প্রিন্ট এর তারিখ : ২৩ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৩ আগস্ট ২০২৬
অ্যালার্ম ছাড়াই প্রতিদিন একই সময়ে ওঠা কি সম্ভব?
চেকপোস্ট নিউজ, ||
অনেকেরই এমন অভিজ্ঞতা হয় অ্যালার্ম বাজার আগেই ঠিক নির্ধারিত সময়ে ঘুম ভেঙে যায়। ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখা যায়, প্রতিদিন যে সময়ে ওঠেন, আজও ঠিক সেই সময়েই চোখ খুলেছে। বিষয়টি অবাক করার মতো হলেও এর পেছনে রয়েছে শরীরের স্বাভাবিক জৈবিক ব্যবস্থা।মানুষের শরীরে রয়েছে একটি জৈবঘড়ি, যা ঘুম, জাগরণ, শরীরের শক্তি ও দৈনন্দিন কার্যক্রমের ছন্দ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমানো ও ওঠার অভ্যাস তৈরি হলে এই জৈবঘড়ি আরও নিয়মিত হয়ে উঠতে পারে।শরীরের ভেতরের ঘড়ি কীভাবে কাজ করে?মস্তিষ্কের একটি বিশেষ ব্যবস্থা শরীরের প্রায় ২৪ ঘণ্টার ছন্দ বা সার্কাডিয়ান রিদম নিয়ন্ত্রণ করে। কখন ঘুম আসবে এবং কখন জেগে উঠতে হবে, তা নির্ধারণে এই ছন্দ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।সকালের আলো চোখে পৌঁছালে মস্তিষ্ক বুঝতে পারে দিনের শুরু হয়েছে। অন্যদিকে রাতে অন্ধকার বাড়লে শরীরে মেলাটোনিন হরমোনের মাত্রা বাড়ে, যা ঘুমের প্রস্তুতি নিতে সাহায্য করে।নিয়মিত সময়ে উঠলে শরীরে কী পরিবর্তন হয়?যদি কেউ প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমান ও জেগে ওঠেন, তাহলে শরীর ধীরে ধীরে সেই রুটিনের সঙ্গে মানিয়ে নেয়।যেমন, প্রতিদিন রাত ১১টায় ঘুমিয়ে সকাল ৭টায় ওঠার অভ্যাস থাকলে কিছুদিন পর শরীর নিজেই ওই সময়ের কাছাকাছি জাগরণের প্রস্তুতি নিতে পারে। ফলে অ্যালার্ম ছাড়াই ঘুম ভেঙে যেতে পারে।এর সঙ্গে হরমোনের পরিবর্তন, শরীরের তাপমাত্রা ও ঘুমের স্বাভাবিক চক্রও জড়িত।তবে কি অ্যালার্মের প্রয়োজন নেই?সবসময় নয়। যারা নিয়মিত জীবনযাপন করেন, পর্যাপ্ত ঘুমান এবং একই সময়সূচি মেনে চলেন, তাদের অনেকেই অ্যালার্ম ছাড়াই উঠতে পারেন।তবে গুরুত্বপূর্ণ কোনো দিন যেমন পরীক্ষা, ভ্রমণ বা জরুরি কাজের সময় শুধু শরীরের ওপর নির্ভর করা ঠিক নয়। দেরিতে ঘুমানো, ঘুমের ঘাটতি বা রুটিন বদলে গেলে শরীর নির্ধারিত সময়ে জেগে নাও উঠতে পারে।অ্যালার্মের আগেই ঘুম ভাঙে কেন?নিয়মিত অভ্যাসের কারণে শরীর নির্দিষ্ট সময়ের কাছাকাছি জেগে ওঠার জন্য প্রস্তুতি নিতে পারে। তবে এর পেছনে মানসিক চাপ বা উদ্বেগও কাজ করতে পারে।পরদিন গুরুত্বপূর্ণ কোনো কাজ থাকলে মস্তিষ্ক সেটি নিয়ে সচেতন থাকে। ফলে ঘুম হালকা হয়ে গিয়ে অ্যালার্ম বাজার আগেই ঘুম ভেঙে যেতে পারে।ভালো ঘুমের জন্য কী করবেন?অ্যালার্ম ছাড়াই স্বাভাবিক সময়ে উঠতে চাইলে কিছু অভ্যাস গুরুত্বপূর্ণ—
প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমাতে যাওয়া ও ওঠা
সকালে প্রাকৃতিক আলোতে থাকা
রাতে ঘুমের আগে অতিরিক্ত আলো ও স্ক্রিন কমানো
পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করা
রাতে অতিরিক্ত ক্যাফেইন এড়িয়ে চলা
ঘুমের আগে মানসিক চাপ কমানো
ছুটির দিনেও রুটিন জরুরিকর্মদিবসে সকাল ৭টায় উঠে ছুটির দিনে দুপুর পর্যন্ত ঘুমালে শরীরের জৈবঘড়ি বিঘ্নিত হতে পারে। তাই ছুটির দিনেও ঘুম ও জাগরণের সময় খুব বেশি পরিবর্তন না করাই ভালো।তবে প্রতিদিন একদম একই সময়ে উঠতেই হবে—এমন কোনো কঠোর নিয়ম নেই। মূল বিষয় হলো শরীরকে একটি নিয়মিত ছন্দে রাখা।অ্যালার্ম ছাড়া ওঠা কি ভালো ঘুমের প্রমাণ?অ্যালার্ম ছাড়াই ঘুম ভেঙে যাওয়া নিয়মিত ঘুমের ছন্দের একটি ভালো লক্ষণ হতে পারে। কিন্তু এটিই ভালো ঘুমের একমাত্র প্রমাণ নয়।আপনি পর্যাপ্ত সময় ঘুমাচ্ছেন কি না, সকালে সতেজ অনুভব করছেন কি না এবং দিনের বেলায় অতিরিক্ত ক্লান্তি হচ্ছে কি না—এসব বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ।কেউ ৫ ঘণ্টা ঘুমিয়েও অ্যালার্ম ছাড়া উঠতে পারেন, কিন্তু তার মানে এই নয় যে তার শরীর পর্যাপ্ত বিশ্রাম পাচ্ছে।বয়স ও ব্যক্তিভেদে বদলায় ঘুমের ধরনশিশু, কিশোর, প্রাপ্তবয়স্ক ও বয়স্কদের ঘুমের প্রয়োজন আলাদা। আবার কেউ সকালে বেশি সক্রিয়, কেউ রাতে বেশি সতর্ক থাকেন। এই স্বাভাবিক পার্থক্যকে বলা হয় ক্রোনোটাইপ।তাই একজন ব্যক্তি ভোরে সহজে উঠে যেতে পারছেন বলেই সবার জন্য একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে না।শেষ কথাঅ্যালার্ম ছাড়াই প্রতিদিন একই সময়ে ঘুম থেকে ওঠা সম্ভব, যদি শরীর নিয়মিত ঘুমের অভ্যাসের সঙ্গে মানিয়ে নেয়। পর্যাপ্ত ঘুম, সকালের আলো এবং নির্দিষ্ট রুটিন শরীরের জৈবঘড়িকে আরও কার্যকর করে তোলে।
তবে শরীরের জৈবঘড়ি নিখুঁত নয়। জরুরি সময়ে অ্যালার্ম ব্যবহার করাই নিরাপদ। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সময়মতো ওঠার চেয়ে ভালো মানের ও পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করা।
সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ
কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত