প্রিন্ট এর তারিখ : ২৫ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০২ অক্টোবর ২০২৬
কয়রা সাংবাদিক ফোরাম এর কার্যক্রমে অতিষ্ঠ কয়রাবাসী : জনমনে ক্ষোভ
কয়রা প্রতিনিধি:: ||
খুলনার কয়রায় 'সাংবাদিক ফোরাম' নামে একটি ফেসবুক পেজের সাইনবোর্ড টানিয়ে তার আড়ালে অনৈতিক কর্মকান্ড ও মাদক ব্যবসার অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলা সদরের থানা রোডে সেবা সদন নামের একটি ভবনের দ্বিতীয় তলায় কক্ষ ভাড়া নিয়ে সেখানে সাইনবোর্ডটি টানানো হয়েছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, তারিক লিটু নামে এক ব্যাক্তি ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা-কর্মী কক্ষ ভাড়া নিয়ে সেখানে আসা যাওয়া করেন। তারা নিজেদেরকে সাংবাদিক দাবী করেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ভবনটির পাশের বাসিন্দা মহিউদ্দিন জানান, গভীর রাত পর্যন্ত সেখানে উচ্চ শব্দে গান বাজনা চলে। অফিসে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীদের যাতায়াত বেশি। মাঝেমধ্যে অপরিচিত লোকজনের আনাগোনাও দেখা যায়।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সাংবাদিক ফোরাম নামে ফেসবুক পেজটি পরিচালনা করেন তারিক লিটু নামে ছাত্রলীগের সাবেক এক নেতা। তিনি কয়রা সদর ইউনিয়নের গোবরা গ্রামের হাফিজুর রহমানের ছেলে। হাফিজুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। এছাড়া তারিক লিটুর সঙ্গে ওই অফিসে সার্বক্ষণিক অবস্থান করেন ছাত্রলীগ নেতা মিনহাজ উদ্দিন দীপু ও আত্মসমর্পণকৃত বনদস্যু সোহরাব আলী। তারা সকলেই নিজেদের সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দিয়ে থাকেন। সোহরাবের বিরুদ্ধে সুন্দরবনে দস্যুতা ছাড়ার পর ইয়াবা কারবারে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। উপজেলা সদরের পাশ্ববর্তী দেওলিয়া বাজার এলাকায় বসবাস করেন তিনি।কয়রা বাজারের ব্যবসায়ি মোনায়েম হোসেন বলেন, তারিক লিটু তার ফেসবুক পেজে অপতথ্য প্রচার করেন বেশি। তিনি সাংবাদিক দাবী করে ব্যবসায়িদের কাছ থেকে অনৈতিকভাবে সুযোগ-সুবিধা নেওয়ায় চেষ্টা করেন। তার সঙ্গে এর আগে দুই জন নারী দেখা যেতো। তারাও নিজেদের সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে থাকেন। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকাকালিন এদের দৌরাত্ম ছিল অপ্রতিরোধ্য। তারা মানুষকে নানা ফাঁদে ফেলে আর্থিক সুবিধা আাদায় করতো। আওয়ামী লীগের পতন হলে দীর্ঘদিন তাদের এলকায় দেখা যায়নি। মাস খানেক ধরে তারা আবারও তৎপর হয়েছে। ভবনের মালিক আইনজীবী কেরামত আলী খুলনা জেলা কৃষকলীগের নেতা। তিনি বলেন, তারিক লিটু নামে একজন সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে দোতলার একটি কক্ষ ভাড়া নিয়েছেন। পরে জানতে পারি তারা নাম সর্বস্ব কিছু অনলাইন পোর্টাল চালায়। তাদের হাবভাব খুব একটা ভাল মনে হচ্ছে না। এ জন্য তাদেরকে কক্ষটি ছেড়ে দিতে বলা হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভবনের নীচতলার একজন ভাড়াটিয়া বলেন, তারা দোতলা ভাড়া নেওয়ার পর থেকে সেখানে এলাকার চিহ্নিত মাদকসেবিদের আনাগোনা বেড়েছে। এছাড়া প্রায় সময় অপরিচিত দুই জন নারীর যাতায়াত রয়েছে সেখানে। অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চেয়ে তারিক লিটুর মোবাইল নাম্বারে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। পরে তার সহযোগী ছাত্রলীগ নেতা মিনহাজ উদ্দিন দীপুর সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, প্রথম দিকে ওই অফিসে যাতায়াত করলেও এখন কম যাই। এর বেশি কিছু বলতে পারব না। কয়রা থানার ওসি রাশেদুল আলম বলেন, ওই অফিসে কি হয় সে সম্পর্কে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ
কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত