প্রিন্ট এর তারিখ : ২৬ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৬ জুলাই ২০২৬
কয়রায় বিদ্যালয় কমিটি নিয়ে বিতর্ক, অভিযোগে মিলছে না স্বাক্ষরকারীদের বক্তব্য
আবুবকর সিদ্দিক, , কয়রা প্রতিনিধি:: ||
খুলনার কয়রা উপজেলার দেয়াড়া পশ্চিমপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা (ম্যানেজিং) কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে দেওয়া একটি লিখিত অভিযোগের স্বাক্ষর নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কয়েকজন অভিভাবক। তাঁদের দাবি, নির্বাচনসংক্রান্ত কথা বলে স্বাক্ষর নেওয়া হলেও পরে সেই স্বাক্ষর অভিযোগপত্রে ব্যবহার করা হয়েছে।গত ২৩ জুলাই রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে ৫৭ জন অভিভাবকের স্বাক্ষরসংবলিত একটি আবেদন জমা দেওয়া হয়। এতে অভিযোগ করা হয়, বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. মাসুদ কামাল নিজের পছন্দের অবসরপ্রাপ্ত প্রাথমিক শিক্ষক আবুল বাসারকে পরিচালনা কমিটির সদস্য করার জন্য সুপারিশ করেছেন।অভিযোগে আরও বলা হয়, আবুল বাসার বর্তমানে খুলনা শহরে বসবাস করায় বিদ্যালয়ের নিয়মিত তদারকি করা তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়। পাশাপাশি বিদ্যালয়ের কাছাকাছি বসবাসকারী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মুহাম্মাদ আবুল বাসারকে উপেক্ষা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়।তবে অভিযোগপত্রে স্বাক্ষরকারী একাধিক অভিভাবক জানিয়েছেন ভিন্ন কথা। তাঁদের দাবি, প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাতে নয়, বরং বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির নির্বাচন ও ভোটের বিষয়ে সম্মতি জানাতেই তাঁদের স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছিল।বিদ্যালয়ের অভিভাবক কমিটির সদস্য রেহানা আক্তার বলেন, আমাদের বলা হয়েছিল পরিচালনা কমিটির নির্বাচন হবে, তাই স্বাক্ষর করছি। পরে জানতে পারি, সেই স্বাক্ষর প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্রে ব্যবহার করা হয়েছে। আবেদনপত্রে কী লেখা ছিল, তা আমাদের দেখানো হয়নি।আরেক অভিভাবক নাজমা খাতুন বলেন, বাড়িতে কাজ করার সময় একজন এসে নির্বাচন ও ভোটের কথা বলে স্বাক্ষর নিয়ে যান। আমি শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ দেওয়ার জন্য কোনো স্বাক্ষর করিনি।প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা বলা ২০ জন স্বাক্ষরকারী অভিভাবকের দাবি, আবেদনপত্রের প্রকৃত বিষয়বস্তু না জানিয়েই তাঁদের স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে। কয়েকজনের অভিযোগ, পরিচালনা কমিটির সভাপতি পদকে কেন্দ্র করে ব্যক্তিগত প্রতিযোগিতা থেকেই এই অভিযোগ করা হয়েছে।এদিকে অভিযোগপত্রের বক্তব্যের সঙ্গে ১৮ জুলাই অনুষ্ঠিত অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের সভার কার্যবিবরণীতেও অমিল পাওয়া গেছে। কার্যবিবরণী অনুযায়ী, পরিচালনা কমিটির সদস্য হতে ক্যাচমেন্ট এলাকার তিনজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আগ্রহ প্রকাশ করেন। পরে তাঁদের মধ্যে আলোচনা করে একজনের নাম প্রস্তাব করার সিদ্ধান্ত হয়।সভায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক বি.এম. আব্দুল ওহাব প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আবুল বাসারের পক্ষে সমর্থন দেন। আলোচনার ভিত্তিতেই আবুল বাসারের নাম সদস্য হিসেবে মনোনয়নের সিদ্ধান্ত কার্যবিবরণীতে উল্লেখ করা হয়।মনোনীত শিক্ষক আবুল বাসার বলেন, আমি খুলনা শহরে বসবাস করি এ তথ্য সঠিক নয়। আমি বিদ্যালয়সংলগ্ন এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা ও এখানকার ভোটার। তিনজন আগ্রহী শিক্ষককে নিয়ে আলোচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।অভিযোগকারী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মুহাম্মাদ আবুল বাসার বলেন, আমি বিদ্যালয়ের কাছাকাছি এলাকার বাসিন্দা। আমাকে বিবেচনা করা উচিত ছিল, কিন্তু তা করা হয়নি।বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. মাসুদ কামাল বলেন, রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার নির্দেশনা অনুযায়ী তিনজন আগ্রহী অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষককে নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। কারও প্রতি পক্ষপাত করা হয়নি। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়া হয়েছে।
কয়রা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তপন কুমার কর্মকার বলেন, একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। পাশাপাশি কয়েকজন অভিভাবক ভুল বুঝিয়ে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ করেছেন। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ
কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত