প্রিন্ট এর তারিখ : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্থানীয় সরকার নির্বাচন: ইসির কাছে জামায়াতের ৯ দাবি
চেকপোস্ট নিউজ, ||
চলতি বছরের নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় স্থানীয় সরকার নির্বাচন সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য করতে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কাছে ৯ দফা দাবি ও পরামর্শ দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) আগারগাঁওয়ের নির্বাচন কমিশন ভবনে ইসির সঙ্গে জামায়াতের ছয় সদস্যের কেন্দ্রীয় সচিবালয় ও নির্বাচন পরিচালনাসংক্রান্ত প্রতিনিধি দলের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার দলের দাবিগুলো তুলে ধরেন।তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও সর্বজনগ্রহণযোগ্য করতে তারা ৯টি দাবি জানিয়েছে। কয়েকটি বিষয়ে কমিশনের ‘অসহায়ত্ব’ প্রকাশের সমালোচনা করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, নির্বাচন কমিশন কোনো বিশেষ রাজনৈতিক সরকারের চাপের মুখে কাজ করছে কি না।শিক্ষকদের প্রার্থী হওয়ার সুযোগ চায় জামায়াতজামায়াতের অন্যতম দাবি, বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার অযোগ্য ঘোষণা সংক্রান্ত ইসির অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত বাতিল করতে হবে।গোলাম পরওয়ার বলেন, বাংলাদেশের শিক্ষকরা দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় ও জাতীয় নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার পাশাপাশি রাজনীতি ও ভোটাধিকার প্রয়োগ করে আসছেন। সদ্য অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তারা অংশ নিয়েছেন।তাই শুধু স্থানীয় নির্বাচনে শিক্ষকদের প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা সংবিধানের ২৭ ও ২৮ অনুচ্ছেদে থাকা সমঅধিকার নীতির পরিপন্থি এবং বৈষম্যমূলক বলে দাবি করেন তিনি।নিষিদ্ধ দলের নেতাদের প্রার্থী হওয়া ঠেকানোর দাবিযেসব রাজনৈতিক দলের রাজনীতি ও কার্যক্রম সরকার নিষিদ্ধ করেছে, সেসব দলের পদধারী নেতারা যেন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হতে না পারেন—এ দাবিও জানিয়েছে জামায়াত।তাদের যুক্তি, নিষিদ্ধ দলের পদধারী কোনো ব্যক্তির নির্বাচনে অংশ নেওয়াও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের অংশ। তবে সাধারণ সমর্থকদের বিষয়ে কোনো নিষেধাজ্ঞার দাবি জানায়নি দলটি।ইসির কর্মকর্তার নিয়োগ নিয়েও আপত্তিসম্প্রতি ইসি সচিবালয়ে নিয়োগ পাওয়া অতিরিক্ত সচিব শামসুল আলমের নিয়োগ নিয়েও আপত্তি জানিয়েছে জামায়াত।গোলাম পরওয়ারের দাবি, ওই কর্মকর্তা বিএনপির নির্বাচনবিষয়ক সাব-কমিটির সক্রিয় সদস্য ছিলেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এমন রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের নিরপেক্ষতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।জামায়াত জানায়, আগের বৈঠকেও তারা এ বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়েছিল। কমিশন বিষয়টি নিয়ে তাদের উদ্বেগের সত্যতা স্বীকার করলেও নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ না হওয়ায় সরকারকে বিষয়টি জানানো হবে বলে জানিয়েছে।প্রশাসকদের প্রার্থী না করার দাবিউপজেলা পরিষদ, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন ও উন্নয়ন কর্তৃপক্ষগুলোতে সম্প্রতি নিয়োগ পাওয়া প্রশাসকদের নিয়েও আপত্তি জানিয়েছে জামায়াত।দলটির অভিযোগ, সরকারি অর্থ, এডিপি বরাদ্দ ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা ব্যবহার করে আসন্ন নির্বাচনে দলীয় সুবিধা নেওয়ার সুযোগ তৈরি করতেই এসব নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।নির্বাচনের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে এসব পদে থাকা প্রশাসকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ স্থায়ীভাবে বাতিলের দাবি জানিয়েছে দলটি। এমনকি তফসিল ঘোষণার পর পদত্যাগ করলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নির্বাচনে অযোগ্য রাখার নিয়ম করার দাবি জানানো হয়েছে।এ ছাড়া মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ব্যক্তিদের নির্বাচনী প্রচারণায় অংশগ্রহণ ঠেকাতে কঠোর আচরণবিধি প্রণয়নেরও দাবি জানিয়েছে জামায়াত।স্থানীয় নির্বাচনে দলীয় প্রতীক নয়স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় প্রতীকে না হওয়ায় এবার কোনো প্রার্থীকে দলীয়ভাবে মনোনয়ন দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন গোলাম পরওয়ার।তিনি বলেন, আগ্রহী প্রার্থীরা নিজ নিজ অবস্থান থেকে স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
জাতীয় নির্বাচনের জন্য গঠিত ১১ দলীয় ঐক্যের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, ওই ঐক্য জাতীয় নির্বাচনকেন্দ্রিক। স্থানীয় নির্বাচনে শরিক দলগুলো যার যার মতো করে অংশ নেবে। এ ক্ষেত্রে দলগত অংশগ্রহণে কোনো বাধা বা সমঝোতার শর্ত থাকবে না।
সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ
কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত