প্রিন্ট এর তারিখ : ২৮ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৮ আগস্ট ২০২৬
নীলফামারীতে গ্রাহকের কোটি টাকা নিয়ে উধাও ব্যাংকের নৈশ প্রহরী
শাহজাহান আলী মনন, , নীলফামারী প্রতিনিধি:: ||
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার সোনালী ব্যাংকের একটি শাখার নৈশ প্রহরী ফিরোজ মিয়ার বিরুদ্ধে গ্রাহকদের প্রায় কোটি টাকা নিয়ে লাপাত্তা হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ব্যাংকের গ্রাহকদের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে।ব্যাংক সূত্র ও গ্রাহকদের অভিযোগ অনুযায়ী, কিশোরগঞ্জ সদর ইউনিয়নের ইসমাইল গ্রামের কছির উদ্দিনের ছেলে ফিরোজ মিয়া প্রায় ১৫ থেকে ২০ বছর ধরে ওই শাখায় নৈশ প্রহরী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তবে দীর্ঘদিন ধরে অফিস চলাকালেও তিনি গ্রাহকদের বিভিন্ন ব্যাংকিং কাজে সহযোগিতা করতেন।গ্রাহকদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা ও আস্থার সুযোগ নিয়ে ফিরোজ ব্যাংক হিসাব, ঋণসংক্রান্ত কাজ, টাকা জমা ও উত্তোলনসহ বিভিন্ন কাজে মধ্যস্থতা করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। কয়েকজন গ্রাহকের দাবি, ঋণ করে দেওয়ার কথা বলে তিনি চেকের পাতা, জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি, ছবি ও অলিখিত স্ট্যাম্পও সংগ্রহ করতেন।গ্রাহক সাইফুল ইসলাম অভিযোগ করেন, ফিরোজের মাধ্যমে ঋণসংক্রান্ত কাজ করানোর প্রবণতা ছিল অনেকের। তার দাবি, বিষয়টি তদন্ত করা হলে ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কারও সম্পৃক্ততা থাকলে সেটিও বেরিয়ে আসবে।অন্য এক গ্রাহক তাহেরা বেগম অভিযোগ করেন, মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার পর এফডিআরের টাকা তুলতে গেলে ফিরোজ তাকে চেক দিয়ে যেতে বলেন। পরে ব্যাংকে গিয়ে তিনি জানতে পারেন তার অ্যাকাউন্টে টাকা নেই। বিষয়টি ব্যাংক ব্যবস্থাপককে জানালে তিনি টাকা ফেরতের আশ্বাস দেন।ব্যাংক ব্যবস্থাপক পংকজ কান্তি রায় জানান, ফিরোজ মিয়া গত ২০ জুলাই থেকে ব্যাংকে আসা বন্ধ করে দেন। পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে ঢাকায় যাওয়ার কথা জানানো হলেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পরে তার বাড়িতে নোটিশ পাঠানো হয়।ব্যবস্থাপক আরও জানান, বিষয়টি জানার পর ১০ থেকে ১৫ জন আমানতকারী ব্যাংকে এসে তাদের অ্যাকাউন্টে টাকা না পাওয়ার কথা জানান। ইতোমধ্যে কয়েকজন গ্রাহককে ১৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে। তবে মোট কত টাকা আত্মসাৎ হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।ফিরোজের বাবা কছির উদ্দিন দাবি করেন, তার ছেলে ব্যাংকের কয়েকজন গ্রাহকের টাকা তুলে নিয়েছে। এর মধ্যে কয়েকজন গ্রাহকের ১৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যাংক ব্যবস্থাপকের মাধ্যমে ফেরত দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে প্রায় কোটি টাকা নেওয়ার কথা শুনেছেন বলেও জানান তিনি।অভিযুক্ত ফিরোজ মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।এ ঘটনায় ব্যাংকের পক্ষ থেকে কিশোরগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। কিশোরগঞ্জ থানার ওসি আব্দুল গফুর মিয়া জানান, নৈশ প্রহরী ফিরোজ মিয়া গত ২০ জুলাই থেকে নিখোঁজ রয়েছেন। তার সন্ধানে পুলিশ কাজ করছে।এদিকে ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর কিশোরগঞ্জের ব্যাংকপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে গ্রাহকদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। ব্যাংক খোলার পর নিজেদের হিসাবের টাকা যাচাই করতে অনেক গ্রাহক অপেক্ষা করছেন।গ্রাহকদের একটি অংশের দাবি, এত বড় অঙ্কের অর্থ আত্মসাতের ঘটনা এককভাবে একজন নৈশ প্রহরীর পক্ষে সম্ভব কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ব্যাংকের কর্মকর্তাদের কোনো ধরনের গাফিলতি বা সহযোগিতা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন তারা।
সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ
কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত