প্রিন্ট এর তারিখ : ২৩ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৩ আগস্ট ২০২৬
লিভার নষ্ট হলে মস্তিষ্কে বিপদ! দেখা দিতে পারে ভয়ংকর এসব লক্ষণ
চেকপোস্ট নিউজ, ||
লিভার শুধু হজম ও শরীর থেকে ক্ষতিকর পদার্থ দূর করার কাজই করে না, এর সঙ্গে মস্তিষ্কেরও রয়েছে গভীর সম্পর্ক। লিভারের গুরুতর সমস্যা হলে তার প্রভাব সরাসরি মস্তিষ্কের কার্যক্রমে পড়তে পারে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।চিকিৎসাবিজ্ঞানে লিভার ও মস্তিষ্কের এই জটিল যোগাযোগকে বলা হয় লিভার-ব্রেন অক্ষ। রক্তপ্রবাহ, বিপাকক্রিয়া, রোগ প্রতিরোধব্যবস্থা, হরমোন, স্নায়ু এবং অন্ত্রের জীবাণুর মাধ্যমে এই দুই অঙ্গের মধ্যে যোগাযোগ তৈরি হয়।লিভার ক্ষতিগ্রস্ত হলে মস্তিষ্কে কী হয়?সুস্থ লিভার শরীরে তৈরি হওয়া অ্যামোনিয়াকে ইউরিয়ায় রূপান্তর করে শরীর থেকে বের হতে সাহায্য করে। কিন্তু লিভার মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলে এই প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়।ফলে রক্তে অ্যামোনিয়া ও অন্যান্য ক্ষতিকর পদার্থ জমে মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যক্রমে বাধা দিতে পারে। এই অবস্থাকে বলা হয় হেপাটিক এনসেফালোপ্যাথি।এতে শুরুতে মনোযোগ কমে যাওয়া, ভুলে যাওয়া বা চিন্তা করতে সমস্যা হতে পারে। পরে আচরণ পরিবর্তন, অতিরিক্ত ঘুম, বিভ্রান্তি এমনকি অচেতন হওয়ার মতো গুরুতর সমস্যাও দেখা দিতে পারে।যেসব লক্ষণে সতর্ক হতে হবেলিভারের সমস্যার কারণে মস্তিষ্কে প্রভাব পড়লে সাধারণত যেসব লক্ষণ দেখা দিতে পারে—
মনোযোগ ধরে রাখতে সমস্যা
স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়া
সিদ্ধান্ত নিতে ধীর হয়ে যাওয়া
আচরণ বা ব্যক্তিত্বে পরিবর্তন
অতিরিক্ত ঘুম ঘুম ভাব
সময় ও স্থান সম্পর্কে বিভ্রান্তি
কথা জড়িয়ে যাওয়া
হাত-পায়ে অস্বাভাবিক কাঁপুনি
গুরুতর অবস্থায় অচেতন হয়ে যাওয়া
তবে এসব লক্ষণ থাকলেই যে লিভারের রোগ রয়েছে, এমন নয়। অন্য অনেক কারণেও এ ধরনের সমস্যা হতে পারে।শুধু অ্যামোনিয়া নয়, আরও কারণ রয়েছেলিভারের রোগে মস্তিষ্কে প্রভাব পড়ার পেছনে শুধু অ্যামোনিয়াই দায়ী নয়। দীর্ঘদিনের প্রদাহ, বিপাকীয় পরিবর্তন, ইনসুলিনের কার্যক্রমের সমস্যা, রক্তনালির পরিবর্তন এবং অন্ত্রের জীবাণুর ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার মতো বিষয়ও ভূমিকা রাখতে পারে।গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, লিভার, অন্ত্র ও মস্তিষ্ক একে অন্যের সঙ্গে জটিলভাবে যুক্ত। এ কারণে একটি অঙ্গের সমস্যা অন্য অঙ্গের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।ফ্যাটি লিভার কি মস্তিষ্কের ক্ষতি করে?ফ্যাটি লিভার বা মেটাবলিক ডিসফাংশন অ্যাসোসিয়েটেড স্টিয়াটোটিক লিভার ডিজিজ (MASLD) এখন বিশ্বজুড়ে একটি বড় স্বাস্থ্য সমস্যা।অতিরিক্ত ওজন, ডায়াবেটিস, রক্তে চর্বির মাত্রা বেড়ে যাওয়া এবং অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের সঙ্গে এর সম্পর্ক রয়েছে।সাম্প্রতিক গবেষণায় ফ্যাটি লিভারের সঙ্গে মস্তিষ্কের কার্যক্রমের সম্ভাব্য সম্পর্ক খুঁজে দেখা হচ্ছে। প্রদাহ, ইনসুলিন প্রতিরোধ, অক্সিডেটিভ স্ট্রেস এবং অন্ত্র-লিভার-মস্তিষ্কের যোগাযোগের পরিবর্তন এর সঙ্গে যুক্ত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।তবে এখনো এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি যে ফ্যাটি লিভার সরাসরি ডিমেনশিয়া বা স্মৃতিশক্তি নষ্ট করে।লিভার ভালো রাখার উপায়লিভারের পাশাপাশি মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে কিছু অভ্যাস গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখুন: অতিরিক্ত ওজন ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।নিয়মিত ব্যায়াম করুন: হাঁটা, সাইকেল চালানো বা নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রম লিভারের জন্য উপকারী।সুষম খাবার খান: শাকসবজি, ফল, ডাল ও আঁশযুক্ত খাবার খাদ্যতালিকায় রাখুন। অতিরিক্ত চিনি ও অস্বাস্থ্যকর চর্বি কমান।ডায়াবেটিস ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ করুন: এসব সমস্যা ফ্যাটি লিভারের সঙ্গে সম্পর্কিত।অপ্রয়োজনীয় ওষুধ এড়িয়ে চলুন: চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ বা ভেষজ সাপ্লিমেন্ট গ্রহণে সতর্ক থাকুন।হঠাৎ আচরণ বদলালে জরুরি সতর্কতাদীর্ঘদিনের লিভার রোগীর ক্ষেত্রে হঠাৎ আচরণ পরিবর্তন, বিভ্রান্তি, অস্বাভাবিক ঘুম, কথা জড়িয়ে যাওয়া বা সচেতনতা কমে যাওয়া গুরুতর সংকেত হতে পারে।এ ধরনের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন, কারণ এটি হেপাটিক এনসেফালোপ্যাথির লক্ষণ হতে পারে।
লিভারের যত্ন মানে শুধু একটি অঙ্গকে সুস্থ রাখা নয়, পুরো শরীরের স্বাস্থ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করা। সঠিক খাবার, নিয়মিত ব্যায়াম, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসার মাধ্যমে লিভার ও মস্তিষ্ক দুইয়েরই সুস্থতা বজায় রাখা সম্ভব।
সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ
কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত