প্রিন্ট এর তারিখ : ১৬ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৬ জুলাই ২০২৬
সাংবাদিক সমাজের সাহসী ভূমিকার প্রশংসা করলেন মাহ্দী আমিন
মোঃ হুমায়ুন কবির, , বিশেষ প্রতিনিধি:: ||
প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সাংবাদিক সমাজ অগ্রণায়কের ভূমিকা পালন করেছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন। তিনি বলেন, গণতন্ত্র, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে সাংবাদিকরা সব সময় সাহসিকতা, পেশাদারিত্ব ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছেন।বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ)-এর শফিকুল কবির মিলনায়তনে আয়োজিত দেশীয় মৌসুমি ফল উৎসব ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।মাহ্দী আমিন বলেন, সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে সাংবাদিকদের ভূমিকা জাতি দীর্ঘদিন স্মরণ রাখবে। তিনি বিশেষ করে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে সাংবাদিক সমাজ এবং ডিআরইউর সাহসী ও দায়িত্বশীল ভূমিকার প্রশংসা করেন।তিনি শহীদ আবু সাঈদ, ওয়াসিম আকরামসহ গণঅভ্যুত্থানে আত্মোৎসর্গকারী সকল শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, তাঁদের আত্মত্যাগ বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়। তাঁদের ত্যাগ দেশের মানুষকে গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার নতুন প্রত্যয় যুগিয়েছে।মাহ্দী আমিন বলেন, নতুন বাংলাদেশ গড়তে জাতীয় ঐক্য, আইনের শাসন, সুশাসন, জবাবদিহিতা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। রাজনৈতিক মতপার্থক্যের ঊর্ধ্বে উঠে দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির জন্য সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকারের মূল দর্শন ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। একটি সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর, বৈষম্যহীন ও মানবিক রাষ্ট্র গঠনে সরকার কাজ করছে। একই সঙ্গে স্বাধীন, দায়িত্বশীল ও বস্তুনিষ্ঠ গণমাধ্যমকে শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে পেশাগত দায়িত্ব পালনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)-এর চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. রিয়াজুল ইসলাম বলেন, দেশীয় ফল আমাদের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও সুস্বাস্থ্যের প্রতীক। পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং স্বাস্থ্যসচেতন সমাজ গড়ে তুলতে দেশীয় ফলের উৎপাদন ও ভোগ বাড়ানো জরুরি।সভাপতির বক্তব্যে ডিআরইউ সভাপতি আবু সালেহ আকন স্বাধীনতা, গণতন্ত্র, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও বাকস্বাধীনতার মূল্যবোধ রক্ষায় সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান। তিনি ডিআরইউর জন্য স্থায়ী ভবন নির্মাণে জমি বরাদ্দের বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তির দাবি জানান।ডিআরইউর সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল বলেন, গণমাধ্যমকে রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ বলা হলেও সংবিধানে এর প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি নেই। তিনি সাংবাদিকদের কল্যাণে দীর্ঘমেয়াদি রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ এবং ডিআরইউর জন্য স্থায়ী জমি বরাদ্দের আহ্বান জানান।আলোচনা সভায় রাজউকের সদস্য (উন্নয়ন) ইরাদুল হক, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি কবি হাসান হাফিজ, ডিআরইউ ও ডিইউজের বর্তমান ও সাবেক নেতৃবৃন্দসহ সাংবাদিক সমাজের বিপুলসংখ্যক সদস্য উপস্থিত ছিলেন।অনুষ্ঠান শেষে অংশগ্রহণকারীদের মাঝে ২২ ধরনের দেশীয় মৌসুমি ফল পরিবেশন করা হয়। উৎসবমুখর পরিবেশে আয়োজিত এই অনুষ্ঠান সাংবাদিকদের মধ্যে সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও পেশাগত ঐক্য আরও সুদৃঢ় করতে ভূমিকা রাখবে বলে বক্তারা আশা প্রকাশ করেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ
কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত