প্রিন্ট এর তারিখ : ১৩ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৩ জুলাই ২০২৬
ভালো হেডফোন কিনবেন? এই ভুলগুলো এড়িয়ে চলুন
চেকপোস্ট নিউজ, ||
হেডফোন এখন আর শুধু গান শোনার ডিভাইস নয়। অনলাইন মিটিং, গেমিং, সিনেমা দেখা, পড়াশোনা কিংবা ফোনে কথা বলা—প্রায় সব ক্ষেত্রেই এর ব্যবহার বেড়েছে। বাজারে নানা ধরনের হেডফোন থাকায় অনেকেই বুঝতে পারেন না কোনটি তাদের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত।শুধু দাম বা ব্র্যান্ড দেখে হেডফোন কিনলে পরে হতাশ হতে পারেন। ব্যবহারের ধরন অনুযায়ী কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যাচাই করলেই সহজে বেছে নেওয়া যায় ভালো মানের হেডফোন।ব্যবহারের উদ্দেশ্য আগে ঠিক করুনহেডফোন কেনার আগে ঠিক করুন এটি কী কাজে বেশি ব্যবহার করবেন।গান শোনার জন্যঅনলাইন মিটিংয়ের জন্যগেমিংয়ের জন্যভ্রমণের সময় ব্যবহারের জন্যপেশাদার অডিও কাজের জন্যব্যবহারের ধরন অনুযায়ী হেডফোনের ফিচারও পরিবর্তন হয়। তাই প্রয়োজন বুঝে নির্বাচন করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।তারযুক্ত নাকি ওয়্যারলেস?বর্তমানে তারযুক্ত ও ওয়্যারলেস—দুই ধরনের হেডফোনই জনপ্রিয়।তারযুক্ত হেডফোনের সুবিধা:সাধারণত ভালো অডিও মান পাওয়া যায়চার্জের প্রয়োজন নেইঅডিও লেটেন্সি কমওয়্যারলেস হেডফোনের সুবিধা:বহনে সহজতারের ঝামেলা নেইএকাধিক ডিভাইসে সহজে সংযোগ করা যায়নিয়মিত ভ্রমণ বা শরীরচর্চার জন্য ওয়্যারলেস সুবিধাজনক হতে পারে। অন্যদিকে গেমিং বা স্টুডিও কাজের ক্ষেত্রে অনেকেই তারযুক্ত হেডফোন পছন্দ করেন।সঠিক ধরনের হেডফোন বেছে নিনবাজারে মূলত চার ধরনের হেডফোন পাওয়া যায়—ওভার-ইয়ারঅন-ইয়ারইন-ইয়ারট্রু ওয়্যারলেস ইয়ারবাডওভার-ইয়ার হেডফোন দীর্ঘ সময় ব্যবহারে বেশি আরামদায়ক হতে পারে। অন্যদিকে ইয়ারবাড ছোট হওয়ায় সহজে বহন করা যায়।শব্দের মান যাচাই করুনভালো হেডফোন মানেই শুধু বেশি জোরে শব্দ নয়। পরিষ্কার, ভারসাম্যপূর্ণ ও বিকৃতিমুক্ত শব্দই গুরুত্বপূর্ণ।কেনার আগে সম্ভব হলে ডেমো ব্যবহার করে দেখুন। ভোকাল, বেস এবং উচ্চ স্বরের ভারসাম্য কেমন, তা খেয়াল করুন।নয়েজ ক্যানসেলেশন প্রয়োজন হলে দেখুন ANCবাস, ট্রেন, বিমান বা ব্যস্ত অফিসে ব্যবহারের জন্য ANC বা অ্যাকটিভ নয়েজ ক্যানসেলেশন সুবিধা বেশ কার্যকর।এটি বাইরের শব্দ কমিয়ে দেয়, ফলে কম ভলিউমেও আরাম করে গান শোনা বা কথা বলা যায়।ব্যাটারি ব্যাকআপ গুরুত্বপূর্ণওয়্যারলেস হেডফোন কেনার ক্ষেত্রে ব্যাটারি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।ভালো মডেলগুলো সাধারণত একবার চার্জে দীর্ঘ সময় ব্যবহার করা যায়। দ্রুত চার্জিং সুবিধা থাকলে আরও সুবিধা পাওয়া যায়।মাইক্রোফোনের মান দেখুনঅনলাইন মিটিং বা নিয়মিত ফোনে কথা বলার জন্য ভালো মাইক্রোফোন প্রয়োজন।হেডফোনের মাইক্রোফোন আশপাশের শব্দ কতটা কমাতে পারে এবং কণ্ঠ কতটা পরিষ্কারভাবে পৌঁছায়, তা যাচাই করুন।আরামদায়ক কিনা দেখে নিনদীর্ঘ সময় ব্যবহারের জন্য হেডফোন আরামদায়ক হওয়া জরুরি।কানের কুশন নরম কি না, ওজন বেশি কি না এবং হেডব্যান্ড ঠিকভাবে ফিট হয় কি না—এসব বিষয় বিবেচনা করুন।নির্মাণমান ও স্থায়িত্বহেডফোনের গুণগত মানও গুরুত্বপূর্ণ।ভাঁজ করা যায় কি না, কেবল বা বডি কতটা মজবুত এবং পানি বা ঘাম প্রতিরোধের সুবিধা আছে কি না, তা দেখে নিন। যারা ব্যায়াম করেন তারা আইপি রেটিংযুক্ত মডেল বেছে নিতে পারেন।ব্লুটুথ ভার্সন ও অডিও কোডেকওয়্যারলেস হেডফোনে নতুন ব্লুটুথ ভার্সন থাকলে সংযোগ আরও স্থিতিশীল হয় এবং ব্যাটারি খরচ কমে।AAC, aptX বা LDAC-এর মতো অডিও কোডেক ভালো সাউন্ড কোয়ালিটিতে সহায়তা করতে পারে। তবে ব্যবহৃত ডিভাইসেও এসব কোডেক সমর্থন থাকতে হবে।ওয়ারেন্টি ও সার্ভিস সুবিধাহেডফোন কেনার আগে ওয়ারেন্টির মেয়াদ ও বিক্রয়োত্তর সেবা সম্পর্কে জেনে নিন। পরিচিত ব্র্যান্ডের পণ্য হলে ভবিষ্যতে সার্ভিস পাওয়া তুলনামূলক সহজ হয়।শেষ কথাহেডফোন কেনার সময় শুধু দাম বা ডিজাইন দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। ব্যবহার, সাউন্ড কোয়ালিটি, ব্যাটারি, মাইক্রোফোন, নয়েজ ক্যানসেলেশন, আরাম ও স্থায়িত্ব—সবকিছু বিবেচনা করেই সঠিক হেডফোন বেছে নেওয়া উচিত। একটু সময় নিয়ে যাচাই করে কিনলে দীর্ঘদিন ভালো অভিজ্ঞতা পাওয়া সম্ভব।
সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ
কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত