প্রিন্ট এর তারিখ : ০৪ নভেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১২ অক্টোবর ২০২৬
ধর্মপাশায় অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্যের রহস্যজনক মৃত্যু: সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবিতে মানববন্ধন
শরীফ উদ্দিন, সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:: ||
সুনামগঞ্জের ধর্মপাশায় অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য মোহাম্মদ ফজলুর রহিম কাজলের রহস্যজনক মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন, সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।সোমবার (১২ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার পাইকুরাটি ইউনিয়নের বাদশাগঞ্জ বাজারে এলাকাবাসীর উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালিত হয়। এতে নিহতের পরিবারের সদস্য, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী, শিক্ষকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। তাঁরা এ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন এবং আইন অনুযায়ী দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন নিহতের মামা তোফাজ্জল হোসেন তালুকদার। মোখলেছুর রহমানের সঞ্চালনায় এতে বক্তব্য দেন ধর্মপাশা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক ও বাদশাগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি জুলফিকার আলী ভুট্টো, সেলবরষ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. আবু তাহের সোনা মিয়া, সেলবরষ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম ফরিদ খোকা, সেলবরষ ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি আহম্মদ আলী, সেলবরষ ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মো. নাসির উদ্দিন, বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী ও সমাজ সংস্কারক খায়রুল বশর ঠাকুর খান, নিহতের বড় ভাই শিক্ষক ফজলুল করিম বুলবুল এবং নওধার সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের জিএম ফজলুল হক।নিহত মোহাম্মদ ফজলুর রহিম কাজল (৫৫) ধর্মপাশা উপজেলার সেলবরষ ইউনিয়নের কাকিয়াম গ্রামের মৃত জবান আলীর ছেলে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী থেকে অবসর নেওয়ার পর তিনি নওধার সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে হিসাবরক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ৭ অক্টোবর সকালে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের উদ্দেশে বাড়ি থেকে বের হন ফজলুর রহিম কাজল। এরপর থেকে তাঁর মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাঁর সন্ধান পাননি। ওই দিন রাতেই তাঁর ছেলে মারুফ হাসান রনক ধর্মপাশা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।নিখোঁজের দুই দিন পর, গত ৯ অক্টোবর শুক্রবার সকালে নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলার বিরামপুর গ্রামসংলগ্ন কংস নদের পাড়ের একটি জঙ্গল থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরিবারের সদস্য ও সমাবেশে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের বক্তব্য অনুযায়ী, উদ্ধারের সময় তাঁর গলায় রশি প্যাঁচানো অবস্থায় মরদেহটি একটি গাছের ডালে ছিল।নিহতের বড় ভাই ফজলুল করিম বুলবুল ঘটনাটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, তাঁর ভাইয়ের মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত প্রয়োজন। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।সমাবেশে বক্তারা বলেন, একজন অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্যের এমন রহস্যজনক মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন করা জরুরি। কোনো ধরনের প্রভাব ছাড়াই নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করতে হবে। তাঁরা দ্রুত তদন্ত কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া এবং আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।এ বিষয়ে মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুল ইসলাম হারুন বলেন, এ ঘটনায় মোহনগঞ্জ থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ণয় করা সম্ভব নয়। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ
কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত