প্রিন্ট এর তারিখ : ৩০ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৯ জুলাই ২০২৬
এনসিপির গাড়িবহরে হামলা: ছাত্রদল সভাপতি সহ ১০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা
চেকপোস্ট নিউজ:: ||
হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র কেন্দ্রীয় নেতাদের গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাহ রাজিব আহমেদ রিংগনকে প্রধান আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় ছাত্রদলের আরও কয়েকজন নেতার নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা প্রায় ১০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। হামলার ঘটনার পর থেকেই হবিগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে জেলা প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করলেও দিনভর নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।বুধবার (২৯ জুলাই) রাতে বাহুবল উপজেলার কামাইছড়া পুলিশ ফাঁড়িতে হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার তারেক মাহমুদের কাছে এজাহার জমা দেন এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা। মামলার বাদী হয়েছেন হবিগঞ্জ জেলা যুবশক্তির আহ্বায়ক তন্ময় তাহের।এজাহারে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাহ রাজিব আহমেদ রিংগনকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এছাড়া হবিগঞ্জ বৃন্দাবন সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আরিফুজ্জামান রিয়াদসহ মোট ১১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতপরিচয় আরও প্রায় ১০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।এর আগে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় হবিগঞ্জ শহরের টাউন হল এলাকায় এনসিপির পথসভা শেষে কেন্দ্রীয় নেতারা সার্কিট হাউসের উদ্দেশে রওনা দিলে তাদের গাড়িবহরে হামলার ঘটনা ঘটে। হামলার সময় উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ কেন্দ্রীয় নেতারা গাড়িতে ছিলেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে তারা শহরের সোনালী ব্যাংকের প্রধান শাখায় আশ্রয় নেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের উদ্ধার করে নিরাপদে সার্কিট হাউসে নিয়ে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ একটি সাউন্ড গ্রেনেডও নিক্ষেপ করে।হামলার পর এনসিপি অভিযোগ করে, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে সমালোচনামূলক বক্তব্য দেওয়ার জেরেই পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালানো হয়েছে। সারজিস আলম অভিযোগ করেন, স্থানীয় সংসদ সদস্য ও হুইপ জি কে গউছের অনুসারী এবং ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা এ হামলার সঙ্গে জড়িত।হামলায় জেলা এনসিপির সদস্যসচিব মাহবুবুল বারী চৌধুরী মুবিনের হাত ভেঙে যায়। গুরুতর আহত হন কর্মী আলিফ আহমেদ। তার একটি চোখ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় প্রথমে সিলেটে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তাকে রাজধানীর জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে পাঠানো হয়। এছাড়া সারজিস আলম নিজেও হাতে আঘাত পান বলে জানান।হামলার প্রতিবাদে বুধবার হবিগঞ্জে বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করে এনসিপি। অন্যদিকে তারেক রহমানকে নিয়ে 'মিথ্যাচারের' অভিযোগ তুলে পৃথক কর্মসূচির ডাক দেয় জেলা ছাত্রদল, যুবদল ও পৌর বিএনপি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাহ রাজিব আহমেদ রিংগন, জেলা যুবদলের আহ্বায়ক জালাল আহমেদ এবং সদস্য সচিব শফিকুর রহমান সিতুসহ বিভিন্ন নেতার কর্মসূচির ঘোষণা ছড়িয়ে পড়ে। একই সময়ে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের কয়েকজন নেতাকর্মীকেও বিভিন্ন পোস্ট দিতে দেখা যায়।দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের আশঙ্কা দেখা দিলে জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ড. জি এম সরফরাজ হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারা জারি করেন।বুধবার সকাল থেকেই টাউন হল, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, সদর মডেল থানা, আদালত এলাকা, চৌধুরীবাজার, কালীবাড়ি রোড, রাজনগর, শায়েস্তানগরসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর সদস্যদেরও দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়।এদিকে বিকেলে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী মৌলভীবাজার থেকে হবিগঞ্জে প্রবেশের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। তবে দুই জেলার মধ্যবর্তী সাতগাঁও এলাকায় পুলিশ তাদের গাড়িবহর আটকে দেয়।পরে নেতাকর্মীরা সড়কে অবস্থান নিলে পুলিশের সঙ্গে তাদের বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে প্রবল বৃষ্টির মধ্যেই সড়কে বসে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন তারা। এ সময় হাসনাত আব্দুল্লাহ অভিযোগ করেন, পুলিশ নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন না করে বিএনপির পক্ষে কাজ করছে।পরে সন্ধ্যার দিকে এনসিপির নেতারা পুলিশের ব্যারিকেড অতিক্রম করে হবিগঞ্জে প্রবেশের চেষ্টা করলে কামাইছড়া পুলিশ ফাঁড়িতে তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন পুলিশ সুপার তারেক মাহমুদ। বৈঠক শেষে এনসিপির পক্ষ থেকে হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলার এজাহার পুলিশের কাছে জমা দেওয়া হয়।এজাহার জমা দেওয়ার পর রাতে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, "রাতের মধ্যেই যদি হামলার সঙ্গে জড়িত আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়, তাহলে আমরা ধরে নেব দেশে অন্তত কিছুটা হলেও আইনের শাসন রয়েছে। আর যদি কাউকে গ্রেপ্তার না করা হয়, তাহলে আমরা ধরে নেব এটি একটি মাফিয়া সরকার।"এ ঘটনায় এখনও পর্যন্ত অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগটি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। একই সঙ্গে শহরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা বহাল রাখা হয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ
কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত