প্রিন্ট এর তারিখ : ২১ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২১ জুলাই ২০২৬
আর্জেন্টিনার মুসলিমরা কেমন আছেন? জানুন তাদের জীবনযাত্রা
চেকপোস্ট নিউজ, ||
দক্ষিণ আমেরিকার অন্যতম বৃহৎ দেশ আর্জেন্টিনা বিশ্বজুড়ে পরিচিত ফুটবল, ট্যাঙ্গো ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য। খ্রিস্টান সংখ্যাগরিষ্ঠ এই দেশটিতে মুসলিমরা সংখ্যায় কম হলেও শিক্ষা, ব্যবসা, সংস্কৃতি ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন।বিভিন্ন পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আর্জেন্টিনায় প্রায় ৪ থেকে ৫ লাখ মুসলিম বসবাস করেন, যা দেশটির মোট জনসংখ্যার প্রায় ২ শতাংশ। সংখ্যায় ছোট হলেও এটি লাতিন আমেরিকার অন্যতম বড় মুসলিম সম্প্রদায়।আর্জেন্টিনায় ইসলামের আগমনআর্জেন্টিনায় ইসলামের ইতিহাস কয়েক শতাব্দী পুরোনো। স্প্যানিশ উপনিবেশের সময় পশ্চিম আফ্রিকা থেকে আনা দাসদের মধ্যে অনেক মুসলিম ছিলেন। তাদের মাধ্যমেই দেশটিতে ইসলামের প্রাথমিক উপস্থিতি তৈরি হয়।পরবর্তীতে উনবিংশ শতাব্দীর শেষভাগ ও বিংশ শতাব্দীর শুরুতে সিরিয়া, লেবানন ও সাবেক উসমানীয় সাম্রাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বহু অভিবাসী আর্জেন্টিনায় আসেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ছিলেন মুসলিম।মসজিদ ও ইসলামিক কেন্দ্রের বিকাশআর্জেন্টিনায় মুসলিমদের ধর্মীয় কর্মকাণ্ড ধীরে ধীরে বিস্তৃত হয়েছে। ১৯৮৩ সালে ইরানের সহায়তায় বুয়েনস আইরেসে আত-তাওহিদ মসজিদ প্রতিষ্ঠিত হয়। এরপর ১৯৮৫ সালে সুন্নি মুসলিমদের প্রথম বড় ইসলামিক সেন্টার গড়ে ওঠে।বর্তমানে রাজধানী বুয়েনস আইরেস মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রধান কেন্দ্র। এখানে রয়েছে মসজিদ, ইসলামিক সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা কার্যক্রম ও বিভিন্ন মুসলিম সংগঠন।২০০০ সালে উদ্বোধন হওয়া কিং ফাহদ ইসলামিক কালচারাল সেন্টার লাতিন আমেরিকার অন্যতম বৃহৎ ইসলামিক কমপ্লেক্স হিসেবে পরিচিত।ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সামাজিক ভূমিকাআর্জেন্টিনার সংবিধান ধর্মীয় স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দেয়। ফলে মুসলিমরা সাধারণভাবে নামাজ, রোজা, ঈদ ও অন্যান্য ধর্মীয় কার্যক্রম পালন করতে পারেন।ইসলামিক সংগঠনগুলো ধর্মীয় শিক্ষা, দাওয়াহ, সামাজিক সেবা এবং আন্তঃধর্মীয় সম্প্রীতি তৈরিতে কাজ করছে। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে মুসলিম প্রতিনিধিরা অংশ নিয়ে ইসলাম সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা তৈরির চেষ্টা করছেন।বাড়ছে ইসলাম সম্পর্কে আগ্রহসাম্প্রতিক বছরগুলোতে আর্জেন্টিনায় ইসলাম সম্পর্কে মানুষের আগ্রহ বাড়ছে। অভিবাসনের পাশাপাশি স্থানীয় কিছু মানুষ ইসলামের নৈতিকতা, একত্ববাদ ও পারিবারিক মূল্যবোধে আকৃষ্ট হয়ে ইসলাম গ্রহণ করছেন।ডিজিটাল মাধ্যমও ইসলাম সম্পর্কে জানার সুযোগ বাড়িয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অনলাইন বক্তৃতা এবং স্প্যানিশ ভাষায় ইসলামিক কনটেন্ট নতুন প্রজন্মের কাছে ধর্মীয় জ্ঞান পৌঁছে দিচ্ছে।রয়েছে কিছু চ্যালেঞ্জওধর্মীয় স্বাধীনতা থাকলেও মুসলিম সমাজকে কিছু বাস্তব সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। অনেক এলাকায় পর্যাপ্ত মসজিদ বা ইসলামিক স্কুল নেই। হালাল খাবারের সুবিধাও সব জায়গায় সহজলভ্য নয়।এছাড়া কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রমজান, জুমার নামাজ বা ধর্মীয় পোশাক নিয়ে কখনো কখনো অতিরিক্ত সমন্বয়ের প্রয়োজন হয়।নতুন প্রজন্মকে ইসলামি শিক্ষা ও সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত রাখাও মুসলিম পরিবারগুলোর জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এজন্য মক্তব, কোরআন শিক্ষা, যুব কার্যক্রম ও পারিবারিক ইসলামি আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।সংখ্যায় কম হলেও আর্জেন্টিনার মুসলিমরা নিজেদের ধর্মীয় পরিচয় ধরে রেখে দেশটির বহুসাংস্কৃতিক সমাজে সক্রিয়ভাবে অবদান রেখে চলেছেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ
কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত