প্রিন্ট এর তারিখ : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত নাছির আহমেদ
চেকপোস্ট নিউজ:: ||
মৌলভীবাজারের চায়ের রাজধানীখ্যাত পর্যটননগরী শ্রীমঙ্গলের শহরঘেঁষা মুসলিমবাগ এলাকায় এক মধ্যবিত্ত মুসলিম পরিবারে ১৯৮৬ সালে জন্মগ্রহণ করেন মোঃ নাছির আহমেদ। ছোটবেলা থেকেই সাহিত্যচর্চা, মানবপ্রেম ও সমাজের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মানসিকতা তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করে তুলেছে।পারিবারিক অসচ্ছলতা ও নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও নিজের স্বপ্নকে লালন করে এগিয়ে চলেছেন নাছির আহমেদ। সাহিত্যচর্চার পাশাপাশি সাংগঠনিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডেও নিজেকে সম্পৃক্ত করেছেন তিনি। তাঁর সাংগঠনিক দক্ষতার স্বীকৃতিস্বরূপ সাতগাঁও গণমূল্যায়ন পরিষদের সিনিয়র সহ-সভাপতি এবং স্বাধীনবাংলা সাহিত্য পরিষদের সিলেট বিভাগীয় সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। বাংলা সাহিত্যচর্চা ও বিকাশেও রয়েছে তাঁর উল্লেখযোগ্য ভূমিকা।তবে তাঁর কর্মপরিধি শুধু সাহিত্যচর্চার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। মানবসেবাকে জীবনের অন্যতম ব্রত হিসেবে গ্রহণ করে ২০০৮ সাল থেকেই পথশিশু ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষা এবং জীবনমান উন্নয়নে কাজ শুরু করেন তিনি।২০১২ সালে দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের পাঠক সংগঠন ‘বন্ধু প্রতিদিন’ শ্রীমঙ্গল উপজেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন নাছির আহমেদ। পরবর্তীতে ২০১৬ সাল থেকে ইন্টারন্যাশনাল ডায়লগ এইড ফাউন্ডেশন (IDAF)-সহ বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে মানবাধিকার রক্ষায় কাজ শুরু করেন।মানবাধিকারে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৭ সালে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট এর বিচারপতি আলহাজ্ব আব্দুস সালাম এর কাছ থেকে সম্মাননা অর্জন করেন ।২০২০ সালে বিশ্বব্যাপী করোনা মহামারি ছড়িয়ে পড়লে মানুষের মধ্যে তৈরি হয় ভয় ও আতঙ্ক। করোনা আক্রান্ত ব্যক্তির কাছে যেতেও অনেকে ভয় পেতেন। এমনকি করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করা ব্যক্তিদের জানাজা, দাফন কিংবা সৎকারের জন্যও অনেক সময় স্বজন ও পরিচিতজনদের পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছিল।সেই সংকটময় সময়ে নিজের জীবনের নিরাপত্তার কথা না ভেবে করোনা আক্রান্ত মৃত ব্যক্তিদের দাফন ও সৎকারে এগিয়ে আসেন নাছির আহমেদ। মানবতার প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই তাঁর এই সাহসী উদ্যোগ তাঁকে সমাজে একজন মানবিক ও সাহসী কর্মী হিসেবে নতুন পরিচিতি এনে দেয়।মানবসেবার ধারাবাহিকতায় বর্তমানে নাছির আহমেদ আইন ও মানবাধিকার সুরক্ষা ফাউন্ডেশন (আমাসুফ), শ্রীমঙ্গল উপজেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।তাঁর সাংগঠনিক উদ্যোগ ও আমাসুফ শ্রীমঙ্গল উপজেলা কমিটির সার্বিক তত্ত্বাবধানে পরিচালিত আমাসুফ লার্নিং সেন্টার সুবিধাবঞ্চিত ও পথশিশুদের শিক্ষা ও জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। সমাজের পিছিয়ে পড়া শিশুদের মূলধারায় ফিরিয়ে আনতে তাঁর এই উদ্যোগ ইতোমধ্যে প্রশংসিত হয়েছে।শ্রীমঙ্গলের প্রান্তিক পর্যায়ে সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে নাছির আহমেদ ধীরে ধীরে মানুষের আস্থা ও ভালোবাসা অর্জন করেছেন। তাঁর কর্মকাণ্ডের পরিচিতি এখন শ্রীমঙ্গল উপজেলা ছাড়িয়ে মৌলভীবাজার জেলা ও সিলেট অঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়েছে।শ্রীমঙ্গলের মঙ্গলে যার প্রতি পদচারণ,সে আজ শত যুবকের অনুপ্রেরণা।চিন্তা-চেতনায় সে হয়ে মহীয়ান,নিজের সবকিছু উজাড় করেভালোবাসায় রাখছে শ্রীমঙ্গলের সম্মান।সকাল-বিকেল, রাত-বিরাতে অসহায়েরআর্তনাদে কাঁদে যার প্রাণ,সে সবার প্রিয় নাছির,যুবসমাজের প্রাণ।নিজের সাধ্য অনুযায়ী করছে সমাজে ভালো কাজ,হালাল উপার্জনে ভুলেছে লজ্জা-লাজ।সততার সঙ্গে নিত্য মিতালি,সত্য ও ন্যায়ের প্রতিচ্ছবি-নাছির আমাদের প্রাণ।ছন্দে ছন্দে কবিতা লেখা যায়, কিন্তু তাঁর জীবন সবসময় ছন্দময় ছিল না। অভাব-অনটন, সীমাবদ্ধতা ও নানা টানাপোড়েনের মধ্যেও নিজের অদম্য ইচ্ছাশক্তির কাছে প্রতিকূলতাকে হার মানিয়ে তিনি এগিয়ে চলেছেন।মানুষের জন্য কিছু করার স্বপ্নই যেন তাঁর পথচলার মূল শক্তি। সাহিত্য, সাংবাদিকতা, সংগঠন ও মানবসেবার বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাঁর কর্মকাণ্ড সমাজের তরুণদের জন্যও অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছে।একজন মানবাধিকার কর্মী নাছির আহমেদের পরিচয়ের বাইরেও রয়েছে তাঁর বহুমাত্রিক মানবিক সত্তা। মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়ানো, সুবিধাবঞ্চিতদের জন্য কাজ করা এবং সমাজে ন্যায় ও মানবিকতার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার মধ্য দিয়ে তিনি তৈরি করেছেন নিজের স্বতন্ত্র পরিচয়।মানুষের কল্যাণে নিরলসভাবে কাজ করে যাওয়া মোঃ নাছির আহমেদ তাই আজ শ্রীমঙ্গলে মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ
কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত