প্রিন্ট এর তারিখ : ০৪ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৪ অক্টোবর ২০২৬
পল্টন-নর্থ সাউথ রোডে উচ্ছেদের ৯ দিনেই ফিরল হকার
চেকপোস্ট নিউজ, ||
রাজধানীর পল্টন মোড় থেকে জিরো পয়েন্ট (জিপিও) হয়ে নর্থ সাউথ রোড পর্যন্ত ফুটপাত দখল করে আবারও বসতে শুরু করেছেন হকাররা। উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে এলাকাটি হকারমুক্ত ঘোষণার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ফুটপাত ও সড়কের পাশে ফিরেছে আগের চিত্র। কোথাও কোথাও ফুটপাত ছাড়িয়ে মূল সড়কেও বসেছে দোকান।সম্প্রতি পল্টন মোড় থেকে জিপিও হয়ে নর্থ সাউথ রোড এলাকায় অভিযান চালায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। গত ২৪ সেপ্টেম্বর ডিএসসিসির প্রশাসক আব্দুস সালাম নিজে উপস্থিত থেকে অভিযান পরিচালনা করেন। পরে এলাকাটি হকারমুক্ত ঘোষণা করা হয়।অভিযানের পর প্রশাসক জানিয়েছিলেন, মূল সড়কে কোনোভাবেই হকার বসতে দেওয়া হবে না। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে তাৎক্ষণিক আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান তিনি।নগরবাসীও ফুটপাত পথচারীদের জন্য উন্মুক্ত করার উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছিলেন। তবে সরেজমিনে দেখা গেছে, অভিযানের এক সপ্তাহ না পেরোতেই বিভিন্ন অংশে আবারও দোকান বসেছে।শনিবার (৩ অক্টোবর) দুপুরে পল্টন মোড় থেকে নর্থ সাউথ রোড পর্যন্ত সরেজমিনে দেখা যায়, পল্টন মোড় থেকে জিপিও পর্যন্ত পূর্ব পাশের ফুটপাতে বিভিন্ন ধরনের পণ্য নিয়ে বসেছেন হকাররা। অনেকেই ফুটপাত ছাড়িয়ে মূল সড়কের অংশ দখল করে দোকান সাজিয়েছেন।মুক্তমঞ্চের সামনে থেকে জিপিও মোড় পর্যন্ত ফুটপাতের বড় একটি অংশ স্যুট-টাইয়ের দোকানে ঘেরা। অন্যদিকে সচিবালয়সংলগ্ন পশ্চিম পাশের ফুটপাতে দোকানের সংখ্যা তুলনামূলক কম হলেও পুরোপুরি ফাঁকা নয়।জিপিও থেকে গোলাপ শাহ মাজার পর্যন্ত পূর্ব পাশের ফুটপাতে ফলমূল, কাপড়, জুতা ও বিভিন্ন পণ্যের দোকান বসেছে। এসব দোকান অনেক জায়গায় ফুটপাত ছাড়িয়ে মূল সড়ক পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে।গোলাপ শাহ মাজার থেকে ঢাকা ট্রেড সেন্টার (উত্তর) মার্কেটের মোড় পর্যন্ত পূর্ব পাশের ফুটপাতজুড়ে রয়েছে সারি সারি দোকান। দোকানের সারি ও আলোকসজ্জায় অনেকটা মার্কেটের ভেতরের গলির মতো পরিবেশ তৈরি হয়েছে।ডিএসসিসির প্রশাসক জানিয়েছিলেন, রমনা ভবনসংলগ্ন পূর্ব পাশের ফুটপাতে পথচারীদের চলাচলের জায়গা রেখে নির্ধারিত স্থানে নিবন্ধিত নির্দিষ্টসংখ্যক হকার বসতে পারবেন।তবে নির্ধারিত স্থান, সময়, সংখ্যা ও নিবন্ধনের বাইরে যত্রতত্র দোকান বসিয়ে জনভোগান্তি তৈরির সুযোগ নেই বলেও সতর্ক করেছিলেন তিনি।হকাররা আবার বসার বিষয়ে ডিএসসিসির প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম বলেন, নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছি। আমাদের বেশকিছু প্ল্যান আছে। নিয়মিত অভিযানে যদি তারা উঠে না যায়, এরপর সরাসরি মামলা করব। উচ্ছেদের ব্যাপারে আমাদের অবস্থান কঠোর।ফুলবাড়িয়া এলাকায় বেসরকারি চাকরিজীবী কামরুল ইসলাম বলেন, “টিভিতে কয়েক দিন আগে দেখলাম এই এলাকা হকারমুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে এসে দেখছি উল্টো চিত্র। হকারদের কারণে আমাদের মূল সড়ক দিয়ে হাঁটতে হচ্ছে।”ফুলবাড়িয়া মার্কেট মোড় থেকে নর্থ সাউথ রোডের শেষ অংশে ফুটপাতে দোকান তুলনামূলক কম হলেও বড় দোকানগুলোর মালামাল ফুটপাতে রাখার কারণে পথচারীদের চলাচলে সমস্যা হচ্ছে। এতে অনেককে ঝুঁকি নিয়ে মূল সড়ক দিয়ে হাঁটতে হচ্ছে।হকারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উচ্ছেদের কয়েক দিন পরই বিভিন্ন লাইনম্যানের মাধ্যমে আবার ফুটপাত দখল করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও লাইনম্যানদের সমন্বয়ে গঠিত একটি সিন্ডিকেট দৈনিক ভিত্তিতে চাঁদা আদায় করে বলেও অভিযোগ করেছেন কয়েকজন হকার।নাম প্রকাশ না করার শর্তে গোলাপ শাহ মাজার এলাকার এক হকার বলেন, “উচ্ছেদ করলে আমাদের কয়েক দিন ব্যবসা বন্ধ থাকে, লস হয়। পরে লাইনম্যানদের ম্যানেজ করে আবার বসতে হয়। দিনের চাঁদা দিনে ঠিকমতো দিলেই আবার সব ঠিক।”তার দাবি, উচ্ছেদ অভিযান অনেক ক্ষেত্রে লোকদেখানো হওয়ায় দীর্ঘমেয়াদে এর প্রভাব থাকে না।জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক ও নগর পরিকল্পনাবিদ ড. আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, হকার উচ্ছেদের পর আবার তাদের ফিরে আসার পেছনে সক্রিয় সিন্ডিকেট বড় ভূমিকা রাখে।তিনি বলেন, সরকারের কাছে কোন এলাকায় কারা নিয়ন্ত্রণ করছে, সে বিষয়ে তথ্য থাকার কথা। কিন্তু শুধু হকারদের উচ্ছেদ না করে তাদের পেছনে থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
তার মতে, এসব সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া গেলে ফুটপাত দখল ও চাঁদাবাজির সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব। অন্যথায় উচ্ছেদের পর আবারও আগের চিত্র ফিরে আসার আশঙ্কা থেকেই যাবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ
কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত