প্রিন্ট এর তারিখ : ০২ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০১ আগস্ট ২০২৬
৬ বছর পর খুলল ভারত-চীন সীমান্ত বাণিজ্যের পথ
||
টানা ছয় বছরেরও বেশি সময় বন্ধ থাকার পর আবারও চালু হলো ভারত ও চীনের সীমান্ত বাণিজ্য। শনিবার (১ আগস্ট) থেকে পূর্ব সিকিমের নাথুলা পাস, উত্তরাখণ্ডের লিপুলেখ পাস এবং হিমাচল প্রদেশের শিপকি লা পাস হয়ে ঐতিহাসিক তিনটি সিল্ক রুটে বাণিজ্য কার্যক্রম শুরু হয়েছে।করোনা মহামারি ও সীমান্ত উত্তেজনার কারণে ২০২০ সাল থেকে এই বাণিজ্য বন্ধ ছিল। নতুন সমঝোতা অনুযায়ী, প্রতি বছর মে থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ছয় মাস সীমান্ত বাণিজ্য চলবে। সপ্তাহে সোমবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম পরিচালিত হবে।চুক্তি অনুযায়ী, ভারত থেকে হস্তশিল্প, তাঁতের পণ্য, কম্বল, কৃষি সরঞ্জাম, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, শুকনো সবজি, মসলা, তৈরি পোশাক ও বাসনপত্র রপ্তানি করা হবে। অন্যদিকে চীনের তিব্বত অঞ্চল থেকে তৈরি পোশাক, জুতা, ইয়াকের চামড়াজাত পণ্য, মাখন, ছাগল ও লেপ আমদানি করা হবে।সীমান্ত বাণিজ্যের জন্য আগে প্রায় ৪০০ ব্যবসায়ীকে পারমিট দেওয়া হলেও এবার প্রাথমিক যাচাই শেষে ৫৮ জন ব্যবসায়ীকে অনুমতি দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসন ও স্টেট ইন্টেলিজেন্স ব্রাঞ্চের ছাড়পত্রের ভিত্তিতে ভবিষ্যতে পারমিটের সংখ্যা বাড়ানো হতে পারে।দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা এবং হিমালয়ের কঠিন আবহাওয়ার কারণে নাথুলা সীমান্তের বিভিন্ন চেকপোস্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। বাণিজ্য পুনরায় চালুর আগে দুই দেশের যৌথ বৈঠকের মাধ্যমে সেগুলো সংস্কার করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় বাণিজ্যিক অবকাঠামোও পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে।সীমান্ত নিরাপত্তায় নিয়োজিত ইন্দো-টিবেটান বর্ডার পুলিশ (আইটিবিপি) অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করেছে। এবার প্রথমবারের মতো বাণিজ্য কার্যক্রমে সহায়তার জন্য নারী সদস্যদেরও সীমান্ত এলাকায় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।বিশ্লেষকদের মতে, সীমান্ত বাণিজ্য পুনরায় চালু হওয়া ভারত ও চীনের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।১৯৬২ সালের ভারত-চীন যুদ্ধের পর দীর্ঘ ৪৪ বছর বন্ধ ছিল এই সীমান্তপথ। পরে ২০০৬ সালে নাথুলা পাস দিয়ে বাণিজ্য আবার শুরু হয়। তবে ২০২০ সালে করোনা মহামারির সময় নাথুলা হয়ে সীমান্ত বাণিজ্য ও কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রা স্থগিত করা হয়েছিল।
সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ
কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত