প্রিন্ট এর তারিখ : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা-জয়দেবপুর রুটে বৈদ্যুতিক ট্রেন, প্রকল্প উঠছে একনেকে
চেকপোস্ট নিউজ, ||
দেশে প্রথমবারের মতো নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা-জয়দেবপুর রুটে বৈদ্যুতিক ট্রেন চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ৫২ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রেলপথে বৈদ্যুতিক ট্র্যাকশন চালু করতে প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৮২২ কোটি ৫১ লাখ টাকা। এর মধ্যে প্রকল্প ঋণ হিসেবে ২ হাজার ৮৮০ কোটি ৪২ লাখ টাকা এবং সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন থাকবে ৯৪২ কোটি ৯ লাখ টাকা।২০২৬ সালের জুলাই থেকে ২০৩১ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য আগামী জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় উপস্থাপন করা হবে।পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, আগামী বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ২০২৬-২৭ অর্থবছরের তৃতীয় এবং বর্তমান সরকারের অষ্টম একনেক সভা অনুষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশ সচিবালয়ে অনুষ্ঠেয় সভায় সভাপতিত্ব করবেন একনেক চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।এবারের সভায় মোট ১৬টি প্রকল্প অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৬৫ হাজার ৫১৭ কোটি ২৬ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ২৫ হাজার ২৭৮ কোটি ১২ লাখ টাকা, প্রকল্প ঋণ ৪০ হাজার ১৬৬ কোটি ৬৭ লাখ টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন বা অন্যান্য উৎস থেকে আসবে ৭২ কোটি ৪৭ লাখ টাকা।১৬টি প্রকল্পের মধ্যে নতুন প্রকল্প রয়েছে ১২টি এবং সংশোধিত প্রকল্প চারটি। রেল, সড়ক, স্বাস্থ্য, পানি সম্পদ, প্রতিরক্ষা, বিদ্যুৎ ও আর্থিক খাতের বিভিন্ন প্রকল্প রয়েছে তালিকায়।সবচেয়ে বড় মেট্রোরেল প্রকল্পএকনেকে উপস্থাপিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় হলো ‘ঢাকা ম্যাস র্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (লাইন-৫): সাউদার্ন রুট’। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৫ হাজার ৫০৩ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। সরকারের অর্থায়ন ১৫ হাজার ১৯৭ কোটি ৬৬ লাখ টাকা এবং প্রকল্প ঋণ ৩০ হাজার ৩০৬ কোটি ১০ লাখ টাকা।ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০৩৩ সালের আগস্ট পর্যন্ত প্রকল্পটির বাস্তবায়নকাল ধরা হয়েছে।রেল খাতে আরও দুটি বড় প্রকল্পবগুড়া থেকে সিরাজগঞ্জ পর্যন্ত নতুন ডুয়েলগেজ রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পের প্রথম সংশোধনে ব্যয় বাড়িয়ে ৪ হাজার ৬৬৭ কোটি ৪২ লাখ টাকা করা হচ্ছে। মূল প্রকল্পটির ব্যয় ছিল ৫ হাজার ৫৭৯ কোটি ৭০ লাখ টাকা। প্রকল্পটির বাস্তবায়নকাল জুলাই ২০১৮ থেকে ডিসেম্বর ২০৩০ পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা-জয়দেবপুর রেলপথে বৈদ্যুতিক ট্র্যাকশন চালুর প্রকল্পে ব্যয় হবে ৩ হাজার ৮২২ কোটি ৫১ লাখ টাকা। এ প্রকল্পে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও ইউরোপিয়ান ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (ইআইবি) থেকে উন্নয়ন সহায়তা পাওয়ার কথা রয়েছে।স্বাস্থ্য ও সড়ক খাতেও বড় বরাদ্দযক্ষ্মা, এইচআইভি/এইডস ও ম্যালেরিয়া মোকাবিলায় ‘ইন্টিগ্রেটেড হেলথ সিস্টেম রেসপন্স টু ফাইট এগেইনস্ট টিবি, এইচআইভি/এইডস অ্যান্ড ম্যালেরিয়া ইন বাংলাদেশ’ প্রকল্পে ব্যয় হবে ৪ হাজার ৩৯ কোটি ৬ লাখ টাকা।এ ছাড়া ‘হেলথ সিস্টেম স্ট্রেনদেনিং থ্রু এমএনসিএইচ সার্ভিসেস ইমপ্রুভমেন্ট অ্যান্ড এনসিডিস কন্ট্রোল’ প্রকল্পে ব্যয় হবে ৩৯৬ কোটি ৮১ লাখ টাকা।রাজশাহী সড়ক জোনের জেলা মহাসড়ক উন্নয়নে ৯৪৩ কোটি ৮৭ লাখ টাকা এবং চট্টগ্রাম সড়ক জোনের জেলা মহাসড়ক উন্নয়নের তৃতীয় পর্যায়ে ১ হাজার ৪৫৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব করা হয়েছে।প্রতিরক্ষা ও আর্থিক খাতবরিশাল সেনানিবাস স্থাপনের দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজে ব্যয় হবে ১ হাজার ১৫৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা। খুলনা নৌ অঞ্চলে নৌ সদস্যদের আবাসনসহ অবকাঠামো নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৭৪ কোটি ১৫ লাখ টাকা। দুটি প্রকল্পেই সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন থাকবে।আর্থিক খাতের ‘ফিন্যান্সিয়াল সেক্টর সাপোর্ট প্রজেক্ট-২’-এ ব্যয় হবে ১ হাজার ২৭৬ কোটি ৩০ লাখ টাকা। এর মধ্যে ১ হাজার ২৬১ কোটি ৫৪ লাখ টাকা প্রকল্প ঋণ এবং ১৪ কোটি ৭৬ লাখ টাকা সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন।পানি সম্পদ ও শ্রমিক সুরক্ষাছোট ফেনী ও বামনী নদী অববাহিকায় সমন্বিত বন্যা ও নদী ব্যবস্থাপনা এবং নিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নয়নে মুসাপুর রেগুলেটর নির্মাণসহ প্রকল্পে ব্যয় হবে ৭৫১ কোটি ৭৭ লাখ টাকা।মেঘনা নদীর ভাঙন থেকে ভোলা সদর ও দৌলতখান উপজেলার শিবপুর, ধনিয়া ও মেদুয়া এলাকা রক্ষায় ব্যয় ধরা হয়েছে ৬০৫ কোটি ২৪ লাখ টাকা।এ ছাড়া তৈরি পোশাক ও চামড়া খাতের শ্রমিকদের কর্মপরিবেশ ও সামাজিক সুরক্ষা উন্নয়নে ‘দ্য ইমপ্রুভড ওয়ার্কিং কন্ডিশন অ্যান্ড সোশ্যাল প্রোটেকশন ফর ওয়ার্কার্স ইন দ্য টেক্সটাইল অ্যান্ড লেদার সেক্টর’ প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে। এতে ব্যয় হবে ৮৯ কোটি ২৫ লাখ টাকা। কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে।এ ছাড়া খুলনা পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নয়ন, মনপুরা দ্বীপাঞ্চলের বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা সম্প্রসারণ এবং ডিজিটাল ভূমি ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত কয়েকটি সংশোধিত প্রকল্পও একনেকে উপস্থাপন করা হবে।সভায় ৫০ কোটি টাকার কম ব্যয়ের আরও ১৫টি প্রকল্পের বিষয়েও অবহিত করা হবে। এসব প্রকল্পের মধ্যে ভূমি ব্যবস্থাপনা স্বয়ংক্রিয়করণ, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির জাতীয় সদর দপ্তর নির্মাণ, ভাসানচরে সবুজ বেষ্টনী, কক্সবাজারে বন পুনঃস্থাপন, দেশি মুরগি গবেষণা ও সংরক্ষণ, অর্থনৈতিক অঞ্চলে টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক, ঝুঁকিপূর্ণ সেতু প্রতিস্থাপন, সিলেট বিভাগের ডিজিটাল এলিভেশন মডেল তৈরি এবং সিলেট-১০ নম্বর অনুসন্ধান কূপ খননের মতো উদ্যোগ রয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ
কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত