প্রিন্ট এর তারিখ : ১৪ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৩ অক্টোবর ২০২৬
নিউইয়র্কে ড. ইউনূসকে হেনস্তা, ১২ সাবেক উপদেষ্টার নিন্দা
চেকপোস্ট নিউজ, ||
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ও নোবেলজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে হয়রানি ও হেনস্তার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তাঁর পরিষদের ১২ জন সাবেক উপদেষ্টা। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) এক যৌথ বিবৃতিতে তাঁরা এ ঘটনার কঠোর নিন্দা জানান।এর আগে সোমবার (১২ অক্টোবর) জন এফ কেনেডি বিমানবন্দর থেকে হুইলচেয়ারে করে বের হওয়ার সময় অধ্যাপক ইউনূসকে হেনস্তার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমেও সংবাদ প্রকাশিত হয়।ভিডিওতে দেখা যায়, অধ্যাপক ইউনূসের দিকে এগিয়ে গিয়ে কয়েকজন উচ্চ স্বরে স্লোগান দিচ্ছেন। এ সময় তাঁকে উদ্দেশ করে ‘হোয়াই ইউ কাম হিয়ার’সহ বিভিন্ন অপবাদসূচক কথা বলে চিৎকার করতে শোনা যায়। এ ঘটনায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কয়েকজন প্রবাসী সমর্থকের বিরুদ্ধে হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে।হয়রানি ও অপপ্রচারের নিন্দাবিবৃতিদাতা সাবেক উপদেষ্টারা হলেন সালেহউদ্দিন আহমেদ, মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান, সিআর আবরার, আসিফ নজরুল, আদিলুর রহমান খান, জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, সাখাওয়াত হোসেন, ফারুক-ই-আজম, ফরিদা আখতার, শারমিন এস মুরশিদ, মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।বিবৃতিতে তাঁরা বলেন, “সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ও নোবেলজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে লক্ষ্য করে অব্যাহত হয়রানি, অনলাইনে অপপ্রচার এবং পরিকল্পিত আক্রমণের ঘটনায় আমরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করছি ও কঠোরতম নিন্দা জানাচ্ছি।”সাবেক উপদেষ্টারা আরও বলেন, বছরের পর বছর অর্থনৈতিক লুটপাট, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর পতন, দুর্নীতি, পদ্ধতিগত দমন-পীড়ন এবং ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘনের কারণে দেশ যখন বিপর্যস্ত অবস্থায় ছিল, তখন দেশ পুনর্গঠনের কঠিন দায়িত্ব পালনে অধ্যাপক ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে।তাঁদের দাবি, ফ্যাসিবাদী শাসনামলে নিয়মিতভাবে সংঘটিত গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মতো জঘন্য কর্মকাণ্ডের অবসান ঘটিয়েছিল অন্তর্বর্তী সরকার।সংস্কার ও গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখার আহ্বানবিবৃতিতে বলা হয়, অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করে। সাবেক উপদেষ্টাদের প্রত্যাশা ছিল, এরপর গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠন, ফ্যাসিবাদী শাসনামলের ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং মানবাধিকার রক্ষার উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।তবে অধ্যাপক ইউনূসের বিরুদ্ধে বিদ্বেষপূর্ণ অপপ্রচার, ভুল তথ্য ছড়ানো এবং তাঁকে শারীরিকভাবে আঘাত করার হুমকির ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন তাঁরা।বিবৃতিতে বলা হয়, “গভীর অনুতাপের সঙ্গে আমরা লক্ষ করছি, কিছু রাজনৈতিক দুর্বৃত্ত ও একটি স্বার্থান্বেষী মহল নিয়মিতভাবে অধ্যাপক ইউনূসের বিরুদ্ধে বিদ্বেষপূর্ণ অপপ্রচার ও ভুল তথ্য ছড়াচ্ছে এবং তাকে শারীরিকভাবে আঘাত করার হুমকি দিচ্ছে।”সাবেক উপদেষ্টারা এসব কর্মকাণ্ডকে কাপুরুষোচিত কৌশল হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এর উদ্দেশ্য অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি এবং অন্তর্বর্তী সরকারের বিশ্বাসযোগ্যতা ও ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা ক্ষুণ্ন করা।‘সংস্কারের সংকল্প টলবে না’বিবৃতিতে সাবেক উপদেষ্টারা আরও বলেন, “আমরা দ্ব্যর্থহীনভাবে বলতে চাই, যতই ভয় দেখানো হোক, মিথ্যাচার, অনলাইনে হয়রানি বা ব্যক্তিগত হুমকি দেওয়া হোক, তাতে জুলাই প্রতিশ্রুতির পরিবর্তনগুলোর প্রতি আমাদের সংকল্প একটুও টলবে না।”তাঁদের মতে, বাংলাদেশের জনগণ ও তরুণদের বিপুল আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে সংস্কার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার যে ঐতিহাসিক জনসমর্থন তৈরি হয়েছে, ক্ষমতাচ্যুত ফ্যাসিবাদী শাসকগোষ্ঠী ও তাদের সমর্থকদের বিদ্বেষপূর্ণ অপপ্রচার ও অপচেষ্টা দিয়ে তা মুছে ফেলা সম্ভব নয়।
সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ
কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত