প্রিন্ট এর তারিখ : ১২ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
খুলনা শিপইয়ার্ড সড়ক প্রকল্পে অনিয়ম ও দীর্ঘসূত্রতা
স্টাফ রিপোর্টার::, খুলনা:: ||
খুলনা শিপইয়ার্ড সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম, আর্থিক শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও দীর্ঘসূত্রতার অভিযোগে ১৪ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্ত শেষে ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হলেও এখনো কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কেডিএ)। অভিযোগ রয়েছে, বিষয়টি নিয়ে অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের মধ্যেও তেমন কোনো উদ্বেগ দেখা যাচ্ছে না। বরং কর্মদিবসে তাদের অনেককেই স্বাভাবিক ও ফুরফুরে মেজাজে দেখা গেছে।এদিকে, তদন্ত প্রতিবেদনের সুপারিশ বাস্তবায়নে কেডিএ চেয়ারম্যান শফিকুল আলম মনা ধীরগতিতে এগোচ্ছেন বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তি। যদিও চেয়ারম্যান বলেছেন, মন্ত্রণালয়ের সুপারিশ বাস্তবায়নের বিষয়ে আলোচনা চলছে এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কেডিএর বাস্তবায়নাধীন শিপইয়ার্ড সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন প্রকল্পের দীর্ঘসূত্রতার কারণ এবং অনিয়ম খুঁজে বের করতে গত ৯ জুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্দেশ দেন। একই মাসে এ বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে গঠিত তদন্ত দল খুলনায় সরেজমিনে পরিদর্শন করে। পরে মন্ত্রণালয়ে ডেকে নিয়ে কেডিএ চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়।তদন্ত শেষে গত ৩১ আগস্ট গৃহায়ণ সচিবের কাছে ৪০৪ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন জমা দেয় তদন্ত কমিটি। ওই প্রতিবেদনে কেডিএর ১৪ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা, আর্থিক অনিয়ম এবং সমীক্ষা ছাড়াই ডিপিপি প্রণয়নের অভিযোগের প্রমাণ পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, প্রকল্পে বরাদ্দ হওয়া ১৩ কোটি ৫১ লাখ টাকা প্রায় দুই বছর কেডিএর নিজস্ব তহবিলে স্থানান্তর করে রাখা হয়েছিল, যা আর্থিক শৃঙ্খলার পরিপন্থী।তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করেছে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। এর মধ্যে কেডিএর অধীনে থাকা ১১ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংস্থাটির চেয়ারম্যানকে এবং কেডিএতে প্রেষণে আসা তিন উপসচিবের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে চিঠি দেওয়া হয়েছে।একই সঙ্গে প্রকল্পের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আতাউর রহমান এ্যান্ড মাহাবুব ব্রাদার্সকে কালো তালিকাভুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।অভিযুক্ত সরকারি কর্মকর্তারা হলেন—কেডিএর সদস্য (উন্নয়ন) এস এম মাহবুবুর রহমান, সাবেক সচিব মোঃ বদিউজ্জামান এবং বর্তমান সদস্য (প্রশাসন) মোঃ ইকবাল হোসেন।এ ছাড়া কেডিএর তৎকালীন প্রধান প্রকৌশলী এটিএম ওয়াহিদ আজহার, তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী কাজী সাবিরুল আলম, তৎকালীন নির্বাহী প্রকৌশলী (প্রকল্প) মজিবুর রহমান, প্রকল্প পরিচালক মোঃ আরমান হোসেন, উপ-প্রকল্প পরিচালক মুনতাসির মামুন, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শামীম জেহাদ, ক্যাশিয়ার মেহেদী হাসান, সহকারী হিসাবরক্ষক পলাশ কুমার ঘোষ, হিসাবরক্ষক (পূর্ত) শাহানা আক্তার, হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা সাইদুল হক এবং অর্থ ও হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা এম এম হোসেন আলী।কেডিএর কয়েকজন কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, একটি প্রকল্পের দীর্ঘসূত্রতা ও অনিয়মের ঘটনায় একসঙ্গে এত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশের ঘটনা নজিরবিহীন। অভিযুক্তদের মধ্যে ঊর্ধ্বতন পর্যায়ের একাধিক কর্মকর্তা থাকায় তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে বলেও জানান তারা।তাদের দাবি, অভিযুক্তদের কেউ কেউ বিষয়টি মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় পর্যায়ে ‘ম্যানেজ’ করার চেষ্টা করছেন। এমনকি অল্প সময়ের মধ্যেই বিষয়টি নিষ্পত্তি হয়ে যাবে—এমন আশ্বাসও দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তারা। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।এদিকে শিপইয়ার্ড সড়ক প্রকল্পের দীর্ঘসূত্রতার কারণে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি ও আর্থিক ক্ষতির বিষয়টিও সামনে এসেছে। খুলনার নাগরিক নেতাদের দাবি, প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতির কারণে যে পরিমাণ অর্থনৈতিক ক্ষতি ও জনদুর্ভোগ হয়েছে, তার আর্থিক মূল্য কয়েকশ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে।নাগরিক নেতারা বলছেন, তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ার পরও যদি দায়ীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে ভবিষ্যতে কেডিএর প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম ও দুর্নীতি বন্ধ করা কঠিন হবে। তাদের মতে, এখন তদন্ত প্রতিবেদনের সুপারিশ বাস্তবায়নে কেডিএ চেয়ারম্যান কী পদক্ষেপ নেন, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।সামগ্রিক বিষয়ে কেডিএ চেয়ারম্যান শফিকুল আলম মনা বলেন, “মন্ত্রণালয়ের সুপারিশ বাস্তবায়নের বিষয়ে আলোচনা চলছে। দ্রুত এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”
সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ
কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত