প্রিন্ট এর তারিখ : ০৯ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৯ আগস্ট ২০২৬
২৬ বছর পর আদালতের রায় বাস্তবায়ন, জমি বুঝে পেলেন বাদীপক্ষ
মোঃ শরীফ উদ্দিন, , সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:: ||
সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুরে দীর্ঘ ২৬ বছর ধরে চলা জমি সংক্রান্ত বিরোধের অবসান হয়েছে। আদালতের সর্বশেষ রায় ও ডিক্রির ভিত্তিতে অবশেষে বাদীপক্ষকে তাদের প্রাপ্য জমি বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।সোমবার দুপুরে উপজেলার বাঘবেড় এলাকায় স্থানীয় বিচার পঞ্চায়েতের উপস্থিতিতে বিরোধপূর্ণ জমি পরিমাপ ও সীমানা নির্ধারণ করা হয়। পরে বিচার পঞ্চায়েতের পরামর্শ এবং সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হারুনুর রশিদের দিকনির্দেশনায় বাদীপক্ষ জমিতে চাষাবাদ শুরু করে।মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, ২০০১ সালে জমির মালিকানা ও অংশ-বাটোয়ারা নিয়ে সুনামগঞ্জের সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে বাঘবেড় গ্রামের আয়েশা খাতুন বাদী হয়ে রতারগাঁও গ্রামের আম্বিয়া খাতুনসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে বাটোয়ারা মামলা করেন। মামলায় বিরোধপূর্ণ ৬৫ কেয়ার জমির মধ্যে অর্ধেক অর্থাৎ সাড়ে ৩২ কেয়ার জমির মালিকানা দাবি করা হয়।মামলাটি নিয়ে পরবর্তীতে একাধিক আপিল ও আইনি প্রক্রিয়া চলে। সহকারী জজ আদালত থেকে জেলা জজ আদালত পর্যন্ত দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর গত ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে মামলার সর্বশেষ রায় ও ডিক্রি দেওয়া হয়। মামলার প্রতিটি পর্যায়েই আদালতের রায় বাদীপক্ষের অনুকূলে আসে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।আদালতের রায় বাস্তবায়ন এবং কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে স্থানীয় বিচার পঞ্চায়েতের উদ্যোগে উভয় পক্ষ, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও বাসিন্দাদের উপস্থিতিতে জমি পরিমাপ করে সীমানা নির্ধারণ করা হয়।এ সময় বাদীপক্ষের রফিক মিয়ার অংশের সাড়ে ৩২ কেয়ার জমি বুঝিয়ে দেওয়া হয়। বাকি জমি বিবাদীপক্ষের ফজলু মেম্বার, খোকন মিয়া, সফদর মড়ল, আবুল কাশেম মাস্টারসহ অন্যদের মধ্যে বণ্টন করা হয়।দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে জমি বুঝে পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেন বাদীপক্ষের রফিক মিয়া। তিনি বলেন, তাদের পূর্বপুরুষদের সম্পত্তি ভুলবশত ও না জানিয়ে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছিল। পরে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করে তারা আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেন। মুনসেফ কোর্ট থেকে জেলা জজ আদালত পর্যন্ত প্রতিটি ধাপেই রায় তাদের পক্ষে এসেছে বলে জানান তিনি।স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘ আড়াই দশকের জমি বিরোধের কারণে উভয় পক্ষের মধ্যে সামাজিক ও মানসিক জটিলতা তৈরি হয়েছিল। আদালতের রায় বাস্তবায়নের মাধ্যমে বিরোধের অবসান হওয়ায় এলাকায় স্বস্তি ও শান্তির পরিবেশ ফিরবে বলে আশা করছেন তারা।
সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ
কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত