প্রিন্ট এর তারিখ : ২৪ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৪ আগস্ট ২০২৬
ইনসুলিন সেনসিটিভিটি বাড়লে শরীরে দেখা দিতে পারে যেসব পরিবর্তন
চেকপোস্ট নিউজ, ||
রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে ইনসুলিনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শরীরের কোষগুলো যখন ইনসুলিনের প্রতি ভালোভাবে সাড়া দেয়, তখন রক্তের গ্লুকোজ সহজে ব্যবহার করতে পারে শরীর। এই অবস্থাকে বলা হয় ইনসুলিন সেনসিটিভিটি।অন্যদিকে, কোষগুলো ইনসুলিনের সংকেতে ঠিকমতো সাড়া না দিলে তৈরি হয় ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স। দীর্ঘদিন এ সমস্যা থাকলে প্রিডায়াবেটিস ও টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়তে পারে।স্বাস্থ্যকর খাবার, নিয়মিত ব্যায়াম, ওজন নিয়ন্ত্রণ ও সঠিক জীবনযাপনের মাধ্যমে অনেক ক্ষেত্রে ইনসুলিন সেনসিটিভিটি উন্নত করা সম্ভব। তবে শরীরে কিছু পরিবর্তন দেখা দিতে পারে, যা ইতিবাচক পরিবর্তনের সম্ভাব্য ইঙ্গিত হতে পারে।ঘাড়ের কালচে দাগ হালকা হওয়াইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সের সঙ্গে অনেক সময় ঘাড়, বগল বা শরীরের ভাঁজে কালচে ও মোটা ত্বকের পরিবর্তন দেখা যায়। এই অবস্থাকে বলা হয় অ্যাক্যানথোসিস নিগ্রিক্যানস।ইনসুলিন সেনসিটিভিটি উন্নত হলে কারও কারও ক্ষেত্রে এই কালচে ভাব ধীরে ধীরে কমতে পারে। তবে শুধু ত্বকের পরিবর্তন দেখে নিশ্চিতভাবে বলা যায় না যে ইনসুলিনের সমস্যা কমেছে।ত্বকের তৈলাক্তভাব ও ব্রণ কমাশরীরের হরমোন ও বিপাকীয় পরিবর্তনের সঙ্গে ত্বকের সমস্যার সম্পর্ক থাকতে পারে। জীবনযাত্রার উন্নতি হলে কিছু মানুষের ত্বকের তৈলাক্তভাব বা ব্রণের সমস্যা কমতে পারে।তবে ব্রণ কমে যাওয়া মানেই ইনসুলিন সেনসিটিভিটি বেড়েছে—এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়। বয়স, হরমোন, ত্বকের যত্ন ও খাদ্যাভ্যাসও এতে প্রভাব ফেলে।কোমর ও পেটের মেদ কমাপেটের অতিরিক্ত চর্বি ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। নিয়মিত ব্যায়াম ও স্বাস্থ্যকর খাবারের মাধ্যমে কোমরের মাপ কমলে তা শরীরের বিপাকীয় স্বাস্থ্যের উন্নতির ইঙ্গিত হতে পারে।তবে দ্রুত ওজন কমানো নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যকর উপায়ে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা গুরুত্বপূর্ণ।ওজন ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণে আসাইনসুলিন সেনসিটিভিটি উন্নত হলে অনেকের ওজন নিয়ন্ত্রণ সহজ হতে পারে। নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম পেশিকে গ্লুকোজ ব্যবহারে সাহায্য করে এবং ইনসুলিনের কার্যকারিতা বাড়াতে পারে।তবে শুধু ওজন কমছে বলেই ইনসুলিন সমস্যা দূর হয়েছে—এমনটা ধরে নেওয়া যাবে না।খাওয়ার পর ক্লান্তি কমতে পারেইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স থাকলে কিছু মানুষের খাবারের পর অতিরিক্ত ক্লান্তি, বারবার ক্ষুধা লাগা বা ওজন কমাতে সমস্যা হতে পারে।জীবনযাত্রার পরিবর্তনের পর যদি কর্মক্ষমতা বাড়ে, ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং শরীর আগের তুলনায় ভালো অনুভব করে, তা সামগ্রিক স্বাস্থ্যের উন্নতির ইঙ্গিত হতে পারে।শুধু বাহ্যিক পরিবর্তনই যথেষ্ট নয়ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স অনেক সময় কোনো স্পষ্ট লক্ষণ ছাড়াই থাকতে পারে। তাই শুধু ত্বক বা ওজন দেখে নিজের অবস্থা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।রক্তে গ্লুকোজ, এইচবিএ১সি এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য পরীক্ষার মাধ্যমে প্রকৃত অবস্থা জানা যায়। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিজে নিজে রোগ নির্ণয় করা উচিত নয়।ইনসুলিন সেনসিটিভিটি বাড়াতে করণীয়
নিয়মিত শরীরচর্চা করা
অতিরিক্ত ওজন থাকলে ধীরে ধীরে কমানো
শাকসবজি, ফল ও পুষ্টিকর খাবার খাওয়া
অতিরিক্ত চিনি ও অস্বাস্থ্যকর খাবার কমানো
পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করা
দীর্ঘ সময় বসে না থেকে নিয়মিত নড়াচড়া করা
কখন পরীক্ষা করানো জরুরি?যাদের ওজন বেশি, পেটে অতিরিক্ত মেদ রয়েছে, পরিবারে ডায়াবেটিসের ইতিহাস আছে বা রক্তে শর্করা বাড়ার ঝুঁকি রয়েছে—তাদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা গুরুত্বপূর্ণ।ঘাড় বা বগলে কালচে ত্বক, অস্বাভাবিক ক্লান্তি, অতিরিক্ত ক্ষুধা, ওজন নিয়ন্ত্রণে সমস্যা বা রক্তে শর্করার পরিবর্তন থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
ইনসুলিন সেনসিটিভিটি উন্নত হচ্ছে কি না, তা সবসময় আয়নায় দেখা যায় না। তবে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষার মাধ্যমে শরীরের বিপাকীয় স্বাস্থ্যের প্রকৃত অবস্থা জানা সম্ভব।
সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ
কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত