প্রিন্ট এর তারিখ : ০৯ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৮ আগস্ট ২০২৬
হরিরামপুর থানার হেফাজত থেকে মোটরসাইকেল উধাও, দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ
রিদয় চৌধুরী,, মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি:: ||
মানিকগঞ্জের হরিরামপুর থানায় পুলিশ হেফাজতে থাকা একটি জব্দ মোটরসাইকেল চুরির অভিযোগ উঠেছে। থানার সেড থেকে মোটরসাইকেলটি উধাও হওয়ার ঘটনায় দায়িত্বে থাকা কয়েকজন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা।তবে পুলিশ জানিয়েছে, থানার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে মোটরসাইকেলটি কীভাবে বের করা হয়েছে এবং কারা এর সঙ্গে জড়িত, তা শনাক্তের চেষ্টা চলছে।নিখোঁজ মোটরসাইকেলটির নম্বর মানিকগঞ্জ-ল-১১-৩৬৩৭। এটি উপজেলার চালা ইউনিয়নের সট্টি এলাকার শাহিন শেখের ছেলে সিয়াম শেখের বলে জানা গেছে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ জুলাই সিয়াম শেখ মোটরসাইকেল নিয়ে হরিরামপুর থানার সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই মো. এমদাদুল হক তার কাছে মোটরসাইকেলের কাগজপত্র দেখতে চান। তাৎক্ষণিকভাবে কাগজপত্র দেখাতে না পারায় মোটরসাইকেলটির বিরুদ্ধে মামলা করা হয় এবং সেটি জব্দ করে থানার হেফাজতে রাখা হয়।পরে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে সিয়াম ও তার ভাই থানায় গেলে তাদের জানানো হয়, মামলা নিষ্পত্তির পর মোটরসাইকেলটি ফেরত দেওয়া হবে। কিন্তু প্রায় দুই দিন পর থানার পক্ষ থেকে ফোন করে জানানো হয়, মামলা নিষ্পত্তির প্রয়োজন নেই এবং থানায় এসে মোটরসাইকেলটি নিয়ে যেতে পারবেন তারা।এরপর গত ৪ আগস্ট সিয়ামের মামাতো ভাই রাজিব মোটরসাইকেলটির বিষয়ে জানতে থানায় গেলে এসআই মো. এমদাদুল হক তাকে জানান, মোটরসাইকেলটি থানা থেকে চুরি হয়ে গেছে। ওই দিন এএসআই সোহেল রানা ডিউটি অফিসার ছিলেন বলে জানা গেছে।পুলিশের একটি সূত্রের দাবি, গত ১ আগস্ট রাত আনুমানিক ২টার পর মোটরসাইকেলটি থানার বাইরে নিয়ে যাওয়ার দৃশ্য সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে। তবে ফুটেজে থাকা ব্যক্তিদের পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।এসআই মো. এমদাদুল হক বলেন, মোটরসাইকেলের কাগজপত্র না থাকায় মামলা দিয়ে সেটি জব্দ করা হয়েছিল। পরে থানার প্রাঙ্গণ থেকেই মোটরসাইকেলটি চুরি হয়েছে। মোটরসাইকেল উদ্ধারসহ বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চলছে।হরিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ আফজাল হোসেন বলেন, নম্বর প্লেটবিহীন একটি মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছিল এবং সেটি এসআই এমদাদুল হক জব্দ করেন। কয়েকদিন পর মালিককে বুঝিয়ে দিতে গিয়ে দেখা যায়, থানার একটি সেড থেকে মোটরসাইকেলটি চুরি হয়ে গেছে।তিনি আরও বলেন, থানার সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করে ঘটনার রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা চলছে।মোটরসাইকেলটি কীভাবে থানার নিরাপত্তার মধ্যে থেকে উধাও হলো এবং এতে দায়িত্বে থাকা কারও গাফিলতি ছিল কি না-তা তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ
কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত