প্রিন্ট এর তারিখ : ৩০ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ৩০ আগস্ট ২০২৬
চাঁপাইনবাবগঞ্জে অটোরিকশাচালক হত্যা রহস্য উদ্ঘাটন, ৩ অভিযুক্ত রিমান্ডে
মো: রাহিম হোসেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি:: ||
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে অটোরিকশাচালক রুমন আলী (২৩) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করেছে জেলা পুলিশ। অল্প দামে শক্তিশালী লিথিয়াম ব্যাটারি কিনে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে তাঁকে নির্জন আখখেতে ডেকে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয় বলে পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে।রোববার (৩০ আগস্ট ২০২৬) পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি ও বিচারিক কার্যক্রম এগিয়ে চলছে।এর আগে গত ২৬ আগস্ট সন্ধ্যায় পুটিমারি বিলের একটি নির্জন আখখেত থেকে নিখোঁজ রুমনের পচাগলা মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত হাসুয়াসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করে পুলিশের আভিযানিক দল।পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২১ আগস্ট ভোর সাড়ে ৫টার দিকে প্রতিদিনের মতো অটোরিকশা নিয়ে জীবিকার সন্ধানে বাড়ি থেকে বের হন রুমন। শিবগঞ্জ পৌর এলাকার কানসাটে পৌঁছানোর পর থেকে তিনি নিখোঁজ হন। দিন গড়িয়ে রাত হলেও বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা শিবগঞ্জ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।লিথিয়াম ব্যাটারির প্রলোভনে নির্জন আখখেতেতদন্তে পুলিশ জানতে পারে, রুমনের পূর্বপরিচিত শাওন (ছদ্মনাম) তাঁকে অল্প দামে একটি শক্তিশালী লিথিয়াম ব্যাটারি দেওয়ার প্রলোভন দেখান। ব্যাটারিটি এক চার্জে প্রায় ২০০ কিলোমিটার চলবে বলে তাঁকে জানানো হয়।প্রস্তাবে রাজি হয়ে রুমন শাওনকে সঙ্গে নিয়ে শিবগঞ্জ পৌরসভার পুটিমারি বিলের দিকে যান। সেখানে পৌঁছানোর পর ব্যাটারি লুকিয়ে রাখার কথা বলে রুমনের চোখ বেঁধে তাঁকে আখখেতের ভেতরে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে সেখানে তাঁকে হত্যা করা হয় বলে পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে।হত্যার পর আসামিরা রুমনের অটোরিকশাটি শফিকুল (ছদ্মনাম) নামে এক ব্যক্তির কাছে ১ লাখ ২০ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেয় বলে জানায় পুলিশ।সিসিটিভি ও কল রেকর্ডে সূত্রঘটনার তদন্তে জেলা পুলিশ নিখোঁজ অটোরিকশার গতিপথ এবং সন্দেহভাজনদের সিসিটিভি ফুটেজ ও কল রেকর্ড বিশ্লেষণ করে শাওন ও রহমানকে আটক করে। পরে শফিকের বাড়ি থেকে রুমনের অটোরিকশাটি উদ্ধার করা হয়।জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন অভিযুক্তকে আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালত তাদের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে প্রধান আসামি শাওন হত্যার বিস্তারিত বর্ণনা দেন এবং আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।উদ্ধার করা জুতা, প্যান্ট ও মোবাইল ফোন দেখে রুমনের স্ত্রী নাজমা সুলতানা মরদেহটি তাঁর স্বামীর বলে শনাক্ত করেন।পুলিশ বলছে, অটোরিকশা ছিনতাই ও আত্মসাতের উদ্দেশ্যেই পরিকল্পিতভাবে রুমনকে হত্যা করা হয়েছে।
এ ঘটনায় জড়িতদের কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন নিহত রুমনের পরিবার ও স্থানীয় সচেতন মানুষ।
সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ
কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত