প্রিন্ট এর তারিখ : ২৩ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৩ আগস্ট ২০২৬
আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের পরিপন্থী ধর্ম প্রতিমন্ত্রীকে প্রত্যাহারের দাবী- পীর সাহেব ফান্দাউক দরবার শরীফ
মোযযাম্মিল হক:: ||
আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের আকিদা, আদর্শ ও পীর মাশায়েখদের মূল্যবোধের পরিপন্থী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ তুলে নবনিযুক্ত ধর্ম প্রতিমন্ত্রী গাইবান্ধার এমপি শামীম কায়ছার লিংকনকে অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন ঐতিহ্যবাহী ফান্দাউক দরবার শরীফের বর্তমান পীর ও বাংলাদেশ আঞ্জুমানে খাদিমুল ইসলামের আমীর। শাহসুফী মাওলানা মুফতি সৈয়দ ছালেহ আহমাদ মামুন আল-হোসাইনী। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানের ধর্মীয় অনুভূতি, আকিদা-বিশ্বাস ও ঐতিহ্যকে বিবেচনায় নিয়ে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ধর্মবিষয়ক দায়িত্বে এমন কাউকে রাখা উচিত নয়, যার কর্মকাণ্ড নিয়ে হানাফি সুন্নী ৯০ শতাংশ মুসলিম সমাজে প্রশ্ন ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, “আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের আকিদা ও আদর্শের বিরোধী কোনো ব্যক্তি ধর্ম মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকলে তা দেশের বৃহৎ মুসলিম জনগোষ্ঠীর মধ্যে অসন্তোষ ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে। তাই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট ধর্ম প্রতিমন্ত্রীকে প্রত্যাহার করতে হবে।”পীর সাহেব বলেন, বাংলাদেশে ইসলাম, মুসলিম ঐতিহ্য, পীর-মাশায়েখ ও ওলামায়ে কেরামের অবদান ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমান বিএনপি সরকার এদেশের পীর মাশায়েখ ও আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের মতাদর্শে বিশ্বাসী মুসলমানদের সমর্থন নিয়েই ক্ষমতায় এসেছে তা ভূলে গেলে চলবেনা। ফান্দাউক দরবার শরীফ দীর্ঘদিন ধরে কোরআন-সুন্নাহর আলোকে মানুষের নৈতিক ও ধর্মীয় জীবন গঠনে কাজ করে আসছে।পীর সাহেব ফান্দাউক দরবার শরীফ বলেন, “আমরা কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত বিদ্বেষ থেকে কথা বলছি না। আমাদের বক্তব্য নীতিগত। ধর্ম মন্ত্রণালয় এমন একটি মন্ত্রণালয়, যার সঙ্গে দেশের ধর্মীয় মূল্যবোধ ও মুসলিম জনগোষ্ঠীর আবেগ সরাসরি সম্পৃক্ত। তাই এ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে এমন ব্যক্তিকে দেখতে চাই, যিনি কোরআন-সুন্নাহ, আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের আকিদা এবং দেশের ধর্মপ্রাণ মানুষের অনুভূতির প্রতি সম্মানশীল।”২৩ আগস্ট রবিবার ফান্দাউক দরবার শরীফে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ আঞ্জুমানে ইসলামী ছাত্র মহলের বার্ষিক কেন্দ্রীয় সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।তিনি প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ধর্মীয় সম্প্রীতি, শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সরকারের উচিত সব পক্ষের বক্তব্য গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করা এবং কোনো সম্প্রদায়ের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়—এমন সিদ্ধান্ত বা অবস্থান থেকে বিরত থাকা।এ সময় তিনি আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের আলেম-ওলামা, পীর-মাশায়েখ ও ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের শান্তিপূর্ণ ও ঐক্যবদ্ধভাবে নিজেদের দাবি তুলে ধরার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে ধর্মীয় বিষয়ে দায়িত্বশীল বক্তব্য প্রদান এবং সামাজিক সম্প্রীতি অক্ষুণ্ন রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।ধর্মীয় মূল্যবোধ ও জাতীয় ঐক্যের স্বার্থে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালনে দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানের ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি সংবেদনশীলতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন পীর সাহেব ফান্দাউক দরবার শরীফ। তিনি আশা প্রকাশ করেন, প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।উক্ত সম্মেলনে বাংলাদেশ আঞ্জুমানে ইসলামী ছাত্র মহলের কেন্দ্রীয় সভাপতি পীরজাদা মুফতী সৈয়দ বাকের মোস্তফা আল-হোসাইনীর সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন পীরজাদা মাওলানা মুফতী সৈয়দ মঈনুদ্দিন আহমাদ আল-হোসাইনী, মাওলানা মুফতী সৈয়দ আবুবকর সিদ্দিক আল-হোসাইনী, আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সচিব পীর মুফতী গিয়াসউদ্দিন আত-তাহেরী সহ বাংলাদেশ আঞ্জুমানে আঞ্জুমানে খাদিমুল ইসলাম ও ইসলামি ছাত্র মহলের কেন্দ্রীয় পরিষদের নেতৃবৃন্দ। সম্মেলন শেষে আগত মুসলিম জনতা পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী সাঃ উদযাপন উপলক্ষে সম্মিলিত ভাবে জসনে জুলুস ও আনন্দ মিছিল করে এবং দোয়া মোনাজাতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ
কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত