প্রিন্ট এর তারিখ : ২৮ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৭ জুলাই ২০২৬
ইয়ামাল-সূর্যবংশীদের বিশ্বজয়ের পেছনের গোপন রহস্য
চেকপোস্ট নিউজ, ||
মাত্র ১৯ বছর বয়সেই লামিনে ইয়ামালের অর্জনের তালিকা অনেক সিনিয়র ফুটবলারের স্বপ্নের মতো। লা লিগা, ইউরো ও বিশ্বকাপের মতো বড় শিরোপা জয়ের অভিজ্ঞতা নিয়ে তিনি পৌঁছেছেন বিশ্বমঞ্চে। অন্যদিকে মাত্র ১৫ বছর বয়সেই ভারতের বৈভব সূর্যবংশী আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজের প্রতিভার জানান দিয়েছেন।শুধু ফুটবল বা ক্রিকেট নয়, টেনিস, দৌড়, ফর্মুলা ওয়ান, সাঁতার ও বাস্কেটবল—প্রায় সব খেলাতেই কৈশোরেই উঠে আসছে নতুন নতুন বিস্ময়। প্রশ্ন উঠছে, এত অল্প বয়সে কীভাবে তারা বিশ্বসেরা পর্যায়ের জন্য প্রস্তুত হচ্ছেন?বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি শুধু প্রতিভার বিষয় নয়; আধুনিক ক্রীড়া এখন প্রতিভা খুঁজে বের করা, প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং শারীরিক-মানসিক প্রস্তুতির পুরো প্রক্রিয়াকে বদলে দিয়েছে।ছয় বছরেই শুরু প্রতিভা খোঁজাআগে বড় খেলোয়াড় তৈরি হতে সময় লাগলেও এখন বড় ক্লাব ও একাডেমিগুলো ছোট বয়সেই প্রতিভা শনাক্ত করছে। ইয়ামালকে বার্সেলোনা মাত্র ছয় বছর বয়সে নজরে আনে। এরপর ধাপে ধাপে তার দক্ষতা, শারীরিক সক্ষমতা ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা উন্নত করা হয়।বর্তমানে অনেক শিশু খেলোয়াড় ১০ বা ১১ বছর বয়স থেকেই পেশাদার পর্যায়ের মতো প্রশিক্ষণ পাচ্ছে। দলের অনুশীলনের পাশাপাশি ব্যক্তিগত কোচ, ফিটনেস বিশেষজ্ঞ ও পুষ্টিবিদদের সহায়তাও পাচ্ছে তারা।প্রযুক্তিতে তৈরি হচ্ছে নতুন চ্যাম্পিয়নআধুনিক ক্রীড়ায় খেলোয়াড়দের শরীরের প্রতিটি পরিবর্তন বিশ্লেষণ করা হচ্ছে প্রযুক্তির মাধ্যমে। গতি, শক্তি, ঘুম, খাদ্যাভ্যাস ও শারীরিক বিকাশ নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হয়।একসময় শুধু জন্মসনদের বয়স দেখে খেলোয়াড় বাছাই করা হলেও এখন অনেক একাডেমি বিবেচনা করছে জৈবিক বয়সও। এতে বোঝা যায়, কে প্রকৃত প্রতিভার কারণে এগিয়ে আছে আর কে শুধু দ্রুত শারীরিক বিকাশের সুবিধা পাচ্ছে।কিশোর তারকা বাড়ছে, নাকি আলোচনাই বাড়ছে?পেলে, মার্টিনা হিঙ্গিস কিংবা ওয়েইন গ্রেটস্কির মতো তারকারাও কৈশোরেই বড় সাফল্য পেয়েছিলেন। তবে বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও দ্রুত তথ্যপ্রবাহের কারণে তরুণ প্রতিভারা আগের চেয়ে অনেক বেশি দৃশ্যমান।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কিশোর তারকার সংখ্যা যতটা বেড়েছে, তার চেয়ে বেশি বেড়েছে তাদের পরিচিতি ও আলোচনার পরিমাণ।বিশ্বজয়ের পথে বড় চ্যালেঞ্জঅল্প বয়সে সাফল্যের সঙ্গে আসে বড় চাপও। অতিরিক্ত অনুশীলন, প্রত্যাশার বোঝা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নজর ও চোটের ঝুঁকি তরুণ খেলোয়াড়দের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।তাই শুধু প্রতিভা তৈরি নয়, তাদের মানসিক সুস্থতা, বিশ্রাম ও খেলাটির আনন্দ ধরে রাখাও জরুরি।ইয়ামাল, সূর্যবংশীদের মতো প্রতিভা প্রতিদিন জন্মায় না। তবে আধুনিক ক্রীড়া ব্যবস্থা এখন তাদের দ্রুত খুঁজে বের করছে, বৈজ্ঞানিক প্রশিক্ষণে গড়ে তুলছে এবং বিশ্বজয়ের মঞ্চের জন্য প্রস্তুত করছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ
কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত