প্রিন্ট এর তারিখ : ১৭ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৭ জুলাই ২০২৬
ব্রাহ্মণডুরা ইউনিয়নে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী নিয়ে জমে উঠেছে আলোচনা
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল:: ||
হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার ১১
নম্বর
ব্রাহ্মণডুরা ইউনিয়ন
পরিষদ
(ইউপি)
নির্বাচনকে ঘিরে
সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের নিয়ে
শুরু
হয়েছে
ব্যাপক
আলোচনা। যদিও
এখনো
নির্বাচন কমিশন
তফসিল
ঘোষণা
করেনি,
তবে
সম্ভাব্য নির্বাচন সামনে
রেখে
ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায়
ইতোমধ্যে নির্বাচনী আমেজ
ছড়িয়ে
পড়েছে।
চায়ের
দোকান,
হাট-বাজার, গ্রাম্য আড্ডা-সবখানেই এখন সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের নিয়ে
চলছে
নানা
আলোচনা
ও
বিশ্লেষণ।নির্বাচন কমিশনের প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, চলতি
বছরের
সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে
কয়েক
ধাপে
ইউনিয়ন
পরিষদ
নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে
পারে।
আগস্টের শেষ
দিকে
তফসিল
ঘোষণার
সম্ভাবনা থাকায়
সম্ভাব্য প্রার্থীরা ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে গণসংযোগ, সামাজিক ও
জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড এবং
ভোটারদের সঙ্গে
নিয়মিত
যোগাযোগ বাড়িয়েছেন।আসন্ন
ইউনিয়ন
পরিষদ
নির্বাচনকে কেন্দ্র করে
সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণা জোরালো হয়ে উঠেছে। ইতোমধ্যে অনেকেই
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, বিশেষ
করে
ফেসবুক,
পাশাপাশি সরেজমিন গণসংযোগ ও
বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে নিজেদের প্রার্থিতার বার্তা
ভোটারদের কাছে
পৌঁছে
দিচ্ছেন।স্থানীয় সূত্রে
জানা
গেছে,
চেয়ারম্যান পদে
বর্তমান ও
নতুন
মুখ
মিলিয়ে
এখন
পর্যন্ত অন্তত
এক
ডজন
সম্ভাব্য প্রার্থী মাঠে
সক্রিয়
রয়েছেন। তাদের
অধিকাংশই বিএনপি
ও
এর
অঙ্গ
ও
সহযোগী
সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতা।
তবে
এখন
পর্যন্ত জামায়াত-সমর্থিত কোনো
সম্ভাব্য প্রার্থীকে প্রকাশ্যে নির্বাচনী প্রচারণায় দেখা
যায়নি।স্থানীয়ভাবে যাদের
নাম
সবচেয়ে
বেশি
আলোচনায় রয়েছে,
তাদের
মধ্যে
অন্যতম
শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা
বিএনপির সাধারণ
সম্পাদক মোহাম্মদ আবু তাহের। তিনি আওয়ামী
লীগ
সরকারের সময়
২০১৭
সালের
ইউনিয়ন
পরিষদ
নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে
প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে
এলাকায়
রাজনৈতিক ও
সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয়
থাকায়
এবারও
তাকে
চেয়ারম্যান পদে
সম্ভাব্য শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে
বিবেচনা করছেন
স্থানীয় ভোটার
ও
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।এছাড়া
২০১৭
ও
২০২২
সালের
নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে
প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা
তাজুল ইসলাম রানু-এর
নামও
আলোচনায় রয়েছে।
তবে
স্থানীয় সূত্রে
জানা
যায়,
তিনি
আওয়ামী
লীগের
রাজনীতির সঙ্গে
সম্পৃক্ত ছিলেন।
২০২৪
সালের
গণ-আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে তার বিরুদ্ধে একটি
হত্যা
মামলা
থাকায়
নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিয়ে
অনিশ্চয়তা রয়েছে।একইভাবে ২০১৭
ও
২০২২
সালের
নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা
জাহাঙ্গীর মিয়া চৌধুরী দীর্ঘদিন ধরে
এলাকায়
গণসংযোগ ও
প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। স্থানীয়দের মতে,
তিনি
নিয়মিত
জনগণের
সঙ্গে
যোগাযোগ রাখছেন
এবং
নির্বাচনের প্রস্তুতি অব্যাহত রেখেছেন।২০২২
সালের
নির্বাচনের আরেক
প্রার্থী জসিম উদ্দিন আহমেদ-ও
সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে
আলোচনায় রয়েছেন। তিনিও
বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে এলাকায়
নিজের
অবস্থান শক্ত
করার
চেষ্টা
করছেন।এবারের
নির্বাচনে কয়েকজন
নতুন
মুখও
চেয়ারম্যান পদে
প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে
স্থানীয়ভাবে আলোচনা
রয়েছে। তাদের
মধ্যে
রয়েছেন
ব্রাহ্মণডুরা ইউনিয়ন
বিএনপির সভাপতি
সাইফুল ইসলাম রানা, শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা
বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক খলিলুর রহমান মাসুম এবং
শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা
যুবদলের যুগ্ম
আহ্বায়ক তোফায়েল আহমেদ মনির।স্থানীয়দের দাবি,
তারা
দীর্ঘদিন ধরে
বিভিন্ন সামাজিক, মানবিক
ও
জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমের পাশাপাশি নিয়মিত
গণসংযোগ চালিয়ে
যাচ্ছেন। এ
কারণে
নতুন
প্রার্থী হলেও
ভোটারদের একটি
অংশের
মধ্যে
তাদের
নিয়ে
ইতিবাচক আলোচনা
তৈরি
হয়েছে। এছাড়াও আরও কয়েকজন সম্ভাব্য প্রার্থী মাঠপর্যায়ে সক্রিয়
রয়েছেন
বলে
স্থানীয় সূত্রে
জানা
গেছে।স্থানীয় ভোটারদের ভাষ্য,
সম্ভাব্য প্রার্থীরা এখন
নিয়মিত
বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠান, ধর্মীয়
আয়োজন,
জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম এবং
ব্যক্তিগত যোগাযোগের মাধ্যমে ভোটারদের কাছে
পৌঁছানোর চেষ্টা
করছেন।
ফলে
কে
কতটা
জনপ্রিয়, কার
গ্রহণযোগ্যতা বেশি
এবং
শেষ
পর্যন্ত কারা
নির্বাচনী মাঠে
থাকবেন-এসব বিষয় নিয়ে
ইউনিয়নজুড়ে চলছে
নানা
আলোচনা।রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে,
এখনো
যেহেতু
তফসিল
ঘোষণা
হয়নি,
তাই
নির্বাচনের আগে
রাজনৈতিক সমীকরণ,
দলীয়
অবস্থান, ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা এবং
স্থানীয় পরিস্থিতির ওপর
নির্ভর
করে
সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় পরিবর্তন আসতে
পারে।সংশ্লিষ্টদের মতে,
আসন্ন
ইউনিয়ন
পরিষদ
নির্বাচন দলীয়
প্রতীকে অনুষ্ঠিত হওয়ার
সম্ভাবনা কম।
তবে
বাস্তবতায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের
সমর্থন,
স্থানীয় সাংগঠনিক শক্তি
এবং
ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা
রাখবে।
এ
কারণেই
সম্ভাব্য প্রার্থীরা একদিকে
যেমন
জনসংযোগ বাড়াচ্ছেন, অন্যদিকে দলীয়
সমর্থন
নিশ্চিত করতেও
সক্রিয়
রয়েছেন।নির্বাচন কমিশনের তফসিল
ঘোষণার
পর
ব্রাহ্মণডুরা ইউনিয়নের নির্বাচনী চিত্র
আরও
স্পষ্ট
হবে
বলে
মনে
করছেন
স্থানীয়রা। তবে
তফসিল
ঘোষণার
আগেই
ইউনিয়নজুড়ে নির্বাচনী আলোচনা
ও
সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা
ইতোমধ্যে নতুন
মাত্রা
পেয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ
কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত