প্রিন্ট এর তারিখ : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
দিরাই-শাল্লার জলমহালে দেড় কোটি টাকার মাছ লুটের অভিযোগ
দিরাই প্রতিনিধি, ||
সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার হাতনি গ্রুপের সরকারি জলমহাল থেকে প্রায় দেড় কোটি টাকার মাছ লুটের অভিযোগ উঠেছে। ধারাবাহিকভাবে মাছ লুটের ঘটনায় ইজারাদার ও মৎস্যজীবীরা চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন বলে দাবি করেছে হাতনি জয়পুর মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি।মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে দিরাই উপজেলা প্রশাসনিক ভবনের গেটে সংবাদ সম্মেলন করে এ অভিযোগ করেন সমিতির নেতারা।লিখিত বক্তব্যে তারা জানান, গত ৮ আগস্ট ও ২ সেপ্টেম্বর শাল্লা উপজেলার আটগাঁও, সোনাকানি, মির্জাপুর, নিজগাঁওসহ বিভিন্ন গ্রামের দুই শতাধিক মানুষ ৩০ থেকে ৪০টি নৌকায় জলমহালে প্রবেশ করেন। এ সময় কোনা জাল, কারেন্ট জাল ও সুতার জাল ব্যবহার করে জোরপূর্বক মাছ ধরে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করা হয়।সমিতির সাধারণ সম্পাদক বিকাশ রঞ্জন দাস বলেন, দুই দফায় দেশীয় অস্ত্র প্রদর্শন করে তাদের লোকজনকে ভয়ভীতি দেখিয়ে আনুমানিক দেড় কোটি টাকার বিভিন্ন প্রজাতির মাছ নিয়ে যাওয়া হয়েছে।তিনি জানান, হাতনি জলমহালটি ছয় বছর মেয়াদে সরকারি খাস জলমহাল হিসেবে ইজারা নেওয়া হয়েছে। নিয়ম মেনে মাছ সংরক্ষণ ও আহরণ করা হলেও বারবার মাছ লুটের কারণে প্রতিবছর কোটি টাকার বেশি সরকারি খাজনা পরিশোধ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।সমিতির নেতাদের অভিযোগ, কারেন্ট ও কোনা জাল ব্যবহারের কারণে বড় মাছের পাশাপাশি পোনা মাছও ধরা পড়ছে। এতে জলমহালের মাছের প্রজনন ও মৎস্যসম্পদ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আবারও মাছ লুটের আশঙ্কায় ইজারাদার ও মৎস্যজীবীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে বলেও দাবি করা হয়।প্রশাসনের বক্তব্যদিরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সনজীব সরকার বলেন, মাছ লুটের অভিযোগে সমিতির পক্ষ থেকে দিরাই ও শাল্লা থানায় পৃথক লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে শাল্লা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গেও আলোচনা হয়েছে।তিনি বলেন, অভিযোগের তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।সংবাদ সম্মেলন থেকে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ, জলমহালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সরকারি রাজস্ব রক্ষায় প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়।
সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ
কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত