প্রিন্ট এর তারিখ : ০৪ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৪ আগস্ট ২০২৬
১৫ বছরেও এমপিও নয় চাতলপাড় কলেজের ডিগ্রি শাখা, বেতনহীন ১০ শিক্ষক
মোঃ শরীফ উদ্দিন,, নাসিরনগর প্রতিনিধি:: ||
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার প্রত্যন্ত হাওরাঞ্চলের অন্যতম উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান চাতলপাড় ডিগ্রি কলেজের ডিগ্রি শাখা চালুর ১৫ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো এমপিওভুক্ত হয়নি। ফলে দীর্ঘ দেড় দশক ধরে সরকারি কোনো বেতন-ভাতা ছাড়াই পাঠদান করে আসছেন ১০ জন শিক্ষক। এতে পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম সংকটে দিন কাটছে তাদের।কলেজ সূত্রে জানা গেছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অনুদানে ১৯৯৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় চাতলপাড় ডিগ্রি কলেজ। পরে ২০১১ সালে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে চালু করা হয় ডিগ্রি (পাস) শাখা। তবে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এই বিভাগের শিক্ষকরা এখনো সরকারি বেতন কাঠামোর আওতায় আসেননি।বর্তমানে কলেজটিতে প্রায় ৫৫০ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। এর মধ্যে উচ্চ মাধ্যমিক শাখায় প্রায় ৩৫০ জন এবং ডিগ্রি শাখায় প্রায় ২০০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। কলেজে মোট ২৭ জন শিক্ষক কর্মরত আছেন। এর মধ্যে ডিগ্রি বিভাগের ১০ জন শিক্ষক টানা ১৫ বছর ধরে বিনা বেতনে দায়িত্ব পালন করছেন।ডিগ্রি বিভাগের এক শিক্ষক বলেন,
“শিক্ষকতায় যোগ দেওয়ার সময় সরকারি চাকরির জন্য আবেদনের বয়স ছিল। এখন সেই সুযোগও নেই। দীর্ঘ ১৫ বছর বিনা বেতনে চাকরি করে পরিবার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।”তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তায় অনেক শিক্ষক মানসিক ও আর্থিক চাপের মধ্যে রয়েছেন।কলেজের অধ্যক্ষ মো. ওমর আলী বলেন,
“২০১১ সালে ডিগ্রি বিভাগ চালু হয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত এ বিভাগের কোনো শিক্ষক সরকারি বেতন-ভাতা পাননি। আমরা তিনবার এমপিওভুক্তির জন্য আবেদন করেছি। যা আয় হয়, তা দিয়ে কোনো রকমে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করা হচ্ছে।”তিনি জানান, ডিগ্রি শাখা এমপিওভুক্ত না হওয়ায় শিক্ষকদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে। দ্রুত সমাধান না হলে ভবিষ্যতে বিভাগের শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।স্থানীয় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর দাবি, হাওরাঞ্চলের শিক্ষার সুযোগ ধরে রাখতে চাতলপাড় ডিগ্রি কলেজের ডিগ্রি শাখা দ্রুত এমপিওভুক্ত করা হোক। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বেতনবঞ্চিত শিক্ষকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ
কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত