প্রিন্ট এর তারিখ : ১৪ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৪ আগস্ট ২০২৬
শায়েস্তাগঞ্জে মেলা ঘিরে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবী ছাত্রদলের অডিও ভাইরাল
||
শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার ব্রাহ্মণডুরা ইউনিয়নের মোজাহের উচ্চ বিদ্যালয় ও মাদ্রাসার সামনে মাসব্যাপী মেলার আয়োজনকে ঘিরে কয়েকদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা। মেলার আয়োজনের সঙ্গে উপজেলা যুবদলের নেতা তোফায়েল আহমেদ মনিরের সম্পৃক্ততা নিয়ে বিভিন্ন পোস্ট ও মন্তব্য করা হলেও, তিনি জানিয়েছেন—মেলার সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।এরই মধ্যে মেলা আয়োজনকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে প্রায় পাঁচ মিনিটের একটি অডিও রেকর্ড। অডিওতে ছাত্রদলের কয়েকজনের নাম উল্লেখের পাশাপাশি ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার বিষয়ে কথোপকথন শোনা যায়। তবে অডিওটির সত্যতা, কণ্ঠস্বর এবং এতে থাকা ব্যক্তিদের পরিচয় স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।ভাইরাল হওয়া অডিওতে একজনকে বলতে শোনা যায়— “আমি এখনো কইতাছি, পরেও কইমু, ভবিষ্যতেও কইমু। এই দুইজনরে সাক্ষী রাইখা কইতাছি—আমরা আমাগো ছাত্রদলের পোলাপাইনরে ৫০ হাজার টাকা দিলায়বায়, এরপর যা যা করা লাগে, আমরা সমাধান কিরা নিমু।” এরপর মেলা প্রতিনিধির সঙ্গে তার কথোপকথন হয়।মেলা প্রতিনিধি: “তোমরার কথাবার্তা ঠিক থাকবোনি?”ছাত্রদলের পক্ষে: “১০০ পার্সেন্ট? গ্যারান্টি আমি।” এরপর অডিওতে ওই ব্যক্তিকে আরও বলতে শোনা যায়— “কথাবার্তা কিতা, কালকা সকালে আমরা যারা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ছাত্রদল আছি, সবাই মিল্লা সুন্দর একটা আয়োজন করমু। আমরা এইটার পক্ষে সুন্দরভাবে বুঝাইয়া কমু—আমরা প্রশাসনের কাছে, প্রশাসনের লোকজন, এলাকার গণ্যমান্য বিএনপি নেতৃবৃন্দ যারা আছেন, সবাইরে নিয়া বসছি। বইসা একটা সমাধানে গেছি। যেহেতু আয়োজন কইরা লাইছে, এইভাবে আমি আমার মতো কইরা বুঝাইয়া কমু? যেহুতু লাখ টাকা ইনভেস্ট কইরা লাইছে, বাট আমরা মেলার বিরুদ্ধে না, আমরা এইটাই চাইছিলাম।”অডিওতে তাকে আরও বলতে শোনা যায়- “আমরা চাইছিলাম একটা সিকিউরিটি—মাদ্রাসার সিকিউরিটি, স্কুলের সিকিউরিটি, পোলাপাইনের সিকিউরিটি। কিন্তু আমরা আশ্বস্ত হইতে পারছি যে এখানে কোন সমস্যা হইতো না।”একপর্যায়ে মেলা প্রতিনিধিকে বলতে শোনা যায়— “ভাই, ভাই শোনো। তোমারে আমি একটা কথা কই। তোমরা...”এরপর ছাত্রদলের পক্ষে কথা বলা ব্যক্তি বলেন—, “যেহেতু আমরা বিষয়ডা বুইঝা পোস্ট করছি, অহন তো আবার পোস্টটা ডিলিট কইরা লাই, হইতো না, কিন্তু আবার নতুন কইরা পোস্ট করন লাগবো। মানে মানুষ একটু জানবো, বুঝবো। কিন্তু কথা হইলো, আমরা প্রতিবাদ কইরা যদি অহন পিছাইয়া যাই, এইডা খারাপ দেখাইবো। মানুষ কইবো, খারাপ ভাষা কইবো।”এরপর মেলা প্রতিনিধিকে বলতে শোনা যায়- “ভাই, আমার কথা বুঝো, অহন মারজান আসুক। মারজানরে আমার বিশ্বাস হয় না? এ বত্ত্বাবার কথা দিছে, কথা দিয়া এ এর জায়গায় থাকে না।”প্রায় পাঁচ মিনিটের অডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর শুরু হয়েছে নানা আলোচনা ও সমালোচনা। অডিওটির সঙ্গে ব্রাহ্মণডুরা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সাইফুল ইসলাম রানার ছেলে, জেলা ছাত্রদলের সদস্য ও শায়েস্তাগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের সাধারণ সম্পাদক এসএম সাব্বির সোহান, ব্রাহ্মণডুরা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি প্রার্থী এসএম মারজান আহমেদ ও উজ্জলের ছবি ব্যবহার করা হয়েছে।তবে অডিওটি কে বা কারা রেকর্ড করেছে কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রথম ছড়িয়েছে, তা এখনো জানা যায়নি। অডিওতে যাদের নাম ও ছবি ব্যবহার করা হয়েছে, তাদের মধ্যে এসএম সাব্বির সোহান ছাড়া অন্যদের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।এদিকে নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে এসএম সাব্বির সোহান দাবি করেছেন, অডিও রেকর্ডের সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তিনি লিখেছেন, “মাদ্রাসা ও স্কুলের মাঠে মেলা আয়োজনের প্রতিবাদ করায়, কে বা কারা টাকা দাবি করছে—এমন অভিযোগ তুলে আমার ছবি ব্যবহার করে কল রেকর্ড প্রকাশ করা হয়েছে। এ ধরনের অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিকর কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।”তিনি আরও বলেন, “স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিতে চাই, এ বিষয়ে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। আমার ছবি ব্যবহার করে কোনো ধরনের অপপ্রচার চালানোর অধিকার কারও নেই।”সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর কেউ কেউ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছেন। আবার অনেকে অডিওটির সত্যতা যাচাই করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি করছেন।মেলার আয়োজন, ভাইরাল অডিও এবং চাঁদা দাবির অভিযোগকে ঘিরে এখন প্রশ্ন উঠেছে—অডিওটির কথোপকথনে কারা ছিলেন, ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার প্রসঙ্গটি কেন এসেছে, অডিওটি আদৌ সত্য কি না এবং কারা এটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়েছে?বিষয়টি যাচাই করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং অডিওতে চাঁদা দাবির অভিযোগ সত্য হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন অনেকে।
সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ
কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত