প্রিন্ট এর তারিখ : ২৯ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৯ আগস্ট ২০২৬
ডিসেম্বর ঘিরে আ.লীগের নতুন ছক, গোয়েন্দা প্রতিবেদনে চাঞ্চল্যকর তথ্য
চেকপোস্ট নিউজ, ||
চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত ও বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ আগামী ডিসেম্বরকে ঘিরে নতুন কৌশলে এগোচ্ছে বলে গোয়েন্দা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। দলটির নেতাকর্মীদের সংঘবদ্ধ করা, বিদেশে অবস্থানরত শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানো এবং ঝটিকা মিছিলের মাধ্যমে নিজেদের উপস্থিতি জানান দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।ভারতে অবস্থানরত আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে দেশে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন। একই সঙ্গে বিদেশে অবস্থানরত দলীয় নেতাকর্মীদেরও দেশে ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। এরপর থেকেই মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে তৎপরতা বাড়ছে বলে গোয়েন্দা সূত্রগুলো জানিয়েছে।সূত্রের দাবি, আধুনিক প্রযুক্তি ও বিভিন্ন এনক্রিপ্টেড অ্যাপ ব্যবহার করে দেশে থাকা নেতাকর্মীরা পলাতক শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। ডিসেম্বরকে সামনে রেখে কর্মীদের সক্রিয় রাখার পাশাপাশি রাজনৈতিকভাবে সংগঠিত হওয়ার চেষ্টাও চলছে।সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জের পলাতক নেতা শামীম ওসমানের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ওই ভিডিওতে তাকে ডিসেম্বরকে সামনে রেখে নেতাকর্মীদের প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিতে দেখা যায় বলে সূত্রের দাবি।এসব তৎপরতার বিষয়ে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে একটি প্রতিবেদন তৈরি করে সরকারের উচ্চপর্যায়ে অবহিত করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে।ঝটিকা মিছিল নিয়ে সতর্কতানিজেদের শক্তির জানান দিতে গত দুই সপ্তাহে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের বেশ কয়েকটি ঝটিকা মিছিলের তথ্য পাওয়া গেছে।বনানী, ময়মনসিংহ, শরীয়তপুর, সাভার ও সুনামগঞ্জের কয়েকটি ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে। এ বিষয়ে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে বিভিন্ন ইউনিটকে সতর্ক করে মাঠপর্যায়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।ময়মনসিংহের গাঙ্গিনাপাড় এলাকায় যুবলীগের নেতাকর্মীদের ঝটিকা মিছিল প্রতিরোধে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে কোতোয়ালি মডেল থানার একটি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জসহ ২৭ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে বলেও সূত্র জানিয়েছে।পলাতক নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগগোয়েন্দা সূত্রের দাবি, গোপালগঞ্জ, শরীয়তপুর, মাদারীপুর, ফরিদপুর, গাজীপুর, নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জের নেতাকর্মীদের একটি অংশ বিদেশে অবস্থানরত শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন।টেলিগ্রাম, ফেসবুকসহ বিভিন্ন এনক্রিপ্টেড অ্যাপের মাধ্যমে যোগাযোগ এবং সাংগঠনিক কার্যক্রম সমন্বয়ের চেষ্টা চলছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সরকারবিরোধী তৎপরতার জন্য ব্যবসা-বাণিজ্যের আড়ালে অর্থের জোগান তৈরির অভিযোগও রয়েছে।সূত্রের তালিকায় বিদেশে অবস্থানরত বা পলাতক আওয়ামী লীগের একাধিক সাবেক মন্ত্রী, নেতা ও জনপ্রতিনিধির নাম রয়েছে।রাজধানীতে আত্মগোপনের অভিযোগগোয়েন্দা সূত্রের দাবি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়াতে আওয়ামী লীগের কিছু নেতাকর্মী রাজধানীর বিভিন্ন আবাসিক ও অপরাধপ্রবণ এলাকায় আত্মগোপনে রয়েছেন।ভাটারা, বনশ্রী, আফতাবনগর, মহানগর আবাসিক, খিলক্ষেত, নিকুঞ্জ, মোহাম্মদপুর, বসিলা, কামরাঙ্গীরচর, শনির আখড়া, যাত্রাবাড়ী ও উত্তরা এসব এলাকায় নজরদারি বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে।অভিযোগ রয়েছে, আত্মগোপনে থাকা কেউ কেউ রাইড শেয়ারিং, অটোরিকশা চালানো, বিউটি পার্লার কিংবা মোটরসাইকেলের ব্যবসার মতো পেশায় যুক্ত হয়েছেন। আবার কেউ কেউ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরি নিয়ে নিজেদের পরিচয় আড়াল করছেন।কিছু অনলাইন পোর্টাল ও ইউটিউব চ্যানেলের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের পক্ষে প্রচার এবং সরকারের বিরুদ্ধে জনমত তৈরির চেষ্টা চলছে বলেও গোয়েন্দা সূত্রের দাবি।নাশকতার আশঙ্কায় সতর্কতারাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পরিত্যক্ত অবস্থায় ককটেল ও বোমাসদৃশ বস্তু উদ্ধারের পাশাপাশি বিস্ফোরক ও বোমা তৈরির সরঞ্জাম জব্দের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক রয়েছে।গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের কেউ কেউ এসব ঘটনাকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর সম্ভাব্য প্রস্তুতির অংশ হিসেবে দেখছেন। তবে কোনো ঘটনার সঙ্গে আওয়ামী লীগের সম্পৃক্ততার অভিযোগ তদন্ত ও প্রমাণসাপেক্ষ বিষয়।পুলিশের এক অতিরিক্ত আইজি জানান, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় নিয়োগ পাওয়া মাঠপর্যায়ের কিছু কর্মকর্তা এখনো দায়িত্বে রয়েছেন। তাদের কারও কারও সঙ্গে বিদেশে অবস্থানরত সাবেক কর্মকর্তা ও দলীয় নেতাদের যোগাযোগ থাকার তথ্যও পাওয়া গেছে বলে তিনি দাবি করেন।সতর্ক থাকার পরামর্শসাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজি) আব্দুল কাইয়ুম বলেন, আওয়ামী লীগের অনেক নেতার বিপুল অর্থসম্পদ রয়েছে। সেই অর্থ ব্যবহার করে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা হতে পারে। তবে এ ধরনের প্রচেষ্টা সফল হওয়ার সম্ভাবনা কম বলেও তিনি মন্তব্য করেন।তার মতে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন ও গোয়েন্দা সংস্থাকে সতর্ক থাকতে হবে এবং আগাম তথ্যের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব.) নাঈম আশফাক চৌধুরী বলেন, দেশে বিশৃঙ্খলা তৈরি হলে নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্ষমতা আগের তুলনায় বেড়েছে এবং জনগণের সহযোগিতায় যেকোনো বিশৃঙ্খলা মোকাবিলা করা সম্ভব।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ বলেন, অপরাধ চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। কোনো মহল বিশেষ উদ্দেশ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর চেষ্টা করছে কি না, সে বিষয়ে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের আইনের আওতায় আনা হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ
কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত