প্রিন্ট এর তারিখ : ২১ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২১ আগস্ট ২০২৬
মধুমতি নদী থেকে অবাধে মাটি উত্তোলন, ঝুঁকিতে বাঁধ ও জনপদ
গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি, ||
গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলায় মধুমতি নদী থেকে প্রকাশ্যে মাটি উত্তোলন ও বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র উপজেলার পাটগাতী ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় এক্সকাভেটর (ভেকু) দিয়ে নদীর চর ও তীরবর্তী এলাকা থেকে মাটি কেটে ট্রলার ও পল্টনে করে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যাচ্ছে।অপরিকল্পিতভাবে মাটি উত্তোলনের কারণে নদীর তীর, বাঁধ, চরাঞ্চল ও কৃষিজমি ক্ষতির মুখে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।স্থানীয়দের অভিযোগ, পাটগাতী ইউনিয়নের গহরডাঙ্গা, শ্রীরামকান্দী, সিঙ্গিপাড়া, পাটগাতী ব্রিজসহ আশপাশের প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকায় নিয়মিত মাটি উত্তোলন করা হচ্ছে। পরে এসব মাটি ইটভাটা ও বিভিন্ন নির্মাণকাজে ব্যবহারের জন্য বিক্রি করা হয়।সরেজমিনে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নদীর পাড় থেকে অপরিকল্পিতভাবে মাটি কাটার কারণে অনেক স্থানে তীর দুর্বল হয়ে পড়ছে। পাশাপাশি ভারী যানবাহনে মাটি পরিবহনের কারণে নদীপাড়ের সড়কও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।চর শ্রীরামকান্দির শিক্ষার্থী মো. ইব্রাহিম প্রিন্স বলেন, প্রতিদিন নদী থেকে মাটি নিয়ে ট্রলার চলাচল করতে দেখা যায়। এতে নদীর বাঁধের নিরাপত্তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।স্থানীয় বাসিন্দা সুজা মিয়া বলেন, নদীর পাড়ের পরিবারগুলো ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হলে বড় ধরনের সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে।স্থানীয় কয়েকজন মাটি ব্যবসায়ীর অভিযোগ, প্রশাসনকে বিষয়টি জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তাদের দাবি, কিছু ক্ষেত্রে পুকুর বা জলাশয় খননের অনুমতির সুযোগ কাজে লাগিয়ে নদীর চর ও আশপাশের এলাকা থেকে মাটি তুলে বিক্রি করা হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।টুঙ্গিপাড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি শেখ সালাউদ্দিন বলেন, প্রশাসনের কার্যকর নজরদারি না থাকায় মাটি উত্তোলন বন্ধ হচ্ছে না। নদীর পরিবেশ ও জননিরাপত্তা রক্ষায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।এ বিষয়ে টুঙ্গিপাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. শাহিন আলম জানান, নদী থেকে মাটি উত্তোলনের বিষয়টি তিনি আগে জানতেন না। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করবেন।টুঙ্গিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. দিদারুল আলম বলেন, বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয়দের দাবি, মধুমতি নদী রক্ষায় দ্রুত অভিযান পরিচালনা করে অবৈধ মাটি উত্তোলন বন্ধ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ
কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত