প্রিন্ট এর তারিখ : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ফ্যাটি লিভারে চা খাওয়া যাবে? জানুন সঠিক নিয়ম
চেকপোস্ট নিউজ, ||
সকালের নাশতা কিংবা বিকেলের আড্ডা এক কাপ চা অনেকেরই প্রতিদিনের অভ্যাস। কিন্তু পরীক্ষায় গ্রেড ১ ফ্যাটি লিভার ধরা পড়লে চা খাওয়া নিয়ে অনেকে দুশ্চিন্তায় পড়েন। প্রশ্ন ওঠে, চা কি পুরোপুরি বাদ দিতে হবে?সাধারণভাবে, গ্রেড ১ ফ্যাটি লিভার থাকলেই চা সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হবে এমন নির্দেশনা নেই। বরং চায়ে কতটা চিনি, কনডেন্সড মিল্ক বা অতিরিক্ত ক্যালরির উপাদান যোগ হচ্ছে, সেটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ফ্যাটি লিভার নিয়ন্ত্রণে খাবার, ওজন ও শারীরিক কার্যকলাপের মতো সামগ্রিক জীবনযাপন গুরুত্বপূর্ণ। ফ্যাটি লিভার হলো লিভারে অতিরিক্ত চর্বি জমে যাওয়ার একটি অবস্থা। এর সঙ্গে অতিরিক্ত ওজন, ইনসুলিন প্রতিরোধ, টাইপ-২ ডায়াবেটিস, রক্তে চর্বির মাত্রা বেড়ে যাওয়া এবং শারীরিক নিষ্ক্রিয়তার মতো বিষয়গুলোর সম্পর্ক রয়েছে।প্রাথমিক পর্যায়ে জীবনযাপনে পরিবর্তন আনা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে অতিরিক্ত ওজন থাকলে ধীরে ধীরে ওজন কমানো লিভারের চর্বি কমাতে সহায়তা করতে পারে। সাধারণ চা খাওয়া মানেই ফ্যাটি লিভার বেড়ে যাবে এমন প্রমাণ নেই। তবে চায়ের সঙ্গে অতিরিক্ত চিনি ও মিষ্টি উপাদান যোগ করার অভ্যাস সমস্যার কারণ হতে পারে।ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ডায়াবেটিস অ্যান্ড ডাইজেস্টিভ অ্যান্ড কিডনি ডিজিজেস (NIDDK) ফ্যাটি লিভারের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সাধারণ চিনি এবং বিশেষ করে চিনি দেওয়া পানীয় কমানোর পরামর্শ দেয়। মিষ্টি চাও এর মধ্যে পড়ে। প্রতিদিন কয়েক কাপ চায়ে একাধিক চামচ চিনি যোগ করলে অজান্তেই অতিরিক্ত চিনি ও ক্যালরি গ্রহণ হতে পারে। তাই ফ্যাটি লিভার ধরা পড়লে চা পুরোপুরি বাদ দেওয়ার পরিবর্তে চিনি কমানো বা সম্ভব হলে চিনি ছাড়া চা পান করা যেতে পারে।চায়ের সঙ্গে বিস্কুট, কেক, মিষ্টি বা ভাজাপোড়া খাবারের অভ্যাস থাকলেও সেটি বিবেচনায় রাখা জরুরি। কারণ ফ্যাটি লিভার নিয়ন্ত্রণে শুধু একটি খাবার নয়, পুরো খাদ্যাভ্যাস গুরুত্বপূর্ণ। দুধ একেবারে বাদ দিতে হবে এমন নয়। তবে অতিরিক্ত ঘন দুধ বা কনডেন্সড মিল্ক দিয়ে তৈরি মিষ্টি ও ভারী চা নিয়মিত পান না করাই ভালো।চায়ের ক্যালরি কম রাখতে দুধের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করা এবং অতিরিক্ত মিষ্টি উপাদান এড়িয়ে চলা যেতে পারে।চিনি কমান: চায়ে চিনি দেওয়ার পরিমাণ ধীরে ধীরে কমাতে পারেন।কনডেন্সড মিল্ক এড়িয়ে চলুন: অতিরিক্ত মিষ্টি ও ক্যালরিযুক্ত উপাদান নিয়মিত ব্যবহার না করাই ভালো।চায়ের সঙ্গে মিষ্টি খাবার কমান: বিস্কুট, কেক, মিষ্টি ও ভাজাপোড়া খাবারের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করুন।পরিমাণের দিকে নজর দিন: স্বাস্থ্যকর খাবার হলেও অতিরিক্ত ক্যালরি গ্রহণ এড়িয়ে চলা গুরুত্বপূর্ণ।চাকে চিকিৎসা ভাববেন না: কোনো নির্দিষ্ট চা পান করলেই ফ্যাটি লিভার সেরে যাবে এমন দাবি করার মতো পর্যাপ্ত প্রমাণ নেই।গ্রিন টি নিয়ে লিভারের স্বাস্থ্যের সম্ভাব্য উপকারিতা নিয়ে গবেষণা হয়েছে। তবে গ্রিন টি ফ্যাটি লিভারের চিকিৎসা বা রোগ সারানোর প্রমাণিত উপায় নয়।বিশেষ করে গ্রিন টি-যুক্ত উচ্চমাত্রার নির্যাস বা সাপ্লিমেন্ট সাধারণ চায়ের মতো নয়। গবেষণায় কিছু ক্ষেত্রে গ্রিন টি-সম্পর্কিত সাপ্লিমেন্টের সঙ্গে লিভারের ক্ষতির সম্পর্ক পাওয়া গেছে। তাই ফ্যাটি লিভার কমানোর আশায় নিজের ইচ্ছায় উচ্চমাত্রার গ্রিন টি এক্সট্র্যাক্ট বা ভেষজ সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করা উচিত নয়। চায়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত শারীরিক কার্যকলাপ এবং প্রয়োজন হলে ধীরে ধীরে ওজন কমানো।NIDDK-এর তথ্য অনুযায়ী, অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতা থাকলে শরীরের ওজনের অন্তত ৩–৫ শতাংশ কমানো লিভারের চর্বি কমাতে সহায়তা করতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে ৭–১০ শতাংশ ওজন কমালে লিভারের প্রদাহ ও ফাইব্রোসিসও কমতে পারে। তবে দ্রুত নয়, ধীরে ধীরে ওজন কমানোর পরামর্শ দেওয়া হয়। এ ছাড়া শাকসবজি, পূর্ণ শস্য, ডাল, বাদাম, বীজ ও উপযুক্ত পরিমাণ প্রোটিনের মতো স্বাস্থ্যকর খাবার খাদ্যতালিকায় রাখা এবং অতিরিক্ত চিনি ও মিষ্টি পানীয় কমানো উপকারী। গ্রেড ১ ফ্যাটি লিভার ধরা পড়লেই চা পুরোপুরি বন্ধ করার প্রয়োজন নেই। তবে চায়ে অতিরিক্ত চিনি, কনডেন্সড মিল্ক এবং চায়ের সঙ্গে নিয়মিত মিষ্টি বা উচ্চ-ক্যালরির খাবার খাওয়ার অভ্যাস পরিবর্তন করা গুরুত্বপূর্ণ।
ফ্যাটি লিভার নিয়ন্ত্রণে মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপন ঠিক করা। কোনো ওষুধ, হারবাল পণ্য বা সাপ্লিমেন্ট নিজের ইচ্ছায় শুরু না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।
সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ
কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত