে হবে বলে উল্লেখ করেন।প্রশাসনের আশ্বাস ও বাগান কর্তৃপক্ষের প্রতিশ্রুতির পর শ্রমিকরা কর্মবিরতি প্রত্যাহার করে শুক্রবার থেকে কাজে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শুক্রবার বিকেলে শ্রমিকদের ৩০ শতাংশ উৎসব বোনাস দেওয়া হবে এবং আগামী সোমবার সাপ্তাহিক মজুরি পরিশোধ করা হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।তবে কৃষি ব্যাংকের ঋণের অর্থ কবে ছাড় হবে এবং শ্রমিকদের বাকি বোনাস ও বকেয়া পাওনা কবে পরিশোধ করা হবে, তা নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। দ্রুত ঋণের অর্থ ছাড় ও শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা পরিশোধের মাধ্যমে এ সংকটের স্থায়ী সমাধান চান সংশ্লিষ্টরা।
সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ
কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত