প্রিন্ট এর তারিখ : ২৪ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৪ আগস্ট ২০২৬
২৫ হাজার কোটি ঋণের চাপ, সিটি গ্রুপের নতুন পুঁজিবাজার মিশন
চেকপোস্ট নিউজ, ||
দেশের ভোগ্যপণ্য খাতের অন্যতম বড় প্রতিষ্ঠান সিটি গ্রুপ এখন বড় আর্থিক চাপে রয়েছে। ‘তীর’ ব্র্যান্ডের জন্য পরিচিত এই শিল্পগোষ্ঠীর ব্যাংকঋণের পরিমাণ প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকা, যা প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে।এই সংকটের মধ্যেই পুঁজিবাজার থেকে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে সিটি গ্রুপ। এ কাজে ব্যাংকিং পার্টনার হিসেবে রয়েছে ওয়ান ব্যাংক এবং ইস্যু ম্যানেজার হিসেবে কাজ করছে লংকাবাংলা ইনভেস্টমেন্ট।তবে বড় প্রশ্ন উঠেছে বিপুল ঋণের চাপ থাকা একটি প্রতিষ্ঠান নতুন করে পুঁজিবাজার থেকে অর্থ তুললে এর ঝুঁকি শেষ পর্যন্ত কার ওপর পড়বে? বিশেষ করে নতুন অর্থ যদি পুরোনো ঋণ ও আর্থিক দায় সামলাতে ব্যবহৃত হয়, তাহলে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা কতটা নিরাপদ থাকবেন, তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।৪৭ ব্যাংকে প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকা ঋণবাংলাদেশ ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত মার্চ পর্যন্ত সিটি গ্রুপের দেশি-বিদেশি ৪৭টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৪ হাজার ৯১১ কোটি টাকা।এর মধ্যে বড় পাওনাদারদের তালিকায় রয়েছে এইচএসবিসি, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড, সিটি ব্যাংক, ইউসিবি ও ইস্টার্ন ব্যাংক। ঋণের একটি বড় অংশের কিস্তি পরিশোধে চাপ তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ নীতি সহায়তায় আগামী সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সিটি গ্রুপের ঋণকে কাগজে-কলমে নিয়মিত রাখা হচ্ছে। তবে এটি আর্থিক সংকট কাটিয়ে ওঠার প্রমাণ নয়, বরং সাময়িক সুবিধা হিসেবে দেখা হচ্ছে।পুঁজিবাজারে দেড় হাজার কোটি টাকার লক্ষ্যসিটি গ্রুপ আইপিও, করপোরেট বন্ড, সুকুক বা প্রেফারেন্স শেয়ারের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহের পরিকল্পনা করছে। এর আগে ব্র্যাক ব্যাংকের মাধ্যমে একই পরিমাণ অর্থ সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হলেও আর্থিক ঝুঁকি বিবেচনায় সেই প্রক্রিয়া থেকে সরে আসে ব্যাংকটি।এখন নতুন করে অর্থ সংগ্রহের উদ্যোগ সফল হলে প্রশ্ন থাকবে এই অর্থ ব্যবসা সম্প্রসারণে যাবে, নাকি পুরোনো দায় সামলাতে ব্যবহার হবে?বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বড় ঋণের বোঝা থাকা কোনো প্রতিষ্ঠানের নতুন সিকিউরিটিতে বিনিয়োগের আগে আর্থিক সক্ষমতা, নগদ প্রবাহ ও ঋণ পরিশোধের পরিকল্পনা ভালোভাবে যাচাই করা জরুরি।হোসেন্দী প্রকল্পে বড় বিনিয়োগ, বাড়ে চাপসিটি গ্রুপের আর্থিক সংকটের পেছনে মুন্সিগঞ্জের হোসেন্দী অর্থনৈতিক অঞ্চলে বড় বিনিয়োগ অন্যতম কারণ হিসেবে উঠে এসেছে। বিশাল এই প্রকল্পে কারখানা প্রস্তুত থাকলেও দীর্ঘ সময় গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগ না পাওয়ায় প্রত্যাশিত উৎপাদন শুরু হয়নি।এদিকে ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়নে প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা বৈদেশিক মুদ্রা লোকসান হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। পাশাপাশি সুদের হার বেড়ে যাওয়ায় আর্থিক চাপ আরও বেড়েছে।ঋণের চাপ কমাতে সম্পদ বিক্রির পথও খুঁজছে সিটি গ্রুপ। এর মধ্যে অর্থনৈতিক অঞ্চলের কিছু সম্পদ, চা-বাগান, মিডিয়া প্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য বিনিয়োগ বিক্রির সম্ভাবনা যাচাই করা হচ্ছে।বিনিয়োগকারীদের সামনে বড় প্রশ্নসিটি গ্রুপের পুঁজিবাজারে প্রবেশের উদ্যোগে সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় হচ্ছে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকি।বিশ্লেষকদের প্রশ্ন, ব্যাংকঋণের চাপ থাকা অবস্থায় নতুন করে বন্ড বা শেয়ার ইস্যু করে অর্থ সংগ্রহ করা হলে সেই ঝুঁকির একটি অংশ কি সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ওপর চলে যাবে?কারণ নতুন অর্থ যদি উৎপাদন বাড়ানোর বদলে পুরোনো ঋণ ও সুদ পরিশোধে ব্যবহৃত হয়, তাহলে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান তৈরি নাও হতে পারে।
১৯৭২ সালে যাত্রা শুরু করা সিটি গ্রুপ বর্তমানে ৪০টির বেশি প্রতিষ্ঠানের একটি বড় শিল্পগোষ্ঠী। ‘তীর’সহ বিভিন্ন জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের মাধ্যমে দেশের ভোগ্যপণ্য বাজারে শক্ত অবস্থান রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির। তবে বর্তমান ঋণ সংকট শুধু একটি কোম্পানির বিষয় নয় এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে ব্যাংক, কর্মসংস্থান ও দেশের নিত্যপণ্যের বাজার।
সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ
কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত