প্রিন্ট এর তারিখ : ২০ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২০ আগস্ট ২০২৬
রেমা-কালেঙ্গা ও সাতছড়িতে গাছ চুরি: আ’লীগ-বিএনপির ২০ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা
||
ক্ষমতার পটপরিবর্তন হলেও হবিগঞ্জের সংরক্ষিত বনাঞ্চলে থামেনি গাছ চুরি। চুনারুঘাটের রেমা-কালেঙ্গা অভয়ারণ্য ও সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে মূল্যবান গাছ কাটার অভিযোগে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতাকর্মীসহ ২০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে বন বিভাগ।সাতছড়ি বন্যপ্রাণী রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. মোবারক হোসেন বাদী হয়ে চুনারুঘাট থানায় বন আইনে মামলাটি দায়ের করেন।এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১২ জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ১৫ মে পর্যন্ত সাতছড়ি ও রেমা-কালেঙ্গা বনাঞ্চল থেকে বিরল প্রজাতির গাছ ও সেগুন অবৈধভাবে কেটে পাচার এবং চোরাই কাঠ কেনাবেচার অভিযোগের সত্যতা পায় গোয়েন্দা সংস্থা এনএসআই। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে একটি গোপনীয় প্রতিবেদনও দেওয়া হয়। পরে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে নেওয়া হয় আইনি ব্যবস্থা।মামলার এজাহারে বনের প্রায় ১৫ লাখ টাকার ক্ষতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।মামলায় উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক করিম সরকার, যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. শফিক মিয়া মহালদার, ছাত্রদলের সদস্যসচিব মারুফ মিয়া ও শ্রমিকদলের যুগ্ম আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর খানসহ বেশ কয়েকজনের নাম রয়েছে। এছাড়া চুনারুঘাট পূর্বাঞ্চলের গাছ চুরির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে মিরাশি ইউনিয়ন কৃষক লীগের সম্পাদক মিজানুর রহমান সোহাগের নামও উল্লেখ করা হয়েছে।মামলায় মুনায়েম, শফিকুল ইসলাম আবুল, কালা মিয়া, আব্দুল কুদ্দুস, জসিম, তাহির, জলিল, রফিক, হেলাল, মকবুল ও মাসুম বিল্লাহকেও আসামি করা হয়েছে। আর চোরাই কাঠ কেনার অভিযোগে বেলাল, জমরুত ও সোহেলকে আসামি করা হয়েছে।স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে একটি চক্র রেমা-কালেঙ্গা ও সাতছড়ির মূল্যবান বৃক্ষসম্পদ ধ্বংস করছে। ক্ষমতার পালাবদলের পরও প্রভাবশালী একটি সিন্ডিকেট নতুন করে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও অসাধু বন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগসাজশ করে বন উজাড় অব্যাহত রেখেছে বলে অভিযোগ তাদের।এদিকে, অভিযুক্তদের মধ্যে কয়েকজনের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা থাকার পরও গ্রেপ্তার না হওয়া নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে।তবে মামলার পর আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করেছে পুলিশ।চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তদন্ত শেষে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সংরক্ষিত এই বনাঞ্চলের জীববৈচিত্র্য ও মূল্যবান বৃক্ষসম্পদ রক্ষায় দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার এবং বন উজাড়ে জড়িত পুরো চক্রকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ
কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত