প্রিন্ট এর তারিখ : ২৫ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৫ আগস্ট ২০২৬
তৃতীয় ভাষা চালু থেকে ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয়: ইবির ১৫ বড় পরিকল্পনা
চেকপোস্ট নিউজ, ||
তৃতীয় ভাষা শিক্ষা চালু, বিশ্ববিদ্যালয়-ইন্ডাস্ট্রি কোলাবোরেশন, ডিজিটাল রূপান্তর, ক্যাম্পাস নিরাপত্তা ও কর্মমুখী শিক্ষা নিশ্চিত করতে ১৫টি গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) প্রশাসন।মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের কনফারেন্স কক্ষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এসব পরিকল্পনার কথা জানান উপাচার্য অধ্যাপক ড. মতিনুর রহমান। সভায় উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেন, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. ইদ্রিস আলীসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মরত সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।উপাচার্য জানান, শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধি, গবেষণা সম্প্রসারণ, শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং বিশ্ববিদ্যালয়কে আধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানের প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের লক্ষ্যেই এসব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।চায়নিজ-জাপানিজসহ তৃতীয় ভাষা শিক্ষাইবিতে আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউট চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে তৃতীয় ভাষা হিসেবে চায়নিজ, জাপানিজ ও অ্যারাবিক ভাষা শিক্ষার সুযোগ তৈরি হবে। প্রাথমিকভাবে চায়নিজ ও জাপানিজ ভাষা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।বিশ্ববিদ্যালয়-ইন্ডাস্ট্রি সংযোগশিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপ ও চাকরির সুযোগ বাড়াতে বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে কার্যকর যোগাযোগ গড়ে তোলা হবে। এ লক্ষ্যে আগামী মাসে বিশ্ববিদ্যালয়-ইন্ডাস্ট্রি কোলাবোরেশন প্রোগ্রামের আয়োজন করা হবে।নিরাপদ ও স্থিতিশীল ক্যাম্পাসক্যাম্পাসে সহিংসতা, র্যাগিং, যৌন হয়রানি ও অন্যান্য অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা বন্ধে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মানসিক সহায়তা ও কাউন্সেলিং কার্যক্রম জোরদার করা হবে।শিক্ষা সহায়ক তহবিল ও উচ্চশিক্ষা এনডাউমেন্টশিক্ষার্থীদের সহায়তায় স্টুডেন্ট সাপোর্ট অ্যান্ড হায়ার এডুকেশন এনডাউমেন্ট ফান্ড গঠনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।মানসম্মত শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নকারিকুলামে বাস্তবভিত্তিক ও ব্যবহারিক বিষয় যুক্ত করে শিক্ষাকে আরও যুগোপযোগী করা হবে। শুধু ডিগ্রি নয়, দক্ষ ও যোগ্য মানবসম্পদ তৈরিতে গুরুত্ব দেওয়া হবে।ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয়ের পথে ইবিডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন ও এআই প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য ‘ইডিইউ আইডি’ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এতে ভর্তি থেকে সার্টিফিকেট অর্জন পর্যন্ত শিক্ষার্থীর সব তথ্য ও ডিজিটাল সেবা এক প্ল্যাটফর্মে থাকবে।আন্তর্জাতিক যোগাযোগ বৃদ্ধিইন্টারন্যাশনাল সেলের কার্যক্রম আরও সক্রিয় করে বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।স্মার্ট ক্যাম্পাস ও ডিজিটাল লাইব্রেরিস্মার্ট ক্যাম্পাস, ডিজিটাল লাইব্রেরি ও গবেষণা অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে একটি আধুনিক একাডেমিক ইকোসিস্টেম গড়ে তোলা হবে।অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোঅবসরপ্রাপ্ত অভিজ্ঞ শিক্ষকদের সুপারনিউমারারি শিক্ষক হিসেবে নিয়োগের সরকারি উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবে দেখছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এর মাধ্যমে তাদের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানশিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানযোগ্য করতে ডিজিটাল লিটারেসি, যোগাযোগ দক্ষতা, নেতৃত্ব, সমস্যা সমাধান ও ক্রিটিক্যাল থিংকিংয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।ভবিষ্যতের কর্মক্ষেত্রের প্রস্তুতিএআই, ডেটা সায়েন্স, রোবোটিক্স, সাইবার সিকিউরিটি, গ্রিন টেকনোলজি ও ডিজিটাল উদ্যোক্তা তৈরির মতো খাতে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত করা হবে। পাশাপাশি চাকরির পাশাপাশি উদ্যোক্তা হওয়ার মানসিকতা তৈরিতেও জোর দেওয়া হবে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আশা, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় আধুনিক, দক্ষতা-ভিত্তিক ও আন্তর্জাতিক মানের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ
কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত