প্রিন্ট এর তারিখ : ২২ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২১ জুলাই ২০২৬
মাদরাসার দপ্তরি, জজকোর্টের মুহুরি! একই ব্যক্তির দুই চাকরির অভিযোগ
শাহজাহান আলী মনন, , সৈয়দপুর প্রতিনিধি:: ||
নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার একটি দাখিল মাদরাসার দপ্তরির বিরুদ্ধে একই সময়ে দুই কর্মস্থলে দায়িত্ব পালনের অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, সকালে মাদরাসায় হাজিরা দিয়ে তিনি চলে যান জজকোর্টে মুহুরির কাজ করতে। পরে আবার ফিরে আসেন মাদরাসায়।ঘটনাটি উপজেলার বোতলাগাড়ী ইউনিয়নের উত্তর সোনাখুলী সরকারপাড়া দাখিল মাদরাসার। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এমন অনিয়ম চললেও প্রতিষ্ঠান প্রধানের সহযোগিতায় বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে।সরেজমিনে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ওই প্রতিষ্ঠানে দপ্তরি পদে কর্মরত রবিউল ইসলাম পেশাগতভাবে আগে থেকেই নীলফামারী জজকোর্টের মুহুরি হিসেবে পরিচিত। অভিযোগ রয়েছে, চাকরিতে যোগদানের পরও তিনি নিয়মিত মুহুরির কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।এলাকাবাসীর দাবি, প্রতিদিন সকালে মাদরাসায় এসে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের পর তিনি জেলা শহরে আদালতে চলে যান। সেখানে মুহুরির কাজ শেষে আবার মাদরাসায় ফেরেন। অনেক সময় তার অনুপস্থিতিতে অন্য কাউকে দিয়ে দায়িত্ব পালন করানোর অভিযোগও রয়েছে।স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল্লাহ অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে রবিউল ইসলাম দপ্তরির দায়িত্ব ঠিকমতো পালন করছেন না। বিষয়টি বারবার জানানো হলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা আরও অভিযোগ করেন, মাদরাসার দায়িত্বপ্রাপ্তদের সহযোগিতার কারণেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তারা বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।একজন শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, দপ্তরির অনুপস্থিতিতে অনেক সময় শিক্ষকদের অতিরিক্ত কাজ করতে হয়। এতে প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।তবে আরেকজন শিক্ষক জানান, মানবিক কারণে মাঝে মধ্যে তাকে ছাড় দেওয়া হতে পারে। কিন্তু নিয়মিতভাবে এমন সুযোগ দেওয়া ঠিক নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।অভিযোগের বিষয়ে মাদরাসার সুপারিন্টেন্ডেন্ট মোশাররফ হোসেন বলেন, দপ্তরি রবিউল ইসলাম মঙ্গলবার অনুপস্থিত ছিলেন এবং তিনি পারিবারিক কারণে আদালতে যাওয়ার জন্য মোবাইলে ছুটি নিয়েছেন। তবে নিয়মিত আদালতে গিয়ে মুহুরির কাজ করার অভিযোগের বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।অভিযুক্ত রবিউল ইসলাম বলেন, পারিবারিক জমি সংক্রান্ত বিষয়ে তিনি আদালতে ছিলেন। তিনি দাবি করেন, সুপারিন্টেন্ডেন্টকে মোবাইলে জানিয়ে ছুটি নিয়েছেন।সৈয়দপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, এ ধরনের কোনো অভিযোগ তার কাছে দেওয়া হয়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে।এদিকে এলাকাবাসীর দাবি, সরকারি প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ
কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত