প্রিন্ট এর তারিখ : ৩১ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ৩১ আগস্ট ২০২৬
বিদায়ের আবেগে মুখর জাবিপ্রবি গণিত বিভাগ, পাঁচ ব্যাচের মিলনমেলা
মো: ইকরাম মাহমুদ প্রধান, , জাবিপ্রবি প্রতিনিধি:: ||
গান, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, আড্ডা ও স্মৃতিচারণে উৎসবমুখর হয়ে উঠেছিল জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবিপ্রবি) কেন্দ্রীয় একাডেমিক মাঠ। গণিত বিভাগের পাঁচটি ব্যাচের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে আয়োজিত ফেয়ারওয়েল কার্নিভালে বিদায়ী গণিত-০৩ ব্যাচকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। আনন্দ-উচ্ছ্বাসের পাশাপাশি শেষপর্বে স্মৃতিচারণে তৈরি হয় আবেগঘন পরিবেশ।রোববার (৩০ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় একাডেমিক মাঠে এ আয়োজন শুরু হয়। গণিত বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমির হোসেন। এ সময় গণিত বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষিকাসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন গণিত বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ শাহজালাল।প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমির হোসেন বিদায়ী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের অর্জন ও অভিজ্ঞতাকে ভবিষ্যৎ জীবনে কাজে লাগানোর আহ্বান জানান।তিনি বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের স্মৃতি মানুষের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ হয়ে থাকে। শিক্ষা ও জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি এ সময়ে গড়ে ওঠা বন্ধুত্ব, সম্পর্ক ও অভিজ্ঞতা ভবিষ্যৎ পথচলায় অনুপ্রেরণা জোগায়।”তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতার মাধ্যমে শুধু নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলবেন না, সমাজ ও দেশের উন্নয়নেও ভূমিকা রাখবেন। এ সময় বিদায়ী শিক্ষার্থীদের সততা, দক্ষতা ও মানবিক মূল্যবোধকে জীবনের পথচলায় গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।গণিত বিভাগের চেয়ারম্যান ও অনুষ্ঠানের সভাপতি ড. মোহাম্মদ শাহজালাল বলেন, একটি ব্যাচের বিদায় শুধু কয়েকজন শিক্ষার্থীর বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের সমাপ্তি নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে একটি সময়, অসংখ্য স্মৃতি ও দীর্ঘদিনের পথচলা।তিনি বলেন, “ক্লাসরুম, বন্ধুদের সঙ্গে কাটানো সময়, বিভিন্ন আয়োজন ও বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের নানা অভিজ্ঞতা শিক্ষার্থীদের মনে দীর্ঘদিন স্মৃতি হয়ে থাকবে।” বিদায়ী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ শেষ হলেও গণিত বিভাগের সঙ্গে তাঁদের সম্পর্ক শেষ হবে না। জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত হয়ে তাঁরা যেন বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভাগের সুনাম বৃদ্ধি করেন।”অনুষ্ঠানে গণিত বিভাগের পাঁচটি ব্যাচের শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পুরো আয়োজন প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। সন্ধ্যার পর সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় গানসহ বিভিন্ন পরিবেশনা উপভোগ করেন উপস্থিত শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। বিভাগের বর্তমান ও বিদায়ী শিক্ষার্থীরাও এসব আয়োজনে অংশ নেন।তবে আয়োজন যত গড়াতে থাকে, আনন্দের সঙ্গে যুক্ত হতে থাকে বিদায়ের আবেগ। অনুষ্ঠানের শেষদিকে গণিত-০৩ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের বিভিন্ন স্মৃতি ও অনুভূতি তুলে ধরেন।স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন গণিত-০৩ ব্যাচের শিক্ষার্থী ইমতিয়াজ আহমেদ। সহপাঠীদের সঙ্গে কাটানো দীর্ঘ সময়, ক্লাসরুমের স্মৃতি, শিক্ষকদের সঙ্গে সম্পর্ক এবং ক্যাম্পাসজীবনের নানা মুহূর্তের কথা বলতে গিয়ে তাঁর কণ্ঠ ভারী হয়ে আসে।ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের এই সময়গুলো জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকবে। দীর্ঘদিন একসঙ্গে কাটানো সময় এবং সহপাঠীদের সঙ্গে গড়ে ওঠা সম্পর্ক ছেড়ে যাওয়ার অনুভূতি সহজ নয়।”স্মৃতিচারণের এ পর্বে উপস্থিত অন্যান্য শিক্ষার্থীদের মধ্যেও আবেগের ছাপ দেখা যায়। বিদায়ী ব্যাচের স্মৃতি ও অনুভূতি ভাগাভাগি এবং তাঁদের ভবিষ্যৎ জীবনের শুভকামনার মধ্য দিয়ে শেষ হয় ফেয়ারওয়েল কার্নিভাল।আয়োজকদের মতে, গণিত-০৩ ব্যাচকে বিদায় জানানোর পাশাপাশি বিভাগের বিভিন্ন ব্যাচের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সম্পর্ক, সৌহার্দ্য ও পারস্পরিক বন্ধন আরও দৃঢ় করাই ছিল এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য। আনন্দ, উচ্ছ্বাস ও বিদায়ের আবেগে ভরা এ আয়োজন বিদায়ী শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের স্মৃতিতে দীর্ঘদিন জায়গা করে রাখবে বলে মনে করছেন অংশগ্রহণকারীরা।
সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ
কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত